নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: উদ্দেশ্য তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট বন্ধ করা। কিছুদিন আগেই সরকারি ঠিকাদারদের নিয়ে বৈঠক করেন রাজারহাট-গোপালপুরের বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তেওয়ারি। এবার একই ইস্যুতে এই বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সমস্ত ডেভেলপার এবং প্রোমোটারকে নিয়ে বৈঠক করলেন তরুণজ্যোতি। বিধায়কের সঙ্গে উপস্থিত ছিল তাঁর কেন্দ্রের অন্তর্গত চারটি থানার পুলিশও। কেউ যদি কোনোরকমে তোলাবাজির চেষ্টা করে, দ্রুত থানায় অভিযোগ জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিধায়ক। ওইসঙ্গে প্রত্যেকের প্রতি তাঁর আরজি, যাবতীয় নির্মাণ যেন বৈধ বিল্ডিং প্ল্যান মেনেই করা হয়।
তৃণমূল জমানায় কাটমানি, তোলাবাজি, সিন্ডিকেটের বিস্তর অভিযোগ ছিল বিরোধীদের। পালাবদলের পর রাজারহাট-গোপালপুরের বিধায়ক স্থানীয় সরকারি ঠিকাদারদের নিয়ে বৈঠক করেন। তাঁদের বলেন, কেউ তোলাবাজির চেষ্টা করলে বা কাটমানি চাইলে সরাসরি পুলিশকে জানাবেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি টাকা নয়ছয় রুখে উন্নতমানের কাজ করারও নির্দেশ দেন তিনি।
ঠিকাদারদের পর, শনিবার সন্ধ্যায় বাগুইআটির রঘুনাথপুরে বিধায়ক এলাকার ডেভেলপার ও প্রোমোটাদের নিয়ে বৈঠক করেন তরুণজ্যোতি। সেখানে উপস্থিত হন অনেকেই। পুলিশ ও মিডিয়ার সামনে বিধায়ক একাধিক নির্দেশ দেন। প্রথমত, ঘষা প্ল্যান বা ডি-প্ল্যানে কোনো কাজ হবে না। দ্বিতীয়ত, অনুমোদিত প্ল্যানের বাইরে এক ইঞ্চিও নির্মাণ নয়। তৃতীয়ত, কাটমানি এবং সিন্ডিকেটের রাজনীতি সম্পূর্ণ বন্ধ। চতুর্থত, তোলাবাজির চেষ্টা হলে সরাসরি থানায় অভিযোগ করুন। পঞ্চমত, প্রতিটি প্রকল্পে ড্রেনেজ ও পানীয় জলের ব্যবস্থা বাধ্যতামূলকভাবে নিশ্চিত করতে হবে।
বিধায়কের দাবি, এতদিন এই ধরনের বৈঠক হত বন্ধ ঘরে, নানা হিসাব-নিকাশের মধ্যে। আজ সেই সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে পুলিশ ও মিডিয়ার উপস্থিতিতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ পরিবেশে আলোচনা হল। আমরা বিশ্বাস করি, স্বচ্ছতা লুকিয়ে নয়, সবার সামনে প্রতিষ্ঠা করতে হয়। রাজারহাট-গোপালপুরে উন্নয়ন হবে এবং সবটা আইন মেনেই হবে।