সংবাদদাতা, সাঁইথিয়া: দীর্ঘ প্রায় আট-নয় বছরের টালবাহানার অবসান। বহু প্রতীক্ষিত সিউড়ির হাটজনবাজার রেল ওভারব্রিজ চালুর হতে চলেছে পুজোর আগেই। যানজট থেকে মুক্তির আশায় প্রহর গুনছেন শহরবাসী। যদিও অনেকেই নতুন করে টালবাহানার আশঙ্কাও করছেন। তবে রেলদপ্তরের দাবি, আগামী এপ্রিল মাসেই গার্ডার বসানোর কাজ সম্পন্ন করা হবে। তার দুই-তিন মাসের মধ্যেই পুরো কাজ শেষ হয়ে যাবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিগত প্রায় ২০১৬-’১৭ সাল থেকে এই রেল ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। কিন্তু বিভিন্ন টালবাহানার কারণে নির্মাণের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। শুরু হওয়া কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্বভাবতই শহরবাসী হতাশ হয়ে পড়েন। বিগত প্রায় কয়েক বছরই কাজ বন্ধ হয়ে থাকে। ২০২৪ সালে ফের ওভারব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। থমকে থাকা কাজে গতি আনার জন্য বারংবার সংসদে সরব হন সাংসদ শতাব্দী রায়। তিনি ব্রিজের এলাকা পরিদর্শন করেন ও এলাকায় অবস্থান-বিক্ষোভে শামিল হন। পিছিয়ে ছিল না প্রধান বিরোধী দল বিজেপিও। এই রেলওভার ব্রিজের কাজে তৃণমূলের তরফে বাধা দেওয়ার কথাও বলা হয় বিজেপির তরফে। মূলত এই ব্রিজ নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আসরে নেমে পড়েছিল।
এবিষয়ে পূর্ব রেলের ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক দীপ্তিময় দত্ত বলেন, সিউড়ির গেট নম্বর ২২এর পরিবর্তে যেটি রয়েছে তার কাজ প্রায় ৮০ শতাংশ শেষ হয়েছে। এপ্রিল মাস নাগাদ ‘ব্লক’ নিয়ে গার্ডারের কাজ সম্পন্ন করা হবে। তার মাস দুয়েকের মধ্যেই খুব শীঘ্রই এই ওভারব্রিজটিকে চালু করে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। অ্যাম্বুলেন্স চালক শেখ রিন্টু বলেন, সিউড়ি সদর হাসপাতাল থেকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে রোগী নিয়ে যাওয়ার সময় অনেক সময় রেলগেট পড়ে থাকে। চরম সমস্যায় পড়তে হয়। বেশ কয়েক বছর ধরে দেখছি কাজের কোনও অগ্রগতি ছিল না। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে কাজ অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব এই ওভারব্রিজ চালু করে দিলে শহরবাসীর পাশাপাশি আমরা অ্যাম্বুলেন্স চালকরাও উপকৃত হব। সিউড়ি থেকে বোলপুর, আমোদপুর যাওয়ার প্রধান রাস্তার উপরেই হাটজন বাজারে রয়েছে একটি রেলগেট।
সাংসদ শতাব্দী রায় বলেন, আমার সঙ্গে রেলদপ্তরের সঙ্গে কথা হয়েছে। ইয়ার এন্ডিং চলার জন্য মার্চ মাসে সেই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না। এপ্রিল মাস নাগাদ তারা সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। অন্যদিকে, জেলার একমাত্র বিজেপি বিধায়ক অনুপ সাহা বলেন, আমরা বহুবার এই ওভার ব্রিজটিকে নিয়ে রেলের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে কথা বলেছি। যত দ্রুত সম্ভব কাজটিকে শেষ করা যায় এবিষয়ে আমরা রেলের সঙ্গে কথা বলব।