Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বৃষ্টির জমা জল ঢেউ খেলছে রানাঘাট ন’পাড়ার সুস্বাস্থ্যকেন্দ্রে, ক্ষোভ বাড়ছে

রানাঘাট-১ ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের চিকিৎসা পরিষেবার ভরসা ভবসুন্দরী প্রাথমিক সুস্বাস্থ্যকেন্দ্র।

বৃষ্টির জমা জল ঢেউ খেলছে রানাঘাট ন’পাড়ার সুস্বাস্থ্যকেন্দ্রে, ক্ষোভ বাড়ছে
  • ২৫ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: রানাঘাট-১ ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের চিকিৎসা পরিষেবার ভরসা ভবসুন্দরী প্রাথমিক সুস্বাস্থ্যকেন্দ্র। দু’টিরও বেশি পঞ্চায়েত এলাকার মানুষ এর উপর নির্ভরশীল। অথচ টানা বৃষ্টির কারণে সেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ইতিউতি জল থইথই করছে। ফলে অনেকেই তা এড়িয়ে পরিষেবার জন্য রানাঘাট শহরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। জল নিকাশির স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এহেন বেহাল পরিস্থিতির জেরে সাধারণ মানুষ ক্ষোভে ফুঁসছে।

Advertisement

রানাঘাট-১ ব্লকের ন’পাড়া মুসুণ্ডা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ভবসুন্দরী প্রাথমিক সুস্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। একসময় সেখানে সাধারণ মানুষজন ইন্ডোর পরিষেবা পেতেন। কিন্তু, কোনও এক রহস্যজনক কারণে তা আগেই বন্ধ হয়ে যায়। এখন সেটি কেবল সুস্বাস্থ্যকেন্দ্র। ন’পাড়া মুসুণ্ডা পঞ্চায়েত সহ পাশের তারাপুর এবং হবিবপুর পঞ্চায়েতের বাসিন্দাদের একাংশ তার উপরেই নির্ভরশীল। কিন্তু, বৃষ্টির জমা জলের কারণে গত কয়েকদিন ধরে সেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কার্যত ঢেউ খেলছে। 
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দশকের পর দশক এই সমস্যা চলছে। একাধিকবার এলাকার রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু, কেউই নিকাশি সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করেনি। চলতি বছরেও একই সমস্যায় ভুগতে হচ্ছে। টানা বৃষ্টিতে সেখানে জল থইথই অবস্থা। প্রয়োজন থাকলেও সাধারণ মানুষ সেখানে চিকিৎসা করাতে আসতে পারছে না। পরিবর্তে তাদের বেশ কয়েক কিলোমিটার বাড়তি পথ ঘুরে রানাঘাট শহরে আসতে হচ্ছে। কেউ কেউ হবিবপুরে যাদব দত্ত গ্রামীণ হাসপাতালে যাচ্ছেন। 
কিন্তু, জমা জল বের করতে প্রশাসন কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না? স্থানীয় বাসিন্দাদের তরফে সেই প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয় বাসিন্দা নবকুমার ঘোষ বলেন, এটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। হাসপাতাল তিনমাস জলমগ্ন থাকে। আষাঢ় থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত অবস্থার কোনও পরিবর্তন হয় না। বদলানোর চেষ্টাও করা হয়নি। আর তার খেসারত আমাদের সাধারণ মানুষকে দিতে হচ্ছে।
আরএক বাসিন্দা কৃষ্ণা ঘোষ বলেন, দিনের পর দিন জল জমে থাকে। পচা গন্ধে আশপাশে টেকা যায় না। চিকিৎসা করাতে যাওয়া তো পরের কথা, পচা গন্ধের জেরে আমরা অস্থির হয়ে যাই। কার কাছে অভিযোগ করব? সাধারণ মানুষের কথা শোনার জন্য কেউ আছে নাকি? ভোটের সময় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি যান। আর সমস্যা সমাধানের সময় তাঁদের খোঁজই পাওয়া যায় না। এটাই বাস্তব।
রানাঘাট-১ ব্লক প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, এলাকায় নিকাশি নিয়ে কিছুটা সমস্যা রয়েছে। তবে এবছর প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়েছে। বের করার পরপরই ফের বৃষ্টির কারণে জল জমে যাচ্ছে। আমরা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছি। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা চলছে। আশা করছি, এর দ্রুত সমাধান হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ