Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

টানা বৃষ্টিতে জেলেদের মুখে হাসি ফুটেছে, মিলছে কাজলি, ট্যাংরা, মৌরলা

হতাশ করেনি বর্ষা। দু’ হাত ভরে উজার করে দিয়েছে তার সম্পদ। মৎস্যজীবীদের জাল কাজলি, পিয়ালি, তিনকাঁটা, সোনাখড়ি, ট্যাংরা, খয়রা জাতীয় ছোট মাছে ভরে উঠেছে।

টানা বৃষ্টিতে জেলেদের মুখে হাসি ফুটেছে, মিলছে কাজলি, ট্যাংরা, মৌরলা
  • ১৫ জুলাই, ২০২৫ ১৭:০৭
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বহরমপুর: হতাশ করেনি বর্ষা। দু’ হাত ভরে উজার করে দিয়েছে তার সম্পদ। মৎস্যজীবীদের জাল কাজলি, পিয়ালি, তিনকাঁটা, সোনাখড়ি, ট্যাংরা, খয়রা জাতীয় ছোট মাছে ভরে উঠেছে। বাজারে ছোট মাছের চাহিদা ও দাম ভালো থাকায় জেলেদের মুখে হাসি। তাঁদের দাবি, নদীনালা দীর্ঘদিন শুকিয়ে ছিল। বর্ষার জলে সেগুলি ভরে ওঠায় এখন প্রচুর ছোট মাছ পাওয়া যাচ্ছে। ছোট মাছের চাহিদাও ভালো। নদীর পাড়ে জাল নামাতেই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি আমন চাষের জমিতেও প্রচুর কাঠ মাছ মিলছে। 

Advertisement

দীর্ঘদিন ধরে মৎস্যজীবীরা শুকনো মুখে বসেছিলেন। সংসার চালাতে না পেরে অনেকেই পেশা থেকে সরে যাচ্ছিলেন। নিম্নচাপের বৃষ্টি তাঁদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। তাঁরাই ফের জাল হাতে মাছ শিকারে নেমে পড়েছেন। দু’ সপ্তাহ ধরে জেলায় মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিতে পুকুর, নদীনালা, বিল টইটম্বুর হয়ে উঠেছে। ছোট ফুটোর জাল নিয়েই মাছ শিকারে নেমেছেন জেলেরা। নদীর ঘোলা জলই এখন মাছ শিকারিদের ঠাঁই হয়ে উঠেছে। ভোরের আলো ফোটার আগেই জাল হাতে বেরিয়ে পড়ছেন। দুপুরের খাওয়া নদীপাড়েই। ছোট ডিঙি বা নৌকা নিয়েও অনেকে মাছ ধরছেন। হরিদাসমাটি এলাকার মৎস্যজীবী হারাধন হালদার বলেন, মাছ ধরেই আমাদের জীবন জীবিকা চলে। খরার মরশুমে জালে মাছ না ওঠায় চরম দারিদ্রের মধ্যে দিন কাটাতে হয়েছে। বর্ষাকালটাই আমাদের কাছে লক্ষ্মী মাস। জেলায় ভাগীরথী ছাড়া বেশ কয়েকটি বড় নদী ও বিল রয়েছে। এরমধ্যে ভৈরব, ময়ূরাক্ষী, কুয়ে, বাবলা, জলঙ্গি, কানা ময়ূরাক্ষী, দ্বারকা, বিষ্ণুপুর বিল, ভাণ্ডারদহ বিল উল্লেখযোগ্য। নদী ও বিলের দু’ পাশে প্রচুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি গড়ে উঠেছে। মৎস্যজীবীদের দাবি, এই জলাশয়গুলি আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছে। তবে বেশ কয়েকটি নদীতে বর্ষা ছাড়া জলের প্রবাহ থাকে না। বিকাশ কৈবর্ত্য বলেন, এখন নদীনালা ছোট মাছে ভরে গিয়েছে। জাল ফেললেই উঠে আসছে বিভিন্ন সাইজের ট্যাঙরা, কাজলি, পিয়ালি, মৌরলা জাতীয় মাছ। বিকাশবাবুর দাবি, নদীর পাড়ের মাছ কেনার জন্য লোক হত্যে দিয়ে পড়ে রয়েছে। বাজারেও যেতে হচ্ছে না।
বহরমপুরের স্বর্ণময়ী, নতুনবাজার, গোরাবাজার, কোর্টবাজারে প্রচুর ছোট মাছের আমদানি হচ্ছে। সাইজ অনুপাতে ট্যাংরা বিক্রি হচ্ছে ৬০০-৮০০ টাকা কেজি দরে। কাজলি, পিয়ালি, তিনকাঁটা ৮০০-১০০০ টাকা কেজি দরে বিকোচ্ছে। স্বর্ণময়ী বাজারের মাছ বিক্রেতা রিনা ভাস্কর বলেন, আমি ছোট মাছই বিক্রি করি। এখন ছোট মাছের আমদানি যেমন বেড়েছে, তেমনি পাল্লা দিয়ে চাহিদাও বেড়েছে। সমিত মণ্ডল বলেন, আটশো টাকা কেজি দরে বেশ বড় সাইজের ট্যাংরা কিনলাম। বর্ষায় নদীবিলের মাছই বেশি কিনব।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ