নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ভালো পাত্রের সন্ধান আছে। রাজস্থানে মার্বেল পাথরের ব্যবসা করেন। আমার এক পরিচিতের মাধ্যমে ওঁর বাড়ির লোকজন পাত্রী খোঁজার কথা বলেছেন। তোমার মেয়ের সঙ্গে বিয়ে হলে ভালোই হবে। এমনই টোপ দিয়ে ঘটক সেজে প্রত্যন্ত এলাকার দুঃস্থ পরিবারগুলির কাছে রাজস্থানের নারী পাচার গ্যাংয়ের এজেন্টরা পৌঁছে যাচ্ছে। মেয়ের ভালো ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অনেকেই তাদের পাতা ফাঁদে পা দিচ্ছে। তারপরই সর্বনাশ নেমে আসছে। সিবিআই নারী পাচারের ঘটনায় তদন্তে নেমেছে। বিক্রি হয়ে যাওয়া রায়নার এক কিশোরীকে তারা রাজস্থান থেকে উদ্ধার করেছে। ওই ঘটনায় তিন মহিলা সহ সাতজনকে তারা গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের সোমবার বর্ধমান আদালতে তোলা হয়।
তদন্তকারীদের দাবি, পাচারচক্রের শিকড় অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। চক্রের মাস্টারমাইন্ডরা বিভিন্ন জেলায় এজেন্ট ছড়িয়ে কিশোরীদের পাচার করছে। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের লোকজন হাল ছেড়ে দেন। তাঁরা অভিযোগও করেন না। মেয়ে রাজস্থানে ভালো রয়েছে, এমনটা ভেবে অনেকেই নিশ্চিন্তে থাকেন। কয়েক মাস আগে বিক্রি হয়ে যাওয়া গলসির এক নাবালিকাকেও পুলিস উদ্ধার করেছে। সে জানায়, রাজস্থানের শেঠরা বাংলার মেয়েদের পছন্দ করে। তবে বেশিদিন কোনও মেয়েকে তাদের ভালো লাগে না। কয়েক বছর পর আবার তাদের বিক্রি করে দেওয়া হয়। সেখানে এরাজ্যের কয়েকজন কিশোরীর সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল। তাদের বেশিরভাগই গরিব বাড়ির মেয়ে। অনেকেরই আর ফেরার পথ নেই। দীর্ঘদিন সেখানে থাকতে থাকতে সিস্টেমে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে। অত্যাচার সহ্য করাটাকে তারা নিজেদের ভাগ্যের পরিহাস বলে মনে করছে। গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, রায়নার নাবালিকাকে উদ্ধার করতে অনেক বেগ পেতে হয়েছিল। তাকে এলাকারই দু’জন পাচারকারীদের হাতে তুলে দিয়েছিল। তাদের গ্রেপ্তার করার পরও পুলিস তেমন তথ্য পায়নি। পরে সিবিআই তদন্ত শুরু করে বড় চক্রের হদিশ পায়। আসানসোলের এক দম্পতি এজেন্টের কাজ করত। তাদেরও সিবিআই পাকড়াও করেছে। এখনও চক্রের অনেকেই অধরা রয়েছে। তাদের খোঁজেও তল্লাশি শুরু করেছে। মধ্যবয়স্ক দম্পতিদের রাজস্থান গ্যাং ঘটকের কাজ করায়। তারা এলাকায় ঘুরে দুঃস্থ পরিবারগুলির কাছে পৌঁছে যায়। বিশেষত, ড্রপআউট হওয়া কিশোরীদের তারা টার্গেট করে। ঘটকের ভূমিকায় থাকা পাচারকারীরা নীরবে অপারেশন সারে। তারা মেয়ের বাড়ির লোকজনদেরও বিষয়টি কাউকে না জানানোর পরামর্শ দেয়। পাত্র সাজিয়ে গ্যাংয়ের অন্য কাউকে তারা হাজির করে।
প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, কিশোরীদের রক্ষা করতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ড্রপআউট হওয়া ছাত্রীদের নতুন করে স্কুলে ফেরানোর তোড়জোড় শুরু করেছে। কোনও ছাত্রী আচমকা স্কুলে আসা বন্ধ করলে শিক্ষক-শিক্ষিকারা তাদের বাড়ি পৌঁছে যাচ্ছেন। তারপরও রাজস্থান গ্যাং গোপনে অপারেশন চালিয়ে যাচ্ছে।