নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: একদিকে চরম দারিদ্র্যতা, অন্যদিকে প্রবল খেলার নেশা। শেষপর্যন্ত সমস্ত বাধা উপেক্ষা করে ফুটবল খেলার দক্ষতায় রায়গঞ্জের হাতিয়া হাইস্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী প্রীতিকা বর্মন জায়গা করে নিল জাতীয়স্তরে অনূর্ধ্ব ১৭ মহিলা ফুটবল সিলেকশন টিমে। এতে উচ্ছ্বসিত প্রীতিকার স্কুল, অভিভাবক, আত্মীয় ও সহপাঠীরা। আগামী ৮ জুলাই বেঙ্গালুরুতে জাতীয়স্তরের সেই ফুটবল ক্যাম্প শুরু হচ্ছে। সেখানে প্রীতিকা যোগ দিতে চলেছে।
দিনকয়েক আগে আলিপুরদুয়ারে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব ১৭ মহিলা সুব্রত কাপে (নর্থবেঙ্গল ক্লাস্টার) চ্যাম্পিয়ন হয় রায়গঞ্জের হাতিয়া হাইস্কুল। ৩-১ গোলে মালদহের হাতিমারি উচ্চ বিদ্যালয়কে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় হাতিয়া হাইস্কুলের ছাত্রীদের টিম। শনিবার হাতিয়া হাইস্কুলে সেই টিমকে সংবর্ধনার সময় স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রীতিকার ফুটবলে জাতীয়স্তরের সিলেকশন টিমে জায়গা পাওয়ার বিষয়টিও প্রকাশ্যে আনে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক অনিরুদ্ধ সিনহা বলেন, প্রীতিকা অত্যন্ত দরিদ্র কৃষকের মেয়ে হলেও ওর ফুটবলের প্রতি প্রবল টান। ধারাবাহিক আগ্রহ, পরিশ্রমের ফল প্রীতিকা পেয়েছে।
প্রধান শিক্ষক অনিরুদ্ধ জানান, আলিপুরদুয়ারে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব ১৭ মহিলা সুব্রত কাপে (নর্থবেঙ্গল ক্লাস্টার) আমাদের স্কুল চ্যাম্পিয়ন হয়। সেই টিমেরও ক্যাপটেন প্রীতিকা। সেখানে প্রীতিকা বেস্ট স্কোরার। ৯ টি গোল করেছে।
জাতীয়স্তরের সিলেকশন টিমে প্রীতিকা জায়গা পাওয়ার খবর দেরিতে আসায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। প্রধান শিক্ষকের কথায়, এই খবর স্কুলে এসে পৌঁছয় অনেক দেরিতে। বেঙ্গালুরুতে ৮ জুলাই থেকে ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার কথা প্রীতিকার। কিন্তু শুক্রবার রাতে মেইল মারফত আমরা সুখবরটি পাই। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে প্রীতিকাকে বেঙ্গালুরু পাঠাতে হবে। অল্প সময়ের মধ্যে স্কুল শিক্ষকদের থেকে আর্থিক সহযোগিতা নিতে হয়েছে।
সুব্রত কাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় হাতিয়া হাইস্কুলের ছাত্রীদের টিম এবার রাজ্যস্তরের ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে চলেছে। আগামী ৮ জুলাই থেকে কলকাতায় শুরু হতে চলা সেই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে দ্রুত রওনা হচ্ছে হাতিয়া হাইস্কুলের ছাত্রীদের টিমটি। প্রীতিকা বর্মন। - নিজস্ব চিত্র