Bartaman Logo
৩০ জুন, ২০২৬

দিল্লিতে ৬৫০ কোটির মেডিকেল দুর্নীতি! ১৫ টাকার ওআরএস ২০৫’এ, অস্বস্তিতে রেখা গুপ্তা সরকার

দিল্লিতে ৬৫০ কোটির মেডিকেল দুর্নীতি প্রকাশ পেয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের দুই শীর্ষ আধিকারিক গ্রেপ্তার। বিস্তারিত পড়ুন।

দিল্লিতে ৬৫০ কোটির মেডিকেল দুর্নীতি! ১৫ টাকার ওআরএস ২০৫’এ, অস্বস্তিতে রেখা গুপ্তা সরকার
  • ৩০ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: দিল্লি সরকারের অধীনে থাকা ছোটো বড়ো হাসপাতাল মিলিয়ে ইনডোর বিভাগে বেডের সংখ্যা ১৫ হাজার। কিন্তু চাদর কেনা হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৬ লক্ষ। ১৫ হাজার বেডের জন্য এত বিপুল সংখ্যক চাদর কেনার কারণ কী? সেটাই রহস্য। ১৫০ টাকা দামের চাদর কেনা হয়েছে সাড়ে ৪০০ টাকায়। বাজারে ওআরএসের এক প্যাকেটের দাম ১৫ টাকা। কিন্তু রীতিমতো টেন্ডার করে এক একটি ওআরএস কেনা হয়েছে ২০৫ টাকা দরে। একটি পোর্টেবল এক্স-রে মেশিন সাধারণত ১০ লক্ষ টাকা দাম। দিল্লি সরকারের সেন্ট্রাল প্রকিওরমেন্ট এজেন্সি কিনেছে ৩৩ লক্ষ টাকায়। এমন মোট মেশিন সংখ্যা কত? ৪৪৮টি। ৪৫ কোটি টাকার বিল হওয়া উচিত ছিল। সেটা হয়েছে ১৪৮ কোটি টাকা। রেডিওলজিক্যাল যন্ত্রের বাজারে সাধারণ দাম ২৫ লক্ষ টাকা। এই যন্ত্র কেনা হয়েছে ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকায়!

Advertisement

মধ্যপ্রদেশ থেকে রামমন্দির কেলেঙ্কারি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিজেই সরকারি প্রকল্পে ভরতুকি পাচ্ছেন। এসবের পর এবার রাজধানী শহর দিল্লির সরকারের মেডিকেল দুর্নীতি ফাঁস। খোদ ভিজিল্যান্স তদন্তে উঠে এসেছে অর্থ নয়ছয়ের তথ্য। রবিবারই দিল্লি পুলিশের দুর্নীতি দমন শাখা গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি সরকারের স্বাস্থ্যদপ্তরের ডিরেক্টর জেনারেল অব হেলথ সার্ভিস সহ দু‌ই সর্বোচ্চ পর্যায়ের আধিকারিককে। সোমবার আম আদমি পার্টি নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ দিল্লি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে বলেছেন, ‘২৭ বছর পর দিল্লিতে ক্ষমতায় আসার প্রথম বছরেই বিজেপি সুদে-আসলে ক্ষতিপূরণ উশুল করতে নেমে পড়েছে।’ পালটা বিজেপির দাবি, ‘আপ সরকার দুর্নীতি নিয়ে কিছুই করেনি। অথচ আমাদের সরকার এই অনিয়ম জানার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিয়েছে। গ্রেপ্তারও হয়েছে।’ যদিও এই বিপুল পরিমাণ আর্থিক নয়ছয় হওয়ায় দিল্লির রেখা গুপ্তা সরকার যথেষ্ট অস্বস্তিতে পড়েছে। 
সৌরভ ভরদ্বাজ বলেছেন, ‘গত বছর ক্ষমতাসীন হওয়ার পর দিল্লি সরকার দিল্লির সরকারি হাসপাতালগুলির চিকিৎসা উপকরণ ক্রয়ের সব অধিকার বন্ধ করে দেয়। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যে কোনো চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরিষেবা উপকরণ কিনবে একমাত্র সেন্ট্রাল প্রকিওরমেন্ট এজেন্সি। নিজেদের পছন্দমতো এক ডিরেক্টর জেনারেল অব হেলথ সার্ভিস নিয়োগ করা হয়। আর তারপরই শুরু হয় লুটপাট।’ তাঁর অভিযোগ, ‘দিল্লিবাসী হঠাৎ দেখতে পায় যে, ওআরএস নিয়ে দিল্লি সরকার সারাক্ষণ প্রচার শুরু করেছে। শহরজুড়ে তৈরি  হয়েছে কুলিং জোন। সেখানে ওআরএস বিলি করা হচ্ছে।  এবার প্রকাশ হয়েছে আসল কারণ। এই প্রচার করে ৫০ লক্ষ ওআরএস প্যাকেট কেনা হয়েছে।’ সৌরভ বলেন, ‘দিল্লির বিজেপি সরকার চোর নয়, এরা ডাকাত। ২৭ বছর পর ক্ষমতায় আসার পর প্রথম ১৬ মাসের মধ্যেই এই সরকার ৬৫০ কোটি টাকার মেডিকেল দুর্নীতি করে ফেলেছে। দিল্লির মতো একটি ক্ষুদ্র সরকারের অন্দরে এতকিছু ঘটে যাচ্ছে, সেটা মুখ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রীরা জানতেন না এটা হতে পারে?’ প্রসঙ্গত, দিল্লিতে এইমস, সফদরজং, রামমনোহর হাসপাতাল কেন্দ্রীয় সরকারি পরিচালিত। যদিও এইমস স্বশাসিত পরিষদ দ্বারা পরিচালিত। এসবের বাইরে দিল্লি পুরসভা অথবা দিল্লি সরকার পরিচালিত হাসপাতালের সংখ্যা ৪২। দিল্লির ২ কোটির বেশি জনসংখ্যার বিরাট অংশের মানুষ সরকারি পরিষেবার উপর নির্ভরশীল। বিরোধীদের প্রশ্ন, সরকারি হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণ কেনার ক্ষমতা বিজেপি সরকার হঠাৎ কেন কেড়ে নিল?

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ