সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রামপুরহাট শহরের তিনটি ওয়ার্ডে ডায়ারিয়ার আতঙ্ক ছড়াল। এখনও পর্যন্ত ২০ জনেরও বেশি ডায়ারিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি। পুরসভার বিরুদ্ধে উদাসীনতার অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। যদিও পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন ভকত উদাসীনতার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দিন দশেক ধরে শহরের ১১, ১৩ ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে ডায়ারিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। বমি, পায়খানা ও পেট ব্যথার উপসর্গ রয়েছে রোগীদের মধ্যে। আক্রান্তের সংখ্যা ২০ ছাড়িয়েছে। তাঁদের বেশিরভাগই স্থানীয় একটি নার্সিংহোমে ভর্তি হন। এখনও অনেকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাসিন্দাদের দাবি, পুরসভার সরবরাহ করা জল থেকেই এই রোগ ছড়িয়েছে। যদিও ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সুশান্ত দাস বলেন, বমি, পায়খানা উপসর্গ নিয়ে দিন কয়েক আগে স্ত্রীকে নার্সিংহোম ভর্তি করি। সেখানেই জানতে পারি, শহরের প্রায় ১৭জন একই উপসর্গ নিয়ে এখানে ভর্তি হয়েছিলেন। স্ত্রী সুস্থ হতে ১৬ বোতল স্যালাইন লেগেছে। শুক্রবার ছুটি করিয়ে বাড়ি নিয়ে এসেছি। তবে পুরসভার জল থেকে এই রোড ছড়িয়েছে, এটা বলা যাবে না। কারণ আমরা বাড়ির সাবমার্সিবলের জল খাই।
১১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মিনতি মণ্ডল বলেন, পরিবারের পাঁচ সদস্যর মধ্যে চারজন আক্রান্ত হয়েছেন। পুরসভার জল থেকেই এই রোগ ছড়িয়েছে। এলাকার বাসিন্দারা বলেন, পুরসভার পক্ষ থেকে দু’দিন জলের ট্যাঙ্ক পাঠানো হয়েছিল। এখন আতঙ্কে পুরসভার জল খেতে ভয় লাগছে। জল কিনে খেতে হচ্ছে। কিন্তু, কতদিন কিনে খাব বলুন।
১৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল নেতা বিজয়কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, জল ঘোলা আসছিল। শুনেছি, বয়স্ক দু-তিনজনের বমি পায়খানার উপসর্গ দেখা দিয়েছিল। কিন্তু জল থেকে এই রোগ ছড়ালে একটি পরিবারের সকলেই আক্রান্ত হতেন। সেটা কিন্তু হয়নি। তাছাড়া সরকারি ভাবে আমার কাছে এই সংক্রান্ত কোনও রিপোর্ট আসেনি।
এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছে বিজেপি। দলের শহর সভাপতি অর্পণ নাগ বলেন, দিন কয়েক আগে ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাঠপাড়ার টাইম কলের জলে দুগর্ন্ধ পাওয়া গিয়েছে। জল বাহিত রোগ নিয়ে এখনও অনেকে হাসপাতালে ভর্তি। পুরসভা এবিষয়ে সম্পূর্ণ উদাসীন। এরা মেলা, খেলা, উৎসব নিয়েই ব্যস্ত। দূষিত জলের ব্যাপারে ব্যবস্থা না নিলে আমরা পুরসভা অভিযান করব। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, দিন কয়েক আগে ১৫ নম্বর ওয়ার্ড ঢোকার মুখে জলের পাইপ ফেটে যায়। তাতে কিছুটা নোংরা জল ঢুকেছিল। কিন্তু তড়িঘড়ি মেরামতির পর পাইপ ওয়াশ করে ক্লোরিন দেওয়া হয়।
পুরসভার চেয়ারম্যান বলেন, ফেটে যাওয়া পাইপের অংশ দ্রুত মেরামত করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, কিছু মানুষ আছে যারা পাইপ ফুটো করে জল চুরি করছে। হতে পারে সেই ফুটো দিয়ে নোংরা জল ঢুকে এই রোগ ছড়িয়েছে। আবার সেটা নাও হতে পারে। আমরা খবর পাওয়া মাত্রই এলাকায় মেডিক্যাল টিম, পানীয় জলের টাঙ্ক পাঠিয়ে দিয়েছি। ওআরএস বিলি করা হয়েছে। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।