সংবাদদাতা, খড়্গপুর: আবারও বেলাগাম দিলীপ! গুন্ডাদমনে পুলিশকে সরাসরি গুলি চালানোর পরামর্শ দিলেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। শহরকে শান্ত রাখতে পুলিশ যদি বাড়াবাড়ি করে, তাতে কোনো ক্ষতি নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন বিজেপির এই ‘দাবাং’ নেতা। কলকাতার অভিজাত এলাকা পার্কস্ট্রিটের সৌন্দর্য বজায় রাখতে মলিন বসনধারীদের হটিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলিং হচ্ছেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। আর তাঁরই সতীর্থ দিলীপবাবু শহর শান্ত রাখতে পুলিশকে গুলি চালানোর পরামর্শ দিয়ে ইন্ধন যোগালেন নতুন বিতর্কে।
রবিবার সকালে খড়্গপুর শহরের ২ নং ওয়ার্ডের ইন্দা এলাকায় দলের একটি কার্যালয় উদ্বোধনে এসেছিলেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, ‘খড়্গপুরে কোনো গুন্ডা, মাফিয়া পা রাখতে পারবে না। পুলিশ বলেছে, পুজোর আগে খড়্গপুরকে শান্ত করবে। আমি তাঁদের বলেছি, যা করার করতে হয় করুন। হাত খোলা আছে। বের করবেন আর ট্রিগার টিপবেন। দরকার হলে বারুইপুরের মতো এনকাউন্টার হবে।’ এরপরই দিলীপবাবুর সংযোজন, ‘আপনারা ভিডিয়ো দেখেছেন। পুলিশ পাড়ায় পাড়ায় তাড়া করে ধরছে। কাউকে ছাড়া হবে না। অনেকে বলছে পুলিশ বাড়াবাড়ি করছে। আমি তাদের বলেছি, মাফিয়া-গুন্ডারা বাড়াবাড়ি করলে মুশকিল আছে। পুলিশ বাড়াবাড়ি করলে শহর শান্ত থাকবে।’
মন্ত্রীর এই ‘এনকাউন্টার-হুঁশিয়ারি’ ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে রেলশহর খড়্গপুরে। বিরোধীরা কড়া সমালোচনা করেছেন। তাঁরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, গত ২৬ মার্চ এই ইন্দাতেই ভোট প্রচারে এসে উত্তরপ্রদেশ স্টাইলে এনকাউন্টারের হুঙ্কার দিয়েছিলেন দিলীপবাবু। বলেছিলেন, ‘পশ্চিমবাংলায় পরিবর্তন হবে। যে পুলিশ আজকে মাফিয়া-গুন্ডাদের সঙ্গে বসে চা খাচ্ছে, চোর নেতাদের চামচাগিরি করছে, সেই পুলিশকেই দেখবেন অন্যরূপে। উত্তরপ্রদেশের স্টাইলে এনকাউন্টার হবে এখানে।’ এদিন দিলীপবাবুর হুঁশিয়ারি শুনে শহরের বাসিন্দা তপন দাশগুপ্ত, অনিল দাসরা বলছিলেন, ‘খড়্গপুর শহরে গুন্ডা-মাফিয়ারাজ আগের থেকে অনেকটাই কমেছে। তবে, চুরি-ছিনতাই আর তোলাবাজি এতটুকুও কমেনি। তারউপর দূষণ, জল-যন্ত্রণার মতো শহরবাসীর নিত্যদিনের সমস্যাগুলি নিয়ে বেশি ভাবা দরকার।’
দিলীপবাবু অবশ্য এদিন গুণ্ডা দমন নিয়ে বেশি সরব ছিলেন। তিনি বলেন, ‘খড়্গপুরের মানুষ শান্তি পেতে চান বলেই বিজেপিকে ভোটে দিয়ে জিতিয়েছেন। আগে খড়্গপুরে যে গুন্ডারাজ চলত, তাতে পুলিশ আর তৃণমূলের নেতারাও যুক্ত ছিল। ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে ভয় পেতেন। অনেক পরিবার অনাথ হয়েছে। এখন সেটা চলবে না!’ তাঁর কথায়, ‘আগে পুলিশ জেনেও করেনি। এখন শুরু হয়েছে। এই ক’দিনে ২০০ জনকে ভেতরে ঢোকানো হয়েছে। নেশার টাকা জোগাড় করতে পাতাখোররা চুরি করত। এখন তাদের বাড়বাড়ন্ত অনেকটাই কমেছে। পুলিশ বলে দিয়েছে, জেলের ডাল-ভাত খাওয়ার আগে গুলি খেতে হবে!’ এনিয়ে জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, ‘মন্ত্রী ঠিক কি বলেছেন, জানি না। তবে, খড়্গপুর শহরকে নেশামুক্ত ও দুষ্কৃতীমুক্ত করতে আমাদের অভিযান চলছে।’
দিলীপবাবুর মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে কংগ্রেসের জেলা সভাপতি দেবাশিস ঘোষ বলেন, ‘উত্তরপ্রদেশের এনকাউন্টার-রাজনীতি বাংলায় চলবে না। পুলিশ আর প্রশাসন নিজেদের কাজ সঠিকভাবে করলেই মানুষ শান্তিতে থাকতে পারবেন।’ সিপিএমের জেলা সম্পাদক বিজয় পাল বলেন, ‘শহরবাসী দুর্বিসহ অবস্থার মধ্যে রয়েছেন। সেসব থেকে দৃষ্টি ঘোরাতে মন্ত্রী এসব বলছেন। আসলে, বিজেপির কাছে এনকাউন্টার, বুলডোজার ছাড়া রয়েছেটা কি?’