Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভাবাদিঘিতে ভূমিপুজো করে কাজ শুরু রেলের

গোঘাটের ভাবাদিঘির নির্দিষ্ট দাগে রেলব্রিজ তৈরির জন্য কাজ শুরু হল।

ভাবাদিঘিতে ভূমিপুজো করে কাজ শুরু রেলের
  • ৬ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ভাবাদিঘি: গোঘাটের ভাবাদিঘির নির্দিষ্ট দাগে রেলব্রিজ তৈরির জন্য কাজ শুরু হল। রবিবার সেখানে ভূমিপুজোয় স্থানীয় বাসিন্দারাও অংশ নেন। পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণের পাশাপাশি রেল ও হুগলি গ্রামীণ পুলিশের আধিকারিকরা নারকেল ফাটিয়ে কাজের সূচনা করেন। ভাবাদিঘিতে কাজ শুরু হওয়ায় তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর রেলপ্রকল্পের কাজ নিয়ে আশার আলো দেখা যাচ্ছে।

Advertisement

এদিন ভাবাদিঘিতে তিনটি স্পটে পুলিশ ও আরপিএফ জওয়ানদের উপস্থিতিতে ভূমিপুজো ও নারকেল ফাটানো হয়। রেলব্রিজ তৈরির জন্য যন্ত্রের সাহায্যে মাটিতে গর্ত খোঁড়া শুরু হয়েছে। একাধিক জায়গায় একইভাবে মাটি খোঁড়া হবে। লোড পরীক্ষা করা হবে। এদিন ভূমিপুজো উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরামবাগের এসডিপিও সুপ্রভাত চক্রবর্তী, পূর্ব রেলের সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই ইঞ্জিনিয়ার মৃণাল সরকার ও ইন্দ্রজিৎ হাজারি সহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
মৃণালবাবু বলেন, তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর রেলপথে জয়রামবাটি পর্যন্ত কাজ হয়ে গিয়েছে। আগামী বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত ভাবাদিঘির কাজ করার পর এই শাখায় ট্রেন চালানোর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এজন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
ভাবাদিঘি বাঁচাও কমিটির সম্পাদক সুকুমার রায় বলেন, ভাবাদিঘি বুজিয়ে নয়, দিঘির উপর সেতু তৈরি করে রেললাইন যাবে। ফলে আমাদের আন্দোলনের জয় হয়েছে। আমরা চাই, তা‌ড়াতাড়ি রেলপ্রকল্পের কাজ শেষ হোক। আরামবাগের বাসিন্দা পেশায় শিক্ষক গৌতম দাস বলেন, বহুদিন ধরে রেলের কাজ থমকে ছিল। এদিন থেকে ভাবাদিঘির জমিতে কাজ শুরু হওয়ায় আশার আলো দেখছি।
ভাবাদিঘি বুজিয়ে রেলের কাজ যাতে না হয়, সেই জন্য প্রায় দেড়দশক ধরে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা আন্দোলনে নেমেছিলেন। এনিয়ে আইনি লড়াইও চলেছে। সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্ট ভাবাদিঘিতে রেলের কাজ শুরু করার নির্দেশ দেয়। তার জেরে ১১সেপ্টেম্বর থেকে ভাবাদিঘির অ্যাপ্রোচ অংশে মাটি ফেলে রেলপথ তৈরি শুরু হয়। কিন্তু, ভাবাদিঘির নির্দিষ্ট দাগে এতদিন কাজ শুরু হয়নি। এদিন থেকে সেখানেও কাজ শুরু হল। ফলে হুগলি ও বাঁকুড়ার বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ আশার আলো দেখছেন। তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর রেলপথ হলে রেল মানচিত্রে তীর্থস্থান তারকেশ্বরের সঙ্গে জুড়ে যাবে কামারপুকুর, জয়রামবাটি ও মন্দিরনগরী বিষ্ণুপুর। যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নতি হওয়ায় সাধারণ মানুষের সুবিধা হবে। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ