সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রামপুরহাটে রেলের পিএসসি স্লিপার তৈরির কারখানায় সাসপেনশন অব ওয়ার্কের নোটিশ সাঁটাল কর্তৃপক্ষ। সোমবার সকালে কাজে এসে কারখানার গেটে নোটিশ দেখে হতাশ হয়ে পড়েন কর্মীরা। সংসার নিয়ে প্রায় পথে বসার মতো অবস্থা তাঁদের। আগাম কোনও নোটিশ ছাড়াই কারখানা লকআউট হওয়ায় প্রবল বিক্ষোভে ফেটে পড়েন কর্মহীন শ্রমিকরা।
রামপুরহাট স্টেশনের পাশেই ওই পিএসসি স্লিপার তৈরির কারখানাটি রয়েছে। এখানে প্রায় ৩০০জন শ্রমিক কাজ করেন। এদিন সকাল ৬টা নাগাদ কাজে যোগ দিতে এসে সাসপেনশন অব ওয়ার্কের নোটিশ দেখে মাথায় কার্যত বাজ পড়ার অবস্থা হয় শ্রমিকদের। এমনিতেই নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধিতে জেরবার তাঁরা। এই অবস্থায় শ্রমিকরা কারখানার গেটের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। সেখানে সিটুর নেতারাও হাজির হন। যদিও কর্তৃপক্ষের কারও দেখা মেলেনি। শ্রমিকরা বলেন, কারখানার পরিকাঠামোগত অভাব থাকা সত্ত্বেও আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে আসছি। সাধারণ স্লিপার সারাবছর তৈরি হয়। বছরে কয়েকবার ক্রসিং স্লিপার তৈরি হয়। কিন্তু ক্রসিং স্লিপার তৈরিতে খাটনি বেশি এবং ঝুকিপূর্ণ কাজ। তাই ক্রসিং স্লিপার তৈরিতে কিছু টাকা দাবি করা হয়েছিল। মালিকপক্ষের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা হলেও কোনও মীমাংসা হয়নি। এরইমধ্যে রাতের অন্ধকারে কাজ স্থগিতের নোটিশ ঝুলিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।
সিটুর রাজ্য কমিটির সদস্য অমিতাভ সিং বলেন, যতদিন সাসপেনশন অব ওয়ার্ক থাকবে ততদিন শ্রমিকরা কোনও বেতন পাবেন না। এখন শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা খাবেন কী? কারখানা চালু রেখেই সমাধানের পথ খুঁজতে পারত মালিকপক্ষ। কিন্তু তা না করে বেআইনিভাবে কাজ স্থগিতের নোটিশ ঝুলিয়ে দিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। আইএনটিটিইউসির জেলা সভাপতি ত্রিদিব ভট্টাচার্য বলেন, রাতের অন্ধকারে এভাবে সাসপেনশন অব ওয়ার্কের নোটিশ ঝোলাতে পারে না কারখানা কর্তৃপক্ষ। চরম বেআইনি। এত শ্রমিকের রুজিরুটি নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে পারে না কর্তৃপক্ষ। আমরা আলোচনার মাধ্যমে নোটিশ প্রত্যাহার করতে বাধ্য করব। এব্যাপারে কারখানার ম্যানেজার সঞ্জয় খৈতানকে ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।
দুপুরে অ্যাসিস্ট্যান্ট লেবার কমিশনারের অফিসে দু’পক্ষকে নিয়ে বৈঠক হয়। সেখানে সিটু ও আইএনটিটিইউসি নেতারা হাজির ছিলেন। ত্রিদিববাবু বলেন, তিন বছর অন্তর শ্রমিকদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের চুক্তি হয়। সেই চুক্তি শেষ হতে আর কয়েক মাস বাকি। ঠিক হয়েছে আপাতত পুরনো চুক্তিতেই শ্রমিকরা কাজ করবেন। পরবর্তীতে নতুন চুক্তিতে শ্রমিকদের এই দাবির বিষয়টি অর্ন্তভুক্ত করা হবে। এরপরও যদি কারখানা না খোলে তাহলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামব।