Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বৃষ্টিতে প্রায় ২৭০০ হেক্টর ধানজমির ক্ষতি, বিপাকে ২০ হাজার পরিবার

দুর্গাপুজোর আর মাত্র এক মাস বাকি। পুজোর কেনাকাটা, আয়োজনের ব্যস্ততা তুঙ্গে জেলাজুড়ে।

বৃষ্টিতে প্রায় ২৭০০ হেক্টর ধানজমির ক্ষতি, বিপাকে ২০ হাজার পরিবার
  • ২৫ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: দুর্গাপুজোর আর মাত্র এক মাস বাকি। পুজোর কেনাকাটা, আয়োজনের ব্যস্ততা তুঙ্গে জেলাজুড়ে। কিন্তু, গ্রামীণ এলাকায় চাষের উপরই পুজোর বাজার অনেকটাই নির্ভরশীল। ফলন ভালো হলে চাষিদের পরিবারে পুজো নিয়ে উন্মাদনা থাকে। কিন্তু, এবছর পুজোর আগে প্রকৃতির কোপে দিশেহারা নদীয়া জেলার চাষিরা। লাগাতার বৃষ্টিতে ভেসে গিয়েছে জেলার বহু এলাকা। বিশেষ করে নদীর তীরবর্তী অঞ্চলের ধান চাষিদের অবস্থা শোচনীয়। কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলার প্রায় ২৭০০ হেক্টর জমির ধান চাষ ক্ষতির মুখে পড়েছে। ফলে, প্রায় ২০ হাজার চাষি পরিবার বিপাকে পড়েছে। পুজোর আগে এই ধাক্কা কীভাবে সামলাবে, তা নিয়ে চাষিরা চিন্তায় রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে উদ্যোগী হয়েছে প্রশাসন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় শস্য বিমার শিবিরের আয়োজন করা হচ্ছে। 

Advertisement

কৃষি উপ অধিকর্তা জয়দীপ মুখোপাধ্যায় বলেন, বৃষ্টির কারণে বহু চাষের জমি জলমগ্ন হয়েছে। চাষিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে এমন জায়গায় শিবির করে চাষিদের বিমার আওতায় আনা হচ্ছে। যাতে চাষিরা ক্ষতিপূরণ পান। নদীয়া জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ সিরাজ শেখ বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাষিদের কথা সর্বদাই ভাবেন। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, নদীয়া জেলার আটটি ব্লক লাগাতার বৃষ্টির জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে কালীগঞ্জ, নাকাশিপাড়া, নবদ্বীপ ও শান্তিপুর ব্লকের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। এই চার ব্লকের প্রায় ২৭০০ হেক্টর জমি কার্যত জলের তলায়। মোট ২৪টি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৯২টি মৌজার ধানের জমির ১০০ শতাংশই জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। সেখানকার ২০ হাজার ধানচাষি ক্ষতির সম্মুখীন বলে কৃষিদপ্তর প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে।‌ সপ্তাহখানেক আগে জেলার পাঁচ হাজার হেক্টর ধানজমি জলের তলায় ছিল। বর্তমানে জলমগ্ন জমির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ছ’হাজার হেক্টরে। এর মধ্যে প্রায় তিন হাজার হেক্টরেরও বেশি জমি একেবারেই চাষযোগ্য নেই। 
পরিসংখ্যান বলছে, যেখানে পুরো বছরের গড় বৃষ্টিপাত ১২৫০ মিলিমিটার, সেখানে আগস্ট শেষ হতে না হতেই নদীয়ায় প্রায় ১৪০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়ে গিয়েছে। এই অতিবৃষ্টির জেরেই নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। ভাগীরথী নদীর জল কয়েকদিন আগে পর্যন্ত বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছিল। ফলে ওই নদী তীরবর্তী এলাকায় বানভাসি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কালীগঞ্জ ব্লকের নয়াচর গ্রাম পুরোপুরি জলের তলায় চলে যাওয়ায় নৌকাই হয়ে উঠেছে গ্রামবাসীর একমাত্র ভরসা।
চলতি মরশুমে নদীয়া জেলায় মোট ১ লক্ষ ১৭ হাজার ৫৮৮ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। কিন্তু, লাগাতার বৃষ্টির জেরে বড় অংশ ক্ষতির মুখে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে জেলার সামগ্রিক ধান উৎপাদন বড় ধাক্কা খাবে। চাষিদের কথায়, পুজোর আগে জমি জলে ডুবে যাওয়ায় আমরা কার্যত নিঃস্ব। ফসল না উঠলে সংসার কীভাবে চলবে ভেবে পাচ্ছি না।
কালীগঞ্জের চাষি দিলীপ দাস বলেন, ভেবেছিলাম বৃষ্টি কমলে আবার ধান চাষ করা যাবে। কিন্তু, লাগাতার বৃষ্টি হচ্ছে। জমিতে জল জমে গিয়েছে। ধান চাষ করে ফসল বিক্রি করে পুজোর কেনাকাটা করার কথা। কিন্তু, চাষ না হওয়ায় উৎসবের আনন্দ মাটি হয়ে যাবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ