Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভগ্নদশায় রাজবাঁধ নিম্ন বুনিয়াদি বিদ্যালয় ভবন, প্রাণ হাতে করে ক্লাস করছে খুদেরা

কোথাও স্কুলের দেওয়ালে ফাটল ধরেছে। কোথাও ছাদের চাঙর ভেঙে পড়েছে। বৃষ্টি হলে সমস্যায় পড়ছে পড়ুয়ারা।

ভগ্নদশায় রাজবাঁধ নিম্ন বুনিয়াদি বিদ্যালয় ভবন, প্রাণ হাতে করে ক্লাস করছে খুদেরা
  • ২৮ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, মানকর: কোথাও স্কুলের দেওয়ালে ফাটল ধরেছে। কোথাও ছাদের চাঙর ভেঙে পড়েছে। বৃষ্টি হলে সমস্যায় পড়ছে পড়ুয়ারা। কাঁকসা ব্লকের রাজবাঁধ নিম্ন বুনিয়াদি বিদ্যালয়ের এমনই অবস্থা। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এনিয়ে প্রশাসনের বিভিন্নস্তরে জানিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি। যদিও প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। 

Advertisement

নিম্ন বুনিয়াদি এই বিদ্যালয়ে প্রি-প্রাইমারি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয়। বর্তমানে পড়ুয়া সংখ্যা ৪৩। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, স্কুলের পাশে অবস্থিত একটি হোমের ১৪জন পড়ুয়া এখানে পড়ে। বাকিরা রাজবাঁধ চটি থেকে পড়তে আসে। স্কুলে রয়েছেন দু’জন শিক্ষিকা ও একজন শিক্ষক। কিন্তু, বিদ্যালয় ভবনের বেহাল অবস্থার জন্য পঠনপাঠন ব্যাহত হচ্ছে। একাধিক কক্ষ থাকলেও তারমধ্যে অধিকাংশই ব্যবহারের অযোগ্য। ফলে এখন মাত্র দু’টি কক্ষেই ছ’টি শ্রেণির ক্লাস হচ্ছে। শুধু তাই নয়, তারই মধ্যে একটি অংশে রয়েছে অফিস। এই দু’টি কক্ষেরও হাল খারাপ। দেওয়ালে ফাটল ধরেছে।
শিক্ষিকা প্রতিমা পাল বলেন, আতঙ্কের মধ্যে ক্লাস করাচ্ছি। দেওয়ালে ফাটল ধরেছে। তার পাশেই বোর্ডে লিখতে গিয়ে ভয় করে। পাছে দেওয়াল ভেঙে পড়ে। এগুলি নতুনভাবে রূপ পেলে সকলের সুবিধা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, স্কুলের দেওয়াল ভেঙে পড়ে যাওয়ার পাশাপাশি রয়েছে সাপের আতঙ্ক। অনেক সময় দেওয়ালের ফাটল থেকে সাপ বেরিয়ে আসে। বিদ্যালয়ের এক অভিভাবক বলেন, ক্লাস চলাকালীন বেশ কয়েকবার সাপ বের হয়েছে। তাছাড়া, কয়েকদিন স্কুল বন্ধ থাকার পরে খুলতে গিয়ে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষে সাপ রয়েছে। দেওয়ালের অবস্থাও খারাপ। শিশুকে স্কুলে পাঠিয়ে আতঙ্কে থাকি। বিদ্যালয়ের মিড ডে মিলের রাঁধুনি ঝুমা বাউরি বলেন, মিড ডে মিলের কক্ষ নতুন রূপ পেয়েছে। শ্রেণিকক্ষগুলিও নতুন রূপ পেলে পড়ুয়াদের সুবিধা হবে। প্রধান শিক্ষক প্রণব সাহা বলেন, পড়ুয়ারা নিয়মিত আসে। শিক্ষকরাও যত্ন নিয়ে পড়ান। মিড ডে মিলও যত্ন নিয়ে করা হয়। শুধু একটাই সমস্যা, বিদ্যালয়ের বেহাল ভবন। অব্যবহার্য কক্ষগুলি যে কোনও সময় ধসে যেতে পারে। দু’টি রুমেই এতগুলি ক্লাস ও অফিস চলছে। তাতেও ফাটল রয়েছে। সাপ চলে আসে। তবে সবসময় বিদ্যালয় চত্বর পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করা হয়। তিনি আরও বলেন, রাজ্যের মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার, বিডিও, পঞ্চায়েত সহ একাধিক দপ্তরে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। আশ্বাস পেয়েছি কাজ হবে। কিন্তু, যতক্ষণ না হচ্ছে, আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। যে কোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।
এসআই সুদীপ সরকার বলেন, আমরা ওই স্কুল পরিদর্শন করেছি। পরিস্থিতি খারাপ আছে, দেখেছি। ইতিমধ্যেই ইঞ্জিনিয়ার স্কুলে গিয়ে দেখে এসেছেন। ব্যয় তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত কাজ শুরু হবে।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ