নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও বরানগর: যাদবপুর কাণ্ডে আসরে নেমে পড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে তাঁর মন্তব্যের পরে প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে বামেরা। এসএফআই মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে খোলা চিঠি লিখেছে। মুখ্যমন্ত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আমন্ত্রণ জানিয়ে মত বিনিময়ের আবেদন রেখেছে তারা। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরাও তথ্য-প্রমাণ হাতে মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করেছেন। রাজ্যের আরেক মন্ত্রী অর্জুন সিং আবার বিতর্কে ঘি ঢেলেছেন। তিনি বলেন, ‘যাদবপুরের দিমাগি নকশালদের উৎখাত করতে হবে। এরা সন্ত্রাসবাদীদের থেকেও ভয়ংকর। সন্ত্রাসবাদীদের চিহ্নিত করা যায়। কিন্তু এই দিমাগি নকশালরা দেশের ছেলেদের ব্রেনওয়াশ করে দেশের বিরুদ্ধে কাজে লাগায়।’
এসএফআইয়ের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কমিটি তাদের খোলা চিঠিতে বলেছে, মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, যাদবপুরে জাতীয় পতাকা তোলা হয় না। ‘বন্দে মাতরম্’ গাওয়া হয় না। তিনি এখানে জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করবেন। এমত অবস্থায় এসএফআইয়ের বক্তব্য, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীনতা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে। আপনার ও আপনার দলের সঙ্গে আমাদের আদর্শগত লড়াই আছে। থাকবেও। আগামী দিনে সেই লড়াই তীব্রতর হবে। কিন্তু তার জন্য যাদবপুরকে টুকরে টুকরে গ্যাং বলা হবে? রবি ঠাকুরের স্নেহধন্য শিল্পাচার্য নন্দলাল বসুর তৈরি করা যাদবপুরের প্রতীক, তাকে ভাঙবে আপনার ছেলেপিলেরা? আপনিই আসুন একদিন। আপনার সঙ্গে মত বিনিময় করি। সেদিন রাতে যাদবপুরের বিধায়কের উন্মত্ত বাহিনী আমাদের মারতে এসেছিল। মারতে হলে মারুন। দয়া করে, নন্দলাল বসুর মতো মানুষের সৃষ্টিকে আঘাত করবেন না।
এর পাশাপাশি ক্লাসরুম, ল্যাবরেটরিগুলির খারাপ অবস্থাও তুলে ধরা হয়েছে ওই চিঠিতে। এদিকে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নন্দিনী মুখোপাধ্যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গত ১৫ আগস্টের একটি সার্কুলার তুলে ধরেছেন। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের কথা লেখা রয়েছে। ৬৬ তম সমাবর্তনের অনুষ্ঠান সূচিও দেওয়া হয়েছে। যেখানে জাতীয় পাতাকা উত্তোলনের কথা লেখা রয়েছে। আবার এই যাদবপুর ইস্যুতে সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষকে আক্রমণ করেছিলেন এবিভিপি নেতা নিখিল দাস। রবিবার শতরূপ পালটা শুভেন্দু অধিকারীর হলফনামা দেখিয়ে দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধেও শ্লীলতাহানির মামলা রয়েছে।
অন্যদিকে, এক পথবাসীর সঙ্গে রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের আচরণ নিয়ে তোলাপাড় রাজ্য-রাজনীতি। বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশ্ন, এক মা তাঁর শিশুর জন্য দুধ গরম করছিলেন। তাঁর সঙ্গে ওই আচরণ কেন? কবি-সাহিত্যিকরা কবিতার মাধ্যমে তাঁদের প্রতিবাদ করছেন। সিপিএমের মহিলা সংগঠন বিবৃতি দিয়ে বলেছে, যেভাবে একজন মাকে হেনস্তা করলেন তা দেখে আমরা হতবাক। সরকার প্রান্তিক মানুষগুলির সমস্যার সমাধানের কথা না ভেবে ওই মহিলার সঙ্গে রাজ্যের মহিলা মন্ত্রী যে অমানবিক আচরণ করলেন তা অবশ্যই ধিক্কার যোগ্য। এদিকে, রবিবার পার্ক স্ট্রিট থানায় গিয়ে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ পুলিশকে অনুরোধ করেন, আমরাও চাই ফুটপাত সাফ হোক। তবে এদের মেরে তুলবেন না। আপনারা খুঁজুন, সরকারকে বলুন, কোনো হোম বা আশ্রয়স্থলে পাঠান। আমরাও দেখছি। একটু সময় না দিয়ে গরিবতম মা, মেয়ে, নাতনিকে রাষ্ট্রশক্তির উচ্ছেদশাসনে বলি দেওয়া অমানবিক হবে। পুলিশ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।