নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: সেই রাজ আমলে তৈরি হয়েছিল লক্ষ্মীনারায়ণ জিউ মন্দির। তারপর কেটে গিয়েছে বহু বছর। কালের নিয়মে রাজাদের সেই সুবর্ণযুগ হারিয়ে গিয়েছে। কিন্তু মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিল লক্ষ্মীনারায়ণ জিউ মন্দির। সামনে বড় পিলার দেওয়া নাটমন্দিরে কান পাতলে শোনা যেত রাজ আমলের বহু কাহিনী। সেই নাটমন্দিরের বড় অংশ মঙ্গলবার গভীর রাতে আচমকা ভেঙে পড়ে। ঘুম ভাঙার পর শহরের বাসিন্দারা ঐতিহাসিক নিদর্শন ভেঙে পড়তে দেখেন। তা দেখে আক্ষেপ করা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। অনেকেই বলছেন, এমনটা হওয়ারই ছিল। বহু বছর মন্দির সংস্কার করা হয়নি। ফাটল ধরে গিয়েছিল। যেকোনও সময় ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কাও ছিল। শেষ পর্যন্ত সেটাই হয়েছে। এবছর অনেক বেশি বৃষ্টি হয়েছে। নাট মন্দিরের ছাদে জল জমেছিল। ফলে ধীরে ধীরে ছাদ দুর্বল হতে থাকে। বুধবার সকালে নাটমন্দিরের বড় অংশ ভেঙে পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এসে ধ্বংসস্তূপ চাক্ষুষ করেন।
বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাস বলেন, রাজারা বর্ধমান শহরে অনেক মন্দির এবং স্থাপত্য তৈরি করেছিলেন। সেগুলি আমরা ইচ্ছে করলেও সংস্কার করতে পারি না। রাজ পরিবার পুরসভা বা অন্য কোনও দপ্তরকে দায়িত্ব দিলে নিশ্চয় সংস্কার করা হতো।
স্থানীয়রা বলছেন, লক্ষ্মীনারায়ণ জিউ মন্দির ঘিরে শহরের বাসিন্দাদের অন্যরকম আবেগ রয়েছে। এখানেই দুর্গাপুজো হয়। বোধনের দিন থেকে অনেকেই মন্দিরে পুজো দেখতে আসেন। সেইসময় নাটমন্দির ভেঙে পড়লে কী অবস্থা হতো, তা ভেবে অনেকেই শিউরে উঠছেন। মন্দিরে প্রতিদিনই পুজো হয়। দিনের কোনও সময় ভেঙে পড়লে অনেকে জখম হতেন। তবে অনেকে বলছেন, নাটমন্দিরের যে অংশ ভেঙে পড়েছে, সেটা ততটা দুর্বল ছিল না। মোটা পিলার ছিল। তারপরও সেটা কীভাবে ভেঙে গেল, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। মন্দিরের দুর্বল অংশ ভেঙে পড়লে ততটা অবাক হওয়ার বিষয় ছিল না।
পুরোহিত উত্তম মিশ্র বলেন, মন্দির সংস্কারের দরকার ছিল। বিভিন্ন জায়গায় চাঙড় ভেঙে পড়ছে। রক্ষণাবেক্ষণ না করলে মন্দিরের অন্য অংশ ভেঙে পড়তে পারে।
শহরের বাসিন্দারা বলছেন, ঐতিহ্য ধরে রাখতে মন্দির এবং পুরনো স্থাপত্যগুলি সংস্কার করা দরকার। তা নাহলে রাজ আমলের মতো তাঁদের রাজত্বের নিদর্শনও এভাবে হারিয়ে যাবে।-নিজস্ব চিত্র