সংবাদদাতা, রামপুরহাট: নাবালিকা ছাত্রীকে ধর্ষণ করে নৃশংস খুনের ঘটনার প্রতিবাদে আদিবাসী সংগঠনের বিক্ষোভ মিছিল, পথসভার জেরে শুক্রবারও স্তব্ধ হয়ে যায় রামপুরহাট শহর। এদিন দুপুর দেড়টা তির ধনুক হাতে মিছিল করে ভারত জাকাত মাঝি পরগনা মহলের সদস্যরা। রামপুরহাট রেলওয়ে চ্যাম্পিয়ান গ্রাউন্ড থেকে ওই মিছিল শুরু হয়। পাঁচমাথা মোড়ে দীর্ঘক্ষণ পথসভা করা হয়। তারই মাঝে এসডিও এবং এসডিপিও-র কাছে ডেপুটেশন দেন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। এদিন বিকেলে জাতীয় মহিলা কমিশনের প্রতিনিধিরা মৃত ছাত্রীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন।
নাবালিকা আদিবাসী ছাত্রীর নৃশংস খুনের ঘটনায় ধৃত শিক্ষক মনোজ পালের দ্রুত ফাঁসির ব্যবস্থা করা ও জড়িত বাকিদেরও গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়। এই দাবিতে বৃহস্পতিবার রামপুরহাট শহরে অস্ত্র হাতে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করেছিল রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা আদিবাসী সংগঠনগুলি। শুক্রবারও একই দাবিতে পথে নামে ভারত জাকাত মাঝি পরগনা মহল। বিভিন্ন জেলা থেকে বাসে ও ট্রেনে আসেন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। মিছিল শেষে পথসভায় বক্তব্য রাখেন আদিবাসী নেতারা। তাঁদের দাবি, অভিযুক্ত শিক্ষককে দ্রুত ফাঁসি দিতে হবে। ওই শিক্ষককে যে থানা থেকে ছাড়িয়ে এনেছিল তাকেও এক সপ্তাহের মধ্যে গ্রেফতার করতে হবে। না হলে আরও বড় আন্দোলন হবে। এছাড়া তদন্তকারী লেডি এএসআই জুলি সাহাকে চাকরি থেকে বরখাস্তর দাবি জানান তাঁরা। কারণ অভিযোগ পাওয়ামাত্র শিক্ষকের ভাড়া বাড়িতে তল্লাশি চালালে হয়তো ওই ছাত্রীকে মরতে হতো না। যদি ফাঁসি না হয়, তাহলে যেদিন ওই শিক্ষক ছাড়া পাবে সেদিন আদিবাসীরা উচিত শাস্তি দেবে।
এদিন পথসভার মাঝেই দশ সদস্যর একটি প্রতিনিধি দল এসডিও এবং এসডিপিওর অফিসে এসে স্মারকলিপি জমা দেয়। সংগঠনের রাজ্য সভাপতি বিজয়চন্দ্র সরেন বলেন, পুলিস প্রশাসনের কাছে অভিযুক্ত শিক্ষকের দ্রুত ফাঁসির ব্যবস্থা করার দাবি জানালাম। তদন্তকারী লেডি অফিসার জুলি সাহাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে হবে। ওই শিক্ষককে থানা থেকে যে ছাড়িয়ে নিয়ে গিয়েছিল তাকেও গ্রেফতার করতে হবে।
এদিকে বিকেলে মৃত ছাত্রীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্য অর্চনা মজুমদার। তিনি জানান, থানায় অভিযোগ জানানোর পরও পুলিশ কিছু করেনি। প্রায় ১৯ দিন পর ছাত্রীর টুকরো টুকরো দেহ পাওয়া যায়। পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে ধরে তিনদিন পর ছেড়ে দিয়েছিল। পরে যখন ধরা হয় তখন সে খুনের কথা স্বীকার করে। ছাত্রীর দেহের পুরো অংশ এখনও উদ্ধার হয়নি। অথচ পুলিশ কমিশনে জানিয়েছে, পুরো দেহ উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ তৎপর হলে ওই ছাত্রীকে মরতে হতো না। এই খুন আরও কেউ ছিল কি না, অথবা ঘটনার পিছনে অন্য কারও হাত আছে কি না তা জানতে হবে।