সংবাদদাতা, সাঁইথিয়া: দুর্ঘটনা রুখতে উদ্যোগী রেলমন্ত্রক। আসানসোল ও হাওড়া দুই ডিভিশনের দীর্ঘ রেল লাইনের দু’ধার ঘেরার (ফেন্সিং) কাজ শুরু হয়েছে। রেল লাইনের দু’ধারে স্টিলের (ক্রেসবেরিয়ার), কোথাও নেট, কোথাও আবার কংক্রিটের ফেন্সিংয় লাগানোর কাজ হচ্ছে। যদিও রেল মন্ত্রকের দাবি, প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ হয়ে গেছে। এখনও ৫০ শতাংশ কাজ বাকি।
জানা গিয়েছে, কয়েকশো কিলোমিটার এই রেলপথ ফাঁকা মাঠের মধ্যে দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মাঠের গবাদি পশু রেললাইন পারাপারের সময় ট্রেনে কাটা পড়ে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে যায়। যার কারণে ট্রেন চলাচলে ব্যাঘাত ঘটে। মৃতদেহ রেল লাইনের উপর থেকে না সরালে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হয় না। রেললাইনের দু’ধার ঘিরে দেওয়ার ফলে দুর্ঘটনা অনেকটাই কমবে। রেল সূত্রে জানা গেছে, মূলত হাওড়া ও আসানসোল ডিভিশনে এই কাজ শুরু হয়েছে। আসানসোল ডিভিশনের মধ্যে থাকা অণ্ডাল, পাণ্ডবেশ্বর, উখড়া, ভীমগড়, দুবরাজপুর, চিনপাই, কচুজোর, সিউড়ি, কুনুরি ও সাঁইথিয়া স্টেশনের আগে পর্যন্ত রেল লাইনের দু’ধারে ফেন্সিং বসানোর কাজ হচ্ছে। এছাড়াও হাওড়া, বর্ধমান, বোলপুর, প্রান্তিক, আমোদপুর, সাঁইথিয়া, গদাধরপুর, মল্লারপুর, তারাপীঠ, রামপুরহাট সহ হাওড়া ডিভিশনের নিয়ন্ত্রণে থাকা রেলপথের দু’ধার ঘেরার কাজও শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রেল লাইনের দু’ধার ঘেরা হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু শহরের মধ্যে দিয়ে যাওয়া রেলগেটগুলিতে নিরাপত্তার বেষ্টনী পেরিয়ে সাধারণ পথচারীরা অনায়াসে রেলগেট টপকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লাইন পারাপার করেন। বাসিন্দাদের প্রশ্ন, এক্ষেত্রে নজরদারি কে চালাবে? অনেক সময় দেখা যায় রেলের অধিকাংশ জিনিসপত্রই চুরি হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে স্টিলের পাত অথবা তারের বেড়া যদি দেওয়া হয় সেগুলি যে চুরি হবে না তার নিশ্চয়তা কোথায়?
এনিয়ে রেল মন্ত্রকের এক আধিকারিক বলেন, কাজোরা গ্রাম থেকে সাঁইথিয়া স্টেশনের আগে পর্যন্ত বেশ কিছু জায়গায় কাজ হয়ে গেছে। এখনও বেশকিছু জায়গার কাজ বাকি। মূলত, স্টিলের ফেন্সিং (ক্রেসবেরিয়ার) কোথাও নেট (ওয়েলডেট মেশ্) কোথাও আবার কংক্রিটের সীমানা প্রাচীর দেওয়া হয়েছে। এই ফেন্সিংয়ের কাজ শেষ হলে ট্রেনে কাটা পড়ার হার অনেকটাই কমবে। ৫০ শতাংশ কাজ এখনও পর্যন্ত হয়েছে। আরও ৫০ শতাংশ কাজ বাকি আছে।