সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: রেল কর্তৃপক্ষের আশ্বাসই সার। রেল কর্তৃপক্ষ প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর দেড় বছর কেটে গিয়েছে। আজও বিষ্ণুপুরে আন্ডারপাস তৈরি করা হয়নি। রেলগেট বন্ধ করার পর দেড় বছর কেটে গিয়েছে। কিন্তু রেলের পক্ষ থেকে আশ্বাস ছাড়া আর কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি। এমনই আক্ষেপ স্থানীয় বাসিন্দাদের। তাঁরা জানিয়েছেন, নেতা মন্ত্রী থেকে আরম্ভ করে রেল কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার দরবার করেও কোনও লাভ হয়নি। ক্ষোভ বিক্ষোভ আন্দোলন করার সময় কেবল আশ্বাসই দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারপর আর কোনও উচ্চবাচ্য নেই।
এব্যাপারে দক্ষিণ পূর্ব রেল বোর্ডের সদস্য তথা বিজেপি নেতা শমিক পাল বলেন, বিষ্ণুপুরে কুসুমবনি এলাকায় আন্ডারপাস তৈরির জন্য রেল প্রস্তুত রয়েছে। জমি পাওয়ার ক্ষেত্রে পরিবহন মন্ত্রকের ছাড়পত্রের অপেক্ষা করছে। বিষয়টিআমি রেল বোর্ডের বৈঠকে বার বার তুলেছি। আশা করছি। সমস্যা মিটিয়ে খুব শীঘ্রই আন্ডারপাস তৈরি হবে।
বিষ্ণুপুরের বিধায়ক তন্ময় ঘোষ বলেন, বিজেপি সরকার সাধারণ মানুষের অসুবিধার কথা ভাবেনা। তাই আন্ডারপাস তৈরির ক্ষেত্রে দেড় বছর ধরে টালবাহানা করছে। এটা রাজ্যের বিষয় হলে আমাদের মানবিক মুখ্যমন্ত্রী কবেই তা করে দিতেন। কিছুদিন আগে আমার বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলের টাকা দিয়ে রেলস্টেশন থেকে তেজপাল পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের অনুমতি চাইলাম। রেল কর্তৃপক্ষ তাতেও সাড়া দেয়নি। বিজেপি সরকার যে মানুষের পাশে নেই। এতেই তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষ্ণুপুরে রেলের দক্ষিণ ফটকের উপর ৬০নম্বর জাতীয় সড়ক চলে গিয়েছে। তাই ট্রেন অথবা মালগাড়ি যাতায়াত করলেই ফটকে দীর্ঘসময় যানবাহন আটকে থাকত। সেই কারনে প্রায় দেড় বছর আগে ওভারব্রীজ চালু করা হয়েছে।
ওই সময় ফটকে যে রাস্তা ছিল তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর ফলে অনেক ঘুরপথ দিয়ে ওভারব্রীজ দিয়ে দুই দিকের মানুষজনকে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বিষ্ণুপুরের মড়ার ও ওন্দার কাটাবাড়ি ও নাকাইজুড়ি গ্রামপঞ্চায়েত এলাকার শতাধিক গ্রামের বাসিন্দাকে বিষ্ণুপুর শহরে আসতে গেলে ঘুরপথ ব্যবহার করতে হচ্ছে।
শুধু তাই নয়। স্থানীয় কুসুবমনি, দ্বাদশবাড়ি, কাটাবাড়ি, যমুনাবাঁধ কলোনি, বনকাটি এলাকার ছাত্রছাত্রীদেরকে শহরে স্কুল ও কলেজে যাতায়াত করতে অসুবিধা হচ্ছে। ওই এলাকার সাধারণ বাসিন্দাদেরকে নিত্য প্রয়োজনে শহরে আসতে হয়। আন্ডারপাস না হওয়ায় তাঁরা সমস্যায় পড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, আন্ডারপাস তৈরির দাবিতে আমরা চিঠির পর চিঠি দিয়েছি। রাস্তা অবরোধ করে ক্ষোভ, বিক্ষোভ সহ একাধিকবার আন্দোলনে নেমেছি। প্রতিবারই আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
রেল কর্তৃপক্ষ ছোটখাটো কম গুরুত্বপূর্ণ জায়গাতেও আন্ডারপাস তৈরি করেছে। কিন্তু এখানে শহরের সঙ্গে গ্রামের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তা সত্বেও এখানে আন্ডারপাস তৈরিতে সদর্থক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।