Bartaman Logo
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

প্রতিবাদ মিছিলে তাণ্ডব, অভিযুক্ত বিজেপি, আক্রান্ত প্রাক্তন বিধায়ক, দর্শক পুলিশ, ভাঙচুর

মমতা তৃণমূলের প্রতিবাদ মিছিল। আর তার থেকেই রণক্ষেত্র হয়ে উঠল দক্ষিণ কলকাতার মুকুন্দপুর। প্রথমে ডিম ছোড়া হল মিছিলে। তারপর হামলা। বেধড়ক মার।

প্রতিবাদ মিছিলে তাণ্ডব, অভিযুক্ত বিজেপি, আক্রান্ত প্রাক্তন বিধায়ক, দর্শক পুলিশ, ভাঙচুর
  • ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মমতা তৃণমূলের প্রতিবাদ মিছিল। আর তার থেকেই রণক্ষেত্র হয়ে উঠল দক্ষিণ কলকাতার মুকুন্দপুর। প্রথমে ডিম ছোড়া হল মিছিলে। তারপর হামলা। বেধড়ক মার। ভাঙচুর। তাণ্ডবের এখানেই শেষ নয়। থানা চত্বরেই মেরে মুখ ফাটিয়ে দেওয়া হল প্রাক্তন বিধায়ক তথা প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরের। তৃণমূলের অভিযোগ, এই তাণ্ডবের নেপথ্যে বিজেপি। আর বিজেপির পালটা দাবি, অবৈধভাবে বহিরাগতরা জমায়েত করেছিল। এলাকাবাসী প্রতিবাদ করেছে।

Advertisement

ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার বিকালে। পূর্ব যাদবপুর থানায় একটি লিখিত স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি ছিল মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের। তার জন্য মুকন্দ ভবনের সামনের থেকে মিছিলের কর্মসূচি নেওয়া হয়। সম্প্রতি যাদবপুর, মুকুন্দপুর, বাঘাযতীন এলাকায় তৃণমূলের পার্টি অফিস দখল, প্রাক্তন বিধায়ক দেবব্রত মজুমদারের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছিল। তার প্রতিবাদেই এদিন মুকুন্দপুরে কর্মসূচি নিয়েছিল মমতা তৃণমূল। অভিযোগ, মুকুন্দ ভবনের সামনে মমতাপন্থী তৃণমূল কর্মীরা জড়ো হতেই ডিম পড়তে থাকে। মূল টার্গেট ছিলেন মমতা তৃণমূলের সোশ্যাল মিডিয়া ও আইটি সেলের প্রধান উপাসনা চৌধুরী। ডিম উপেক্ষা করেই মিছিল এগিয়ে গেলে হামলা হয় বলে অভিযোগ। তৃণমূলের দাবি, প্রথমে মিছিল আটকানো হয়। শুরু হয় বচসা। এরপরই গুন্ডাবাহিনী হামলা চালায়। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে মারধর করা হয়েছে। উপাসনার অভিযোগ, ‘বিজেপির একদল দুষ্কৃতী ও গুন্ডা আমাদের উপর হামলা চালিয়েছে। মেয়েদের গোপানাঙ্গে হাত দেওয়া হয়েছে। আমাদের রাস্তায় ফেলে মেরেছে। এরপর মুকুন্দপুরে আমার বাড়িতেও চড়াও হয় ওরা। মা-বাবা ও পরিবাররে সদস্যদের হেনস্তা করা হয়েছে। আমার বাড়ি, গাড়ি ভাঙচুর করেছে।’ মমতা তৃণমূলের নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়েছি, সেখানেও বিজেপির ২০০-২৫০ জন থানা ঘিরে আক্রমণ চালায়। হুংকার দিচ্ছিল, রাস্তায় ফেলে মেরে দেব।’ ঘটনার খবর যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। তাঁর নির্দেশে পূর্ব যাদবপুর থানায় ছুটে আসেন প্রাক্তন পুলিশ কর্তা হুমায়ুন কবীর। তাঁর অভিযোগ, ‘থানায় প্রবেশের সময়ই বিজেপি আশ্রিত গুন্ডারা হামলা চালায়। পুলিশের সামনে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। অথচ পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। জঙ্গলের রাজত্ব চলছে।’
সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা গিয়েছে, পূর্ব যাদবপুর থানার মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় শুয়ে রয়েছেন হুমায়ুন কবীর। বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘পুলিশ কমিশনার ও যুগ্ম কমিশনারকে ফোন করা হলেও, তাঁরা কেউ ফোন তোলেননি।’ পুলিশ অবশ্য বিজেপির সুরেই দাবি করেছে, মুকন্দুপুর এলাকায় তৃণমূলের একটি সভা ও মিছিল ছিল। স্থানীয় কিছু লোকজন তাদের বাধা দেয়। হাতাহাতিতে কয়েকজন আহত হয়েছেন। অভিযোগ এলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কারা ছিল ঘটনাস্থলে তা সিসি ক্যামেরা দেখে চিহ্নিত করা হবে। পুলিশের একটি অংশ দাবি করেছে, বিজেপির লোকজন সেখানে হাজির ছিল। আর একটি অংশের দাবি, শিবির বদলানো তৃণমূলের কয়েকজনকেও সেখানে দেখা গিয়েছে। এই ঘটনা নিয়ে যাদবপুর সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি মনোরঞ্জন জোদ্দার বলেন, ‘এলাকায় তৃণমূলের লোক কম ছিল। বহিরাগতরা এসে উত্তেজনা তৈরি করে। স্বাভাবিকভাবে বিজেপি কর্মীরা এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করেন। বচসা হয়। বিজেপি কর্মীদের গায়ে হাত দেওয়া হয়েছে। পুলিশ এসে বহিরাগতদের সরিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। ওখানে অবৈধ জমায়েত হয়েছিল। কোনো অনুমতি ছিল না।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ