সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: কথা রাখলেন বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী। সাংসদ তহবিলের টাকায় শুরু হল রঘুনাথপুরের জয়চণ্ডী পাহাড়ে ওঠার রেলিং তৈরির কাজ। এতদিন সিঁড়ি দিয়ে উপরে ওঠার সময় কোনও রেলিং ছিল না। পর্যটকরা এবার সিঁড়ির দু’পাশে স্টিলের রেলিং ধরে সহজেই জয়চণ্ডী পাহাড়ে উঠতে পারবেন। দ্রুত কাজ শুরু হওয়ায় রঘুনাথপুর পুরসভার তরফে সাংসদকে সাধুবাদ জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রেলিং তৈরিতে মোট ৩১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা খরচ হবে। কাজ শেষ হবে আগামী তিন মাসের মধ্যেই।
অরূপবাবু বলেন, জয়চণ্ডী পর্যটন উৎসবে গিয়ে বেশকিছু সমস্যার কথা শুনেছিলাম। পাহাড়ে ওঠার সিঁড়ি থাকলেও দু’পাশে কোনও রেলিং নেই। তাই সেই কাজটি সাংসদ তহবিল থেকে করার জন্য উদ্যোগী হই। জয়চণ্ডী পাহাড়ে পর্যটন উৎসব হলেও এখনও পর্যন্ত তার সরকারি স্বীকৃতি মেলেনি। তাই মেলাটি যাতে সরকারি স্বীকৃতি পায় তারজন্য মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই জয়চণ্ডী পাহাড়েই সত্যজিৎ রায়ের ‘হীরক রাজার দেশে’ সিনেমার শ্যুটিং হয়েছিল। সেই থেকে পাহাড়টি হীরক রাজার দেশ নামে পরিচিত। পাহাড়কে ঘিরে পর্যটকদের আকর্ষণ বেড়েছে। পাহাড়কে কেন্দ্র করে বাম আমলে প্রয়াত সাংসদ বাসুদেব আচারিয়ার হাত ধরে বেসরকারি উদ্যোগে পর্যটন উৎসবের সূচনা হয়েছিল। সেই থেকে প্রতিবছর ২৮ ডিসেম্বর থেকে ১ জানুয়ারি পর্যন্ত পাঁচদিনের পর্যটন উৎসব হয়। তবে এবছর থেকে মেলার দিনসংখ্যা একদিন বাড়ানো হয়েছে। চলতি বছরের ১৯তম পর্যটন উৎসবে বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী প্রধান অতিথি হিসেবে এসেছিলেন। তিনি তখন জয়চণ্ডী পাহাড়ে ওঠার সিঁড়ির দু’পাশে স্টিলের রেলিং তৈরি করে দেওয়ার কথা দিয়েছিলেন।
এলাকার বাসিন্দারা বলেন, জয়চণ্ডী পাহাড়ের উপরে একটি মন্দির রয়েছে। সেখানে পুজো দিতে কিংবা পাহাড়ে চড়তে গেলে প্রায় ৫৫০টি সিঁড়ি পেরিয়ে উপরে উঠতে হয়। কিন্তু সিঁড়ির দু’পাশে ধরার জন্য কোনও রেলিং ছিল না। ফলে ইচ্ছা থাকলেও অনেকে পাহাড়ে চড়তে পারেন না। আবার সিঁড়ি দিয়ে উঠতে গিয়ে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনাও থাকে। সমস্যাটি দেখার পরে সাংসদ এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেন।
স্থানীয় যুবক পিন্টু মাজি, অমিতকুমার বাউরি বলেন, দু’পাশে কোনও রেলিং না থাকায় অসুবিধা হতো। এখন রেলিং তৈরি হলে সুবিধা হবে। পর্যটন উৎসব কমিটির সম্পাদক তথা রঘুনাথপুর পুরসভার চেয়ারম্যান তরণী বাউরি বলেন, সিঁড়ির দু’পাশে রেলিং হওয়ায় অবশ্যই ভালো হল। রঘুনাথপুর পুরসভা এবং পর্যটন উৎসব কমিটির তরফ থেকে সাংসদকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই। কাজটি হওয়ার ফলে আগামী দিনে পর্যটনকেন্দ্রের গুরুত্ব আরও
বাড়বে। -নিজস্ব চিত্র