Bartaman Logo
৩০ জুন, ২০২৬

মেডিকেল দুর্নীতি: বিজেপির আরও তিন রাজ্যে এক ধাঁচে নয়ছয়

বিজেপির শাসনে মেডিকেল দুর্নীতির অভিযোগে উত্তাল তিন রাজ্য। ৫৫০ কোটি টাকার ক্ষতি, বিস্তারিত জানুন।

মেডিকেল দুর্নীতি: বিজেপির আরও তিন রাজ্যে এক ধাঁচে নয়ছয়
  • ৩০ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: ব্যতিক্রম নয় রাজধানী দিল্লি। উত্তরপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্র... একের পর এক ডবল ইঞ্জিন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে মেডিকেল দুর্নীতির অভিযোগ। কায়দা একই। কোথাও মাত্র সাড়ে আট টাকার রক্ত সংগ্রহের ইডিটিএ টিউব কেনা হয়েছে ২,৩৫২ টাকা করে। কোথাও আবার ২ কোটি টাকার ক্যানসার ইনজেকশন মুড়িমুড়কির মতো বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। মেডিকেল দুর্নীতি এভাবে সর্বভারতীয় প্রবণতায় পরিণত হওয়ায় মুখ পুড়ছে বিজেপির।

Advertisement

রাজধানী দিল্লিতে ঠিক যে কায়দায় নয়ছয় হয়েছে, সেটি কার্যত ছত্তিশগড়ের ঘটনারই পুনরাবৃত্তি। সেরাজ্যের গেরুয়া সরকারের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণুদেও সাইয়ের আমলেই সরকারি অডিটে সামনে আসে এই নয়ছয়। জানা যায়, ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে টেন্ডারের বাইরেও ছত্তিশগড় মেডিকেল সার্ভিসেস কর্পোরেশনকে বেশ কিছু সামগ্রী বেচেছে একটি সংস্থা। তারাই রক্ত সংগ্রহের টিউব, যা অন্যরা সাড়ে আট টাকায় কেনে, সেটি ২,৩৫২ টাকা করে বিক্রি করেছে। বাজারে পাঁচ লাখ টাকা দাম যে কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (সিবিসি) মেশিনের, তা ওই সংস্থার কাছ থেকে কেনা হয়েছে ১৭ লক্ষ টাকায়। এভাবেই বর্ধিত মূল্যে চিকিৎসা সরঞ্জাম কিনে সরকারের ক্ষতি হয়েছে ৫৫০ কোটি।
মেডিকেল দুর্নীতি আর উত্তরপ্রদেশ প্রায় সমার্থক ছিল একসময়। মায়াবতী সরকারের আমলে জাতীয় গ্রামীণ স্বাস্থ্য মিশনের ১০ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছিল রাজনীতিক-আমলা ও ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে। সেই মামলা আদালতে এখনও ঝুলে। এর মধ্যেই চলতি মাসের গোড়ায় যোগীরাজ্যে ধরা পড়েছে আরও এক মেডিকেল দুর্নীতি। তাও আবার খাস লখনউয়ের কিং জর্জ’স মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে। জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের শেষে সেখানে প্রতি মাসে ১০ লক্ষ ক্যানসারের ওষুধ যেত রোগীদের কাছে। ২০২৬ সালের মার্চে তা আচমকাই পৌঁছে যায় প্রায় ৪৫ লক্ষে। তদন্তে জানা যায়, প্রায় ২ কোটি টাকার ওষুধ-ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে অজ্ঞাত পরিচয় রোগীদের। তদন্তে আরও দেখা গিয়েছে, একডজনের বেশি রোগীর বুকে পাঁচবার বসানো হয়েছে স্টেন্ট। সেটাও সরকারি বিমার টাকাতেই।
মহারাষ্ট্রে আবার সরকারি স্বাস্থ্য কর্মসূচির অধীনে শিশু ও অন্তঃসত্ত্বাদের রক্তাল্পতা রোধে সরবরাহ করা আয়রন সিরাপ ‘ফেল’ করেছে গুণমানের পরীক্ষায়। যদিও দেবেন্দ্র ফড়নবিশের সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছিল। সংস্থাকে দু’বছরের জন্য ব্ল্যাকলিস্ট করা হয়। কিন্তু মাত্র একমাসের মধ্যে উঠে যায় ‘নিষেধাজ্ঞা’। তারা আবার একটি বরাত পেতে চলেছে। প্রায় শখানেক কোটির!

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ