Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পর্যটকদের ক্ষোভের জেরে পৌষমেলার স্পেশাল ট্রেন ঘোষণা করতে হল রেলকে

প্রতি বছরই শান্তিনিকেতনে পৌষমেলা উপলক্ষ্যে বিশেষ ট্রেন চালায় পূর্ব রেল

পর্যটকদের ক্ষোভের জেরে পৌষমেলার স্পেশাল ট্রেন ঘোষণা করতে হল রেলকে
  • ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বোলপুর: প্রতি বছরই শান্তিনিকেতনে পৌষমেলা উপলক্ষ্যে বিশেষ ট্রেন চালায় পূর্ব রেল। গত ২৩ ডিসেম্বর থেকে পৌষমেলা শুরু হলেও বিশেষ ট্রেন না দেওয়ায় রেলের উপর ক্ষোভ বাড়ছিল সাধারণ মানুষের। গত ২৪ ডিসেম্বর ‘বর্তমান’-এ সেই ক্ষোভের কথা তুলে ধরা হয়। তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে অবশেষে পৌষমেলার জন্য বিশেষ ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিল রেল। বৃহস্পতিবার ২৫ ডিসেম্বর থেকে হাওড়া-বোলপুর শাখায় ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। পৌষমেলার শেষদিন অর্থাৎ আগামী ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত ওই বিশেষ ট্রেন চলবে। যাত্রাপথে উভয়দিকে এই ট্রেনটি হাওড়া থেকে ছেড়ে ব্যান্ডেল, বর্ধমান, গুসকরা এবং বোলপুর(শান্তিনিকেতন) স্টেশনে দাঁড়াবে।

Advertisement


রেল সূত্রের খবর, আগামী ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন বিশেষ ট্রেনটি হাওড়া স্টেশন থেকে সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে ছাড়বে। বোলপুর পৌঁছবে সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে। অন্যদিকে, একই ট্রেন বোলপুর থেকে সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে ছেড়ে হাওড়া পৌঁছনোর কথা দুপুর ২টো ৪৫ মিনিটে। ১১ কোচের এই ট্রেনে ৯টি জেনারেল এবং ২টি সংরক্ষিত কামরা রয়েছে। পৌষমেলাকে কেন্দ্র করে শান্তিনিকেতনে বাড়তি যাত্রী চাপের কথা মাথায় রেখেই এই বিশেষ পরিষেবা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে পূর্ব রেলের তরফে। বিশেষ ট্রেন দেওয়ায় সাধারণ মানুষেরও অনেকটা সুবিধা হয়েছে। তবে, অন্যান্য বছর পৌষমেলা উপলক্ষ্যে বিশেষ ট্রেনটি হাওড়া থেকে রামপুরহাট পর্যন্ত চালিয়েছে রেল। প্রান্তিক, আমোদপুর ও সাঁইথিয়া স্টেশনেও স্টপেজ থাকত। তাছাড়া, ট্রেনটি বিকেলে বোলপুর থেকে ছাড়ত। সন্ধ্যায় হাওড়া পৌঁছত। এতে যাত্রীদের কিছুটা বাড়তি সুবিধা হত। কিন্তু এবছরের ট্রেনের সময়সূচি নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ রয়েই গিয়েছে।


পৌষমেলা উপলক্ষ্যে বীরভূম ও তার আশপাশের জেলা তো বটেই, কলকাতা থেকেও প্রচুর মানুষ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিধন্য ধামে আসেন। হাওড়া কিংবা শিয়ালদহ থেকে উত্তরবঙ্গের সিংহভাগ ট্রেনই বোলপুর-শান্তিনিকেতনের উপর দিয়ে যায়। কিন্তু এই ছুটির সময় উত্তরবঙ্গের সমস্ত ট্রেনই ভিড়ে ঠাসা। টিকিটের হাহাকার চলছে। তাই যাত্রীদের ভরসা সেই শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেস, বিশ্বভারতী এক্সপ্রেস, মা তারা এক্সপ্রেস, ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস সহ হাতেগোনা কয়েকটি ট্রেন। কিন্তু অন্যান্য বছরের মতো এবছরও এই মুহূর্তে প্রায় সব ট্রেনের ওয়েটিং লিস্ট দীর্ঘ। রিজার্ভেশন টিকিট অনেক আগে থেকেই শেষ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের একমাত্র ভরসা ছিল রেলের বিশেষ ট্রেন। দু’দিন দেরি হলেও অবশেষে বিশেষ ট্রেন চালু হওয়ায় খুশি যাত্রীরা। হাওড়া ডিভিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পৌষমেলার সময় শান্তিনিকেতনে যাত্রীদের যে বিপুল চাপ থাকে, তা সামাল দিতেই এই ব্যবস্থা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ