Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ফের মিশন গেট বন্ধের তোড়জোড় রেলের, স্থানীয় প্রশাসনের আপত্তিতে রণে ভঙ্গ

উপর দিয়ে নির্মিত হয়েছে জাতীয় সড়ক। তাই অনেকদিন ধরেই রানাঘাট শহরের ৫৫নম্বর রেলওয়ে ক্রসিং বা মিশন গেট বন্ধ করতে তৎপর পূর্ব রেল।

ফের মিশন গেট বন্ধের তোড়জোড় রেলের, স্থানীয় প্রশাসনের আপত্তিতে রণে ভঙ্গ
  • ২৪ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: উপর দিয়ে নির্মিত হয়েছে জাতীয় সড়ক। তাই অনেকদিন ধরেই রানাঘাট শহরের ৫৫নম্বর রেলওয়ে ক্রসিং বা মিশন গেট বন্ধ করতে তৎপর পূর্ব রেল। তবে, একাধিক সমস্যার কথা তুলে ধরে বিকল্প ব্যবস্থা না করে ওই গেট পাকাপাকি বন্ধ করার বিরুদ্ধে বরাবরই সোচ্চার হয়েছে রাজ্য প্রশাসন এবং আশপাশের বাসিন্দারা। শনিবার ফের কয়েকজন রেলকর্তা ওই রেলওয়ে ক্রসিং বন্ধের জন্য পদক্ষেপ নিতে আসেন। যদিও  শেষমেশ স্থানীয় প্রশাসনের তরফে এদিনেও আপত্তি তোলা হলে রণে ভঙ্গ দিয়েই তাঁদের ফিরে যেতে হয়।

Advertisement

রানাঘাট শহরের মধ্যে দিয়ে ১২নম্বর জাতীয় সড়ক চলে গিয়েছে। মূলত শহরকে যানজটমুক্ত করতেই বেগোপাড়া থেকে উঠে গিয়েছে উড়ালপুল। এর ঠিক নীচেই রয়েছে মিশন গেট রেলওয়ে ক্রসিং। উড়ালপুলের রাস্তা তৈরি হয়ে গিয়েছে-এই যুক্তি খাড়া করে নীচের রেলগেট বন্ধ করতে তোড়জোড় শুরু করেছিল পূর্ব রেল। এ বিষয়ে রানাঘাট মহকুমা প্রশাসন, পুরসভা ও রানাঘাট-২ ব্লক প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে রেলের একটি যৌথ পরিদর্শনও হয়। কিন্তু তাতে রেলগেট বন্ধের বিষয়ে সাফ আপত্তি জানায় স্থানীয় প্রশাসন। তাদের দাবি, ওই রেলগেটের আশপাশে অন্তত সাতটি স্কুল রয়েছে। রেললাইনের দু’দিকের বহু বাসিন্দা প্রতিদিন সাইকেলে বা হেঁটে যাতায়াত করেন। উপর দিয়ে জাতীয় সড়কের উড়ালপুল থাকলেও সেখানে ফুটপাত নেই। তাই স্কুল পড়ুয়া থেকে সাধারণ মানুষের পক্ষে সেখান দিয়ে হেঁটে যাওয়া কার্যত মৃত্যুকে হাতছানি দেওয়ার সমান। এমনকী, সাইকেল অথবা ভ্যান নিয়েও যাতায়াত অসম্ভব। তাই বিকল্প ব্যবস্থা অর্থাৎ আন্ডারপাস না করে ওই রেলগেট কোনওভাবেই বন্ধ করা যাবে না বলে জানিয়ে দেয় স্থানীয় প্রশাসন। যদিও ফের সেই রেলগেট বন্ধ করতে চেয়ে মিশন গেট চত্বরে আসেন কয়েকজন রেলকর্তা এবং আরপিএফ কর্মী। সহযোগিতা চেয়ে ডেকে পাঠানো হয় স্থানীয় প্রশাসনকেও। কিন্তু, আগেরবারের মতো বিনা বিকল্পে রেলের দাবি মেটাতে অস্বীকার করে রাজ্য প্রশাসন। সাধারণ মানুষের স্বার্থের কথা ভেবে আপত্তি জানায় তারা। ফলে সহযোগিতা মেলেনি স্থানীয় পুলিস প্রশাসনেরও। অগত্যা এদিন তাঁদের ফিরে যেতে হয়। রেলের তরফে এক কর্তা বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা না পেলে আমরা এই কাজ করতে পারব না। কারণ, অপ্রীতিকর কোনও ঘটনা ঘটলে তার দায় কে নেবে? অগত্যা আমরা বিষয়টিকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানিয়ে চলে আসি। রাজ্য প্রশাসনের তরফে রানাঘাট পুরসভার অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার সুদীপ্ত মুখোপাধ্যায় বলেন, জাতীয় সড়কের নির্মাণ কৌশলে ত্রুটি রয়েছে। পথচারীদের চলাচলের জন্য ব্যবস্থা রাখা হয়নি। আশপাশে অন্তত সাতটি স্কুল রয়েছে। হাইওয়ে দিয়ে কমপক্ষে ১০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টার গতিতে গাড়ি চলে। বাচ্চারা কি সেখান দিয়ে যাতায়াত করবে? তাই বিকল্প ব্যবস্থা না করলে রেলগেট বন্ধ করার ক্ষেত্রে আমাদের পক্ষে সহমত পোষণ করা সম্ভব নয়। এদিনও আমরা সেই আপত্তির কথাই জানিয়েছি।              নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ