নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: বর্ষবরণের রাতে পিকনিক চলাকালীন গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হল উত্তর দিনাজপুর জেলা যুব তৃণমূলের সহসভাপতি নব্যেন্দু ঘোষের।
নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: বর্ষবরণের রাতে পিকনিক চলাকালীন গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হল উত্তর দিনাজপুর জেলা যুব তৃণমূলের সহসভাপতি নব্যেন্দু ঘোষের।
অভিযোগ, বুধবার মধ্যরাতে রায়গঞ্জের মোহনবাটি বাজারের কাছে পিকনিক করার সময় নব্যেন্দু গুলিবিদ্ধ হন। তবে, এই ঘটনা ঘিরে রহস্য ক্রমেই বাড়ছে। জেলার রাজনৈতিক মহলও শোকস্তব্ধ। সকলের বক্তব্য, হাসিমুখের নব্যেন্দু ভালো ছেলে হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। রায়গঞ্জ থানার পুলিশ ওই রাতেই পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে খুনের মামলা রুজু করে তদন্তে নেমে শুভম পাল এবং পিন্টু সাহা নামে দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা গিয়েছে।
বৃহস্পতিবার এ ব্যাপারে রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার সুপার সোনাওয়ানে কুলদীপ সুরেশ বলেন, খুনের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দু’জনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে একটি আগ্নেয়াস্ত্র। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে খুনের মামলা রুজু হয়েছে। ধৃতদের এদিন জেলা আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাদের সাতদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।
রায়গঞ্জ শহরে অনেকদিন পর এভাবে গুলিচালানো এবং তার জেরে মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। রায়গঞ্জ পুরসভার প্রশাসক সন্দীপ বিশ্বাস বলেন,ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে নব্যেন্দু রাজনীতিতে নিজের জায়গা করে নিয়েছিল। এলাকার মানুষের বিপদে আপদে ছুটে যেত। সম্প্রতি ও জেলা যুব তৃণমূলের সহসভাপতির দায়িত্ব পায়। রায়গঞ্জের বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী বলেন, নব্যেন্দু আমাদের সহকর্মী ছিল। ওর মৃত্যু আমাদের কাছে বড় ক্ষতি। দলীয়ভাবে ওর পরিবারের পাশে থাকব।
এদিকে যুব তৃণমূল নেতার মৃত্যু ঘিরে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। যদিও পুলিশ জানিয়েছে গুলি চালিয়ে খুনের ঘটনার বিস্তারিত জানার কাজ শুরু করা হয়েছে। পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে খবর, মোহনবাটি বাজার সংলগ্ন এলাকায় ওই তৃণমূল নেতা তাঁর বাড়ির কাছে বুধবার বর্ষবরণের রাতে পিকনিকে শামিল হয়েছিলেন। সেই সময় পরিচিত কেউ নব্যেন্দুর বুকে গুলি করে। ওই ঘটনার পর তড়িঘড়ি তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসক নব্যেন্দুকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এদিন তাঁর মৃতদেহের ময়নাতদন্তের জন্য মেডিকেলের মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
মোহনবাটির যে এলাকায় গুলি চালানোর ঘটনাটি ঘটেছে, সেখানকার বাসিন্দারাও কার্যত তাজ্জব বনে গিয়েছেন। সম্বল বর্মণ নামে স্থানীয় এক বৃদ্ধের বক্তব্য, এবারই প্রথম নয়, গত চার-পাঁচ বছর ধরে মোহনবাটি বাজারের কাছে একটি গলির ভিতর নব্যেন্দু ও স্থানীয় কয়েকজন মিলে বর্ষবরণের রাতে পিকনিকের আসর বসায়। তবে কোনওদিনই অপ্রীতিকর কিছু ঘটনা ঘটেনি। এবারই প্রথম এমন ঘটনা। নব্যেন্দু ভালো ছেলে। ওর মৃত্যুর যথাযথ তদন্ত করুক পুলিশ। এই ঘটনায় যে বা যারা জড়িত, তাঁদের কঠোর শাস্তি চাই।