নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: প্রায় ন’বছর পেরিয়ে গেলেও সিউড়ির হাটজনবাজারে রেল ওভারব্রিজের কাজ এখনও অসম্পূর্ণ। নিত্য যানজটে নাজেহাল হচ্ছে আমজনতা। এনিয়ে রেলের উদাসীনতা ও গাফিলতিকে দায়ী করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিউড়ির বাসিন্দারা। একই সুরে রেলকে বিঁধে এবার আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। বুধবার ১৮নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল নেতারা রেলগেটে কিছুক্ষণ বিক্ষোভও দেখান। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সাধারণ মানুষের স্বার্থে প্রয়োজনে রেল অবরোধও করার ইঙ্গিত দিয়েছে নেতৃত্ব। জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের কোর কমিটির সদস্য তথা সিউড়ির বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরী বলেন, মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গিয়েছে। আমরা অনেক অপেক্ষা করেছি, আর নয়। রেলের তরফে শুধু প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কাজ শেষ হচ্ছে না। এবার আমরা আন্দোলনের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্রুত আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করা হবে। সিউড়ি পুরসভার ১৮নম্বর ওয়ার্ডের মাঝ বরাবর রেললাইন রয়েছে। ওই রেলপথ ধরে দিনের বিভিন্ন সময় হাওড়া, রামপুরহাট, সাঁইথিয়া, অণ্ডাল ও বর্ধমানের ট্রেন চলাচল করে। এছাড়াও একাধিক পণ্যবাহী ট্রেনও ওই রেলপথ ধরে চলে। গুরুত্বপূর্ণ এই রেলপথের উপর স্টেশন লাগোয়া এলাকায় রেলগেট রয়েছে। সিউড়ি হয়ে যাতায়াতের জন্য ওই রেলগেট পার হতে হয়। ট্রেন এলেই গেট বন্ধ হয়ে যায়। ভোগান্তির শিকার হন শহরের বাসিন্দারা। ফলে রেলগেটের পরিবর্তে সেখানে ওভারব্রিজ অর্থাৎ উড়ালপুল গড়ে তোলার দাবি উঠেছিল। রেলের তরফে ২০১৬ সাল নাগাদ ওভারব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। যদিও মাঝপথে সেই কাজ থমকে যায়। অবশেষে ২০২৪সালের শেষদিকে ২২নম্বর রেলগেটের পরিবর্তে ওভারব্রিজ তৈরির কাজে গতি আসে। রেলপথের উপরের অংশে গার্ডার বসানোর জন্য গত এপ্রিল মাসে রেলের তরফে ব্লক নেওয়া হয়েছিল। জেলা পুলিস ও প্রশাসনের তরফে হাটজনবাজার রেলগেট হয়ে যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছিল। গার্ডার বসানোর কাজে শুরুতেই বিপত্তি ঘটে। যান্ত্রিক ত্রুটির জেরে সেই কাজ থমকে গিয়েছে বলে রেলের দাবি। এই পরিস্থিতিতে গার্ডার বসানোর কাজ শেষ করতে পুনরায় রেলের তরফে ব্লক নেওয়া হবে। কিন্তু কবে কাজ হবে তা স্পষ্ট নয়। রেলকর্তারাও স্পষ্ট কোনও দিনক্ষণ উল্লেখ করতে পারছেন না। রেলগেটে ভোগান্তি চলায় বাসিন্দাদের ক্ষোভের পারদ চড়ছে। ক্ষুব্ধ শাসক শিবিরও। বর্ষার মরশুম শুরু হয়ে যাওয়ায় পুজোর আগে রেল ওভারব্রিজের কাজ শেষ না হওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে।



