Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বৃষ্টিতে ফসল নষ্ট, কেশপুর ও গড়বেতায় সব্জির দামে আগুন

টানা বৃষ্টিতে বাড়িঘরের যা ক্ষতি হওয়ার তা তো হয়েছেই। কাজকর্ম বন্ধ থাকায় অনেকেরই উপার্জনও কমে গিয়েছে।

বৃষ্টিতে ফসল নষ্ট, কেশপুর ও গড়বেতায় সব্জির দামে আগুন
  • ৩ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: টানা বৃষ্টিতে বাড়িঘরের যা ক্ষতি হওয়ার তা তো হয়েছেই। কাজকর্ম বন্ধ থাকায় অনেকেরই উপার্জনও কমে গিয়েছে। এরপর গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো নিত্য প্রয়োজনীয় সব্জির দামও চড়চড় করে বেড়ে গিয়েছে। সামান্য একটু সব্জি-ভাত জোটাতে গিয়েই চোখে অন্ধকার দেখছে আম আদমি। কারণ সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতিতে সব্জি চাষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে গিয়েছিল। কৃষিজমি জলে ডুবে যাওয়ায় সব্জি চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়। যার ফলে সব্জির দাম বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে। কেশপুর, গড়বেতার বিভিন্ন এলাকায় সব্জির দাম আগুন হয়ে উঠেছে। মাথায় হাত মধ্যবিত্তের। পাশাপাশি সমস্যায় পড়েছেন ছোট বড় রেস্তরাঁ ও খাবারের দোকানের মালিকরা। গ্রামবাসীরা জানাচ্ছেন, সব্জির দাম আকাশছোঁয়া। শুধু আলু, পেঁয়াজের দাম কম। বাকি সমস্ত সব্জির দাম দ্বিগুণ, তিনগুণ হয়ে গিয়েছে। ঝিঙে, বেগুন, লঙ্কা ৮০ টাকা প্রতি কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সামান্য সব্জি-ভাত খেতে গিয়েই পকেটে টান পড়ছে সাধারণ মানুষের। সব্জি বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, সব্জির পাইকারি দামও চড়চড় করে বেড়েছে। তাই তাঁদের বাধ্য হয়েই দাম বাড়াতে হচ্ছে। কেশপুর ব্লকের আনন্দপুরের এক রেস্তরাঁর মালিক মিঠু মণ্ডল বললেন, বৃষ্টি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সব্জির দাম বেড়েছে। কিন্তু মানুষের কথা ভেবে খাবারের দাম বাড়াইনি। কিন্তু এর ফলে আমাদের খুবই সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। তবে এর প্রভাব শহরেও পড়েছে। মেদিনীপুর শহরের বাসিন্দা অনুপকুমার দে বলেন, হঠাৎ করেই সব্জির দাম অনেকটা বেড়েছে। পাঁচশো টাকার বাজার করলেও ব্যাগ ভরছে না। দৈনন্দিন খরচ অনেকটাই বেড়েছে। গড়বেতা-২ ব্লক পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দীনবন্ধু দে বলেন, পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। আশা করছি দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে। দাম তাড়াতাড়ি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

Advertisement

উল্লেখ্য, জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে পশ্চিম মেদিনীপুরের বিভিন্ন এলাকায় টানা বৃষ্টিপাত শুরু হয়। গত বছরের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ায় গড়বেতা-২ ও গড়বেতা-১ ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে যায়। সেই সময়ে বিঘের পর বিঘে চাষের জমি জলের তলায় চলে গিয়েছিল। দ্রুত জল নামলেও চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এর পর জলমগ্ন হয় ঘাটাল মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকা। তার ফলেও চাষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। জানা গিয়েছে, শুধু ঘাটাল মহকুমায় ২ হাজার হেক্টরের বেশি জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া গড়বেতা-১ ব্লকের প্রায় ১১টি গ্রাম পঞ্চায়েতে সব্জি চাষের ক্ষতি হয়। পাশাপাশি গড়বেতা-১ ব্লকের তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েতেও সব্জি চাষের ক্ষতি হওয়ায় মাথায় হাত পড়েছে চাষিদের। গড়বেতা-১ ব্লকের চাষি চন্দন মণ্ডল বলেন, এবছর সব্জির ফলন বেশ ভালোই হয়েছিল। কিন্তু বৃষ্টি সব শেষ করে দিয়েছে। অনেকেই এক টাকারও সব্জি বিক্রি করতে পারেনি। বাজারের অবস্থা খুবই খারাপ।
গড়বেতা-২ ব্লকের হুমগড়ের খাবারের দোকানের মালিক সুকুমার সেন বলেন, ছোট খাবারের দোকান চালাই। কিন্তু এই হারে সব্জির দাম বেড়ে যাওয়ায় কী করে দোকান চালাব বুঝে উঠতে পারছি না। গড়বেতা-২ ব্লকের বাসিন্দা সন্দীপ গোস্বামী বলেন, সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বেশকিছু নিত্য প্রয়োজনীয় সব্জি একশো টাকা কেজি দরেও বিক্রি হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ