Bartaman Logo
৫ জুলাই, ২০২৬

খাবার নিয়ে অভিযোগে নাজেহাল, গুণ-মান শোধরাতে তৎপর রেল

ট্রেনে এবং স্টেশনে খাবার নিয়ে লাগাতার অভিযোগ উঠছে। এর পরেই বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসতে একপ্রকার বাধ্য হচ্ছে রেলমন্ত্রক।

খাবার নিয়ে অভিযোগে নাজেহাল,  গুণ-মান শোধরাতে তৎপর রেল
  • ৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ট্রেনে এবং স্টেশনে খাবার নিয়ে লাগাতার অভিযোগ উঠছে। এর পরেই বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসতে একপ্রকার বাধ্য হচ্ছে রেলমন্ত্রক। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের সঙ্গে এব্যাপারে জরুরি বৈঠক করেছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। সঙ্গে ছিলেন রেলের দু’জন রাষ্ট্রমন্ত্রীও। সেই বৈঠকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অবিলম্বে ট্রেনের খাবারের গুণগতমান উন্নত করতে হবে। তার পরেই রেল বিশেষজ্ঞ মহলের প্রশ্ন, ট্রেনের খাবারে গুণগতমান শোধরানোর জন্য কি শেষমেশ কেটারিং চার্জের পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া হবে? অর্থাৎ, সেই মধ্যবিত্ত যাত্রীদেরই পকেটে চাপ ফেলা হবে? যদিও এব্যাপারে রেলমন্ত্রক আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি। তবে রেল বোর্ডের শীর্ষ সূত্রে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এর সঙ্গে কেটারিং চার্জ বৃদ্ধির কোনও সম্পর্ক নেই। কোনওমতেই কেটারিং চার্জ বাড়ানো হবে না। ফলে কিছুটা স্বস্তিতে যাত্রীরা।

Advertisement

বৈঠকে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ২০২৬ সালের ৫২ সপ্তাহে রেলে ৫২টি সংস্কারমূলক পদক্ষেপ করা হবে। অর্থাৎ, প্রতি সপ্তাহে একটি করে সংস্কারমূলক কাজ! এ বিষয়কেও রীতিমতো ইঙ্গিতপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। জানা যাচ্ছে, ৫২ সপ্তাহে ৫২টি সংস্কারমূলক পদক্ষেপের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে দু’টি বিষয়। একটি ট্রেনে অন-বোর্ড কেটারিং পরিষেবা। অন্যটি রেলের যাত্রী সুরক্ষা এবং নিরাপত্তা। 
সরকারি সূত্রে খবর, এদিনের বৈঠকে রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশে ট্রেন দুর্ঘটনার সংখ্যা লক্ষ্যণীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে। ২০১৪-১৫ আর্থিক বছরে দেশে ১৩৫টি ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটেছে। সেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে এখনও পর্যন্ত তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১১টিতে। একইসঙ্গে এদিনের বৈঠকে মন্ত্রী জানিয়েছেন, সারা দেশে আর একটিও ট্রেন দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে, সেই লক্ষ্যেই সংস্কারমূলক পদক্ষেপ করা জরুরি।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, সংশ্লিষ্ট সংস্কারমূলক পদক্ষেপের তালিকায় রেল কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রশিক্ষণও অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। ট্রেন পরিচালনায় কর্মীরা যাতে সার্বিকভাবে যোগ্যতার অধিকারী হন, তা মাথায় রাখতে বলা হয়েছে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের। পাশাপাশি যাত্রী সুরক্ষা, ট্রেনের রক্ষণাবেক্ষণ এবং ট্রেনের পরিচালনগত ক্ষেত্রে আরও বেশি করে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ ঘটানোর নির্দেশ দিয়েছেন রেলমন্ত্রী। রেলের কর্মসংস্কৃতির আবহেই আজ, শুক্রবার ১০০ জন কর্মী, আধিকারিককে কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘অতি বিশিষ্ট রেল সেবা পুরস্কার, ২০২৫’ প্রদান করবেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। যোগ্যতার মাপকাঠিতে পুরস্কার পাবে কয়েকটি রেলওয়ে জোনও।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ