নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: কোচবিহারকে হেরিটেজ শহর হিসেবে গড়া হচ্ছে। কিন্তু এই রাজনগরেই বর্ষার সময় বিভিন্ন রাস্তায় জল জমার চিত্র কিন্তু বদলায়নি। গত দু’দিন ধরে কোচবিহারে দফায় দফায় বৃষ্টি হচ্ছে। আর জল জমে গিয়েছে রাজবাড়ির সামনের রাস্তায়। এমনকী রাজবাড়ির গেটেও জল জমে যায়। সকালের দিকে বাসস্ট্যান্ডের সামনেও জল দাঁড়িয়েছিল।
পুরসভা কিছুদিন আগেই বলেছিল, এই এলাকার নিকাশি নালার নীচে যে কংক্রিট ছিল সেটা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ফলে আর জল দাঁড়াবে না। কিন্তু তারপরেও জল জমল। এদিকে, রাস্তায় জল জমার পাশাপাশি রবিবার সকালে কোচবিহারের বিভিন্ন ওয়ার্ডে তোর্সার পানীয় জল সরবরাহ হয়নি। এতে বাসিন্দারা সমস্যায় পড়েন।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, তোর্সার যে জায়গা থেকে জল তোলা হয়, সেই জায়গায় বিদ্যুৎ না থাকার কারণে এদিন জল তোলা যায়নি। তাই জল পরিস্রুত করে সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। তাই সকালে একদিকে রাস্তায় জল জমা, অন্যদিকে বাড়ি বাড়ি জল না পৌঁছনোয় শহরবাসীর দুর্ভোগ বেড়েছে। যদিও বেলা গড়ালে রাস্তার জমা জল নেমেছে। বিকেলে জলও সরবরাহ করা হয়েছে।
কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, যেখান থেকে জল তোলা হয়, সেই জায়গায় বিদ্যুৎ ছিল না। তাই রাতে জল তোলা যায়নি। সকালে জল সরবরাহ করাও সম্ভব হয়নি। বিকেলে আমরা জল দিতে পেরেছি। রাজবাড়ির জল যতক্ষণ পর্যন্ত না বের হয়, ওই জায়গায় জল থাকে। পূর্তদপ্তরের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। কেশব রোড উঁচু করার প্রস্তাব দিয়েছি। বর্ষায় কাজ করা যাবে না। পরবর্তীতে উদ্যোগ নেব। তবে, বিকেলে বৃষ্টি কমায় রাস্তা থেকে জল সরে যাওয়ায় দুর্ভোগ কমেছে।
কোচবিহার শহরের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির জল জমার সমস্যা বহু পুরনো। শহরের একদিকে আছে তোর্সা নদীর বাঁধ। কয়েকটি স্লুইস গেটও রয়েছে। শহরের কয়েকটি ওয়ার্ডের জল বড় নালা দিয়ে বের হয়। কিন্তু বহু ওয়ার্ডের জায়গায় জায়গায় নালাগুলির নাব্যতা সঠিক নেই। কোথাও নালার ঢাল উল্টো দিকে, কোথাও আবার ঢাল কিংবা নালাই নেই। ফলে বৃষ্টি হলেই জল জমে থাকছে। নিজস্ব চিত্র।