নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না রাহুল গান্ধী। মঙ্গলবারও সরব হলেন তিনি। লোকসভা থেকে বিধানসভা নির্বাচনের সময়ের ফারাকে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের কেন্দ্রে মাত্র ছ’ মাসে ২৯ হাজার ২১৯ ভোটার বেড়ে যাওয়ার খবরে সোচ্চার হয়েছেন তিনি। ভোট চুরি হয়েছে বলেই অভিযোগ করেছেন রাহুল গান্ধী। প্রশ্ন তুলেছেন, নির্বাচন কমিশন কেন চুপ? কেন ভোটার তালিকা এবং সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেওয়া হচ্ছে না। পাল্টা সওয়াল করেছেন দেবেন্দ্র ফড়নবিশও। নিজেদের স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতার ব্যাখা দিয়েছে নির্বাচন কমিশনও।
কংগ্রেস-এনসিপি (শারদ পাওয়ার)-শিবসেনা (উদ্ধবপন্থী)র মহা আঘাড়ি জোটের হারের পিছনে কোনও কারসাজি আছে বলেই রাহুলের অভিযোগ। লোকসভা ভোটের পর বিধানসভায় আচমকাই কী করে লক্ষ লক্ষ ভোটার বেড়ে গেল, তা নিয়ে লাগাতার কমিশনের কাছে প্রশ্ন রাখছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়া ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে। যার পাল্টা জবাব দিচ্ছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। তবে এবার ব্যক্তিগতভাবে কমিশনের সদর দপ্তরে এসে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের মুখোমুখি বসার জন্য রাহুলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলেই কমিশন সূত্রে খবর। যদিও রাহুল যাবেন কি না, জানা যায়নি। রাহুল এখন বিদেশে। লন্ডন হয়ে যাবেন ক্যালিফোর্নিয়া। সেখানে বোনঝির সমাবর্তনের অনুষ্ঠান রয়েছে।
রাহুলের প্রশ্ন, মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের কেন্দ্রে পাঁচ মাসে বেড়েছে ৮ শতাংশ ভোটার। কোনও কোনও বুথে ২০-৫০ শতাংশ ভোটার বেড়েছে। কমিশন কেন চুপ? কী লুকোনোর চেষ্টা চলছে? সোশ্যাল মিডিয়ায় রাহুল সওয়াল করতেই ফড়নবিশ পাল্টা বলেছেন, রাহুল গান্ধী হার মেনে নিতে না পেরে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। পশ্চিম নাগপুর কেন্দ্রেও লোকসভা আর বিধানসভা ভোটের মধ্যে ২৭ হাজার ৬৫ জন ভোটার বেড়েছে। সেখানে জিতেছেন কংগ্রেস প্রার্থী। উত্তর নাগপুরে বেড়েছে ২৯ হাজার ৩৪৮ ভোটার। জিতেছে কংগ্রেস। পুনের ওয়ার্ডগাঁও (শহর) কেন্দ্রে বেড়েছে ৫০ হাজার ৯১১ ভোট। জিতেছেন শারদ পাওয়ারের এনসিপি। তাহলে? কীসের ভিত্তিতে অভিযোগ? তাই রাহুল গান্ধীজি। আপনার জন্য একটিই লাইন, ঝুট বোলে কাউয়া কাটে! কটাক্ষ করেছেন দেবেন্দ্র ফড়নবিশ।