নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থা মৃত। নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপির যোগসাজশে এই সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার আর অস্তিত্বই নেই। অভিযোগ রাহুল গান্ধীর। শুক্রবার রাহুল বলেছিলেন, কংগ্রেস ছ’মাস ধরে ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে একটি তদন্ত করেছে। সেই রিপোর্ট যখন প্রকাশিত হবে তখন দেশবাসী চমকে যাবে। নির্বাচন কমিশন পার পাবে না। ওই তথ্যাবলি যেন একটি পরমাণু বোমা। শনিবার রাহুল গান্ধী কংগ্রেসের আইন সংক্রান্ত একটি সম্মেলনে বলেছেন, ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত যত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি বিপুলভাবে জয়ী হয়েছে, সেই বিস্ময়কর জয়ের পিছনে রয়েছে ভোটচুরি। কারচুপি করে জয়ের মার্জিন চুরি করেছেন প্রধানমন্ত্রী। রাহুলের বক্তব্য, ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে ১৫টি আসনের এই ভোট কারচুপির রেকর্ড, নথি আমাদের কাছে আছে। যদিও আমাদের বিশ্বাস অন্তত ৭০ থেকে ৮০ লোকসভা কেন্দ্রে এই কারচুপি হয়েছে। আর সেটা না হলে এবার বিজেপি এত কম আসন পেত যে, প্রধানমন্ত্রী পদে মোদিজি বসতেই পারতেন না। উদাহরণ দিয়ে রাহুল বলেছেন, একটি প্রমাণের কথা বলতে পারি, যেখানে সাড়ে ৬ লক্ষ প্রদত্ত ভোটের মধ্যে ধরা পড়েছে যে, দেড় লক্ষ ভোটার জাল। ওই ভোটারদের অস্তিত্বই নেই। আমাদের কংগ্রেস কর্মীরা ৬ মাস ধরে ভোটার পরিচয়পত্র নম্বর এবং ছবি ধরে ধরে প্রত্যেকের সন্ধান করতে বাড়ি বাড়ি গিয়েছে। তারপর এই বিরাট প্রতারণা ধরা পড়েছে। রাহুল এদিনও চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন যে, যখন আমরা পূর্ণাঙ্গ নথি সহ তথ্য প্রকাশ করব, সেটা হবে একটা অ্যাটম বোমা। গোটা বিশ্ব চমকে যাবে যে, এতদিন ধরে এভাবে ভোট চুরি করে এসেছে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন? রাহুল এদিন বলেন, আমাকে বোন প্রিয়াঙ্কা বলেছে যে, রাহুল তুমি আগুন নিয়ে খেলছো। আমি তাকে বলেছি, অবশ্যই আগুন নিয়ে খেলছি। কংগ্রেস এই আগুন নিয়েই খেলবে যতদিন না সফল হচ্ছে। ব্রিটিশরা কংগ্রেসের কিছু করতে পারেনি। বিজেপি কী করবে? এদিকে রাহুলের লাগাতার এই আক্রমণের জবাবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, রাহুল গান্ধীর এরকম তথ্য-প্রমাণহীন অভিযোগ ও বিবৃতি দেওয়ার অভ্যাস রয়েছে। এর আগেও তিনি এরকম অনেক বোমা ফাটানোর হুমকি দিয়েছেন। ফলশ্রুতি কিছুই হয়নি। এবারও আমরা তাঁকে চ্যালেঞ্জ করছি যে, প্রমাণ দিন এবং এখনই সেই অ্যাটম বোমা ফাটান দেখি! মুখে বলে লাভ নেই।



