নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: হিন্দু ভক্ত ও পুণ্যার্থীদের প্রদান করা প্রণামী যে নিয়মিত চুরি হয়ে যাচ্ছে, সেই তথ্য আগে থেকেই ছিল রামমন্দির তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের কাছে। সোমবারই সামনে এসেছে এই বিস্ফোরক তথ্য। জানা গিয়েছে, কিছু মাস আগে অযোধ্যার রামমন্দিরের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট পরিচালক স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (এসবিআই) রীতিমতো চিঠি লিখে সতর্ক করেছিল ট্রাস্টকে। এমনকি প্রতিদিনের প্রণামীর টাকা গণনার জন্য একটি পেশাদার আর্থিক সংস্থাকে নিয়োগ করার পরামর্শও দেওয়া হয় তাদের তরফে। এসবিআই জানায়, সাধারণ কিছু কর্মীকে কোটি কোটি টাকা গণনার জন্য কাজে লাগানো অত্যন্ত অপেশাদার এবং ঝুঁকিবহুল। স্টেট ব্যাঙ্কের ওই প্রস্তাব অগ্রাহ্য করেছে রামমন্দির ট্রাস্ট। তাদের নিয়োগ করা কর্মীরাই প্রণামী গণনার কাজ চালিয়ে গিয়েছে। সেই টিমেরই আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে রামমন্দিরকাণ্ডে।
আরও জানা গিয়েছে, উত্তরপ্রদেশ পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী টিম (সিট) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রণামী চুরির তদন্ত শুরু করার আগেই নিজের মতো করে সেকাজে নেমে পড়েছিল ট্রাস্ট। অভিযুক্তদের একজনের হেপাজত থেকে তারা ৫৮ লক্ষ টাকা উদ্ধারও করে। সেটা ‘সিট’ তদন্ত শুরু করার ৯ দিন আগের ঘটনা। যার কাছে ওই টাকা ছিল বলে অভিযোগ উঠছে, সেই অবিনাশ শুক্লাকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সূত্রের খবর, ওই ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে থাকা টাকাও নাকি ট্রাস্টকে ফেরত দেওয়া হয়েছে ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে। প্রশ্ন উঠছে, রামমন্দির ট্রাস্ট তৎক্ষণাৎ কেন এফআইআর করেনি? বিশেষ করে এসবিআই যেখানে আগাম সতর্ক করেছিল যে, তহবিলে গরমিল হচ্ছে। অর্থাৎ যে পরিমাণ প্রণামী এবং অলংকার রামলালাকে দান করা হয়ে থাকে, তার সঙ্গে ব্যাংকে জমা পড়া অর্থ সম্পদের হিসাবে সাযুজ্য থাকছে না। ট্রাস্ট যদিও জানিয়েছিল, যেহেতু দেশের একের পর এক বৃহৎ বিখ্যাত মন্দিরের সম্পদের হিসাব নিয়ে দীর্ঘকালীন রহস্য, অনিশ্চয়তা, সন্দেহ ও ধোঁয়াশা ঘনীভূত হয়ে রয়েছে এবং বিষয়টি আইন আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে, তাই রামমন্দিরের অর্থসম্পদের হিসাবে স্বচ্ছতা রক্ষায় বিশেষ জোর দেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে কিছুই করা হয়নি। প্রশ্ন উঠছে, ট্রাস্ট কেন স্টেট ব্যাংকের এই সাবধানবাণী এবং নির্দেশিকা অমান্য করেছে? ইতিমধ্যেই রামমন্দির ট্রাস্ট থেকে ইস্তফা দেওয়া মন্দির আন্দোলনের পরিচিত মুখ সাধারণ সম্পাদক চম্পৎ রাইয়ের বিবৃতি নথিভুক্ত করেছে পুলিশ। নোটিস দেওয়া হবে ট্রাস্টের আরও দুই কর্তা গোপাল রাও এবং অনিল মিশ্রকে।
এই পরিস্থিতিতে বেনজির সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফৈজাবাদ বার অ্যাসোসিয়েশন। সোমবার এই সংগঠনের কমিটির বৈঠকে প্রস্তাব পাশ হয়েছে, ফৈজাবাদ আদালতের কোনো আইনজীবীই রামমন্দিরকাণ্ডে ধৃত আটজনকে আইনি সহায়তা দেবেন না। যদি কেউ মামলাটি গ্রহণ করেন, তাহলে তাঁর বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদ খারিজ হবে। ৫ লক্ষ টাকা জরিমানাও হবে। এমনকি চম্পৎ রাই, গোপাল রাও এবং অনিল মিশ্রকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অযোধ্যা ছাড়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে বার অ্যাসোসিয়েশন। এই সিদ্ধান্তেও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। আইনজীবীদের একাংশ আবার পশ্চিমবঙ্গের উদারহণ টেনে এনে বলেছেন, জনরোষের হাতে ছেড়ে দেওয়া হোক এই অভিযুক্তদের! যদিও রাজনৈতিক দলগুলি আইনি পথেই সাজার কথা বলেছে।