সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: রবিবার সন্ধ্যায় সামশেরগঞ্জে ১১২ এ জাতীয় সড়কে পুটিমারি পল্টন ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ধস নামে। বেশ কয়েক মিটার এলাকাজুড়ে ধস নামায় বাংলা ও ঝাড়খণ্ডের মধ্যে যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জাতীয় সড়কের ধসে যাওয়া অংশ এড়িয়ে অতি সাবধানে যানবাহন চলাচল করছে। প্রায়শই ছোটবড় দুর্ঘটনাও ঘটছে। কয়েকদিনের লাগাতার বৃষ্টির ফলেই জাতীয় সড়কে ধস নামে বলে মনে করছে প্রশাসন। রবিবার সন্ধ্যায় ব্রিজ সংলগ্ন রাস্তায় ধস নামার বিষয়টি নজরে আসে এলাকাবাসীর। স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের দাবি তুলেছেন।
সামশেরগঞ্জের বিডিও সুজিতচন্দ্র লোধ বলেন, আপাতত রাস্তার ধসে যাওয়া অংশ ব্যারিকেড করে দেওয়া হয়েছে। যানবাহন সাবধানে চালাতে বলা হয়েছে। এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের জানানোও হয়েছে।
জানা গিয়েছে, চলতি বর্ষায় বৃষ্টির জল রাস্তার নরম অংশ দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেছে। তারপর জলের তোড়ে জাতীয় সড়কের একাংশজুড়ে ধস নামে। সামশেরগঞ্জের ডাকবাংলো চৌমাথা মোড়ের দিকে পল্টন ব্রিজে ওঠার মুখেই ১০০ মিটারের বেশি এলাকা ধসে যায়। রাস্তার বেশ কিছুটা অংশ কয়েক ফুট গর্ত হয়ে বসেও গিয়েছে। রাস্তার আশপাশের আরও বেশ কয়েক মিটার এলাকাজুড়ে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। ডাকবাংলো থেকে পাকুড় যাওয়ার একমাত্র এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে ধসের ফলে যান চলাচলে সমস্যা দেখা দিয়েছে। পুলিস ভারী ও পণ্যবাহী যানবাহনগুলোকে এক এক করে পার করার অনুমতি দিয়েছে। সমস্যায় পড়েছেন যানবাহনের চালকরা। ধুলিয়ান ডাকবাংলো ৩৪ নং জাতীয় সড়ক থেকে ঝাড়খণ্ডের দিকে চলে গিয়েছে জাতীয় সড়ক। এই পথে ঝাড়খণ্ড থেকে বহু ভারী যানবাহন চলাচল করে।
ট্রাক ও লরিতে করে বোল্ডার, পাথর ও বালি বাংলায় ঢোকে। ওই পথে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলে। শেখপাড়ার বাসিন্দা মাহবুব শেখ বলেন, এই পথেই প্রতিদিন পাকুড়ে কাজে যেতে হয়। প্রতি বর্ষায় রাস্তাটি ধসে পড়ে। সংস্কার করলেও ভারী যানবাহন চলাচলের ফলে আবার ধসে যায়।
ভাসাই পাইকর পঞ্চায়েতের প্রধান আনিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। জল নামার নিকাশি নালা না থাকায় প্রতিবছর এই বিপত্তি ঘটে।
সামশেরগঞ্জে ধুলিয়ান-পাকুড় জাতীয় সড়কে ধস। -নিজস্ব চিত্র