সংবাদদাতা, বালুরঘাট: সন্ধ্যায় বেদিতে বসিয়ে সারারাত পুজো শেষে সূর্যোদয়ের আগেই নিরঞ্জন হয় দেবীর। আকাশে তারা থাকতেই আত্রেয়ী নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয় বালুরঘাট শহর সংলগ্ন রঘুনাথপুরের তারা মাকে। শতবর্ষ আগে ডাকাতদের শুরু করা পুজো আজও হয়ে আসছে সমস্ত রীতি নীতি মেনে। সোমবার রাতেও উত্সাহ উদ্দীপনার মাধ্যমে হয়েছে মায়ের আরাধনা। কথিত রয়েছে, প্রাচীন কালে জঙ্গলাকীর্ণ আত্রেয়ী নদীর ধারে ওই পুজো করতেন ডাকাতরা। তারা মায়ের পুজো করে রাতেই বিসর্জন দিয়ে ডাকাতি করতে বেরিয়ে পড়ত। বর্তমানে এই পুজো করছেন স্থানীয়রা। সোমবার রাতে পুজো শেষে ভোরে পাশেই আত্রেয়ী নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। পুজো কমিটির প্রবীণ সদস্য দেবাশিস মুন্সী বলেন, আগে রঘুনাথপুরের এই এলাকা জঙ্গলাকীর্ণ ছিল। এখানে ডাকাতের দল অস্থায়ী ছাউনি বানিয়ে পুজো করে রাতেই বিসর্জন দিয়ে চলে যেত। পরবর্তীতে আমাদের বাবা-কাকারা এই পুজো করেছেন। বর্তমানে আমরা এখানে পুজো করে আসছি। আরেক সদস্য দেবজ্যোতি মুন্সি বলেন, আমাদের ছোট করেই পুজো মণ্ডপ হয়। এবার নানা ধরনের আয়োজন করা হয়েছে। এখানে তারা মা খুবই জাগ্রত। প্রতিবার এলাকার মানুষ এই পুজোতে আনন্দে মেতে ওঠেন। এই পুজোয় বলিপ্রথা নেই। নিরঞ্জনের পর প্রসাদ বিলি হয়েছে। বালুরঘাট শহর ঢুকতেই রঘুনাথপুর এলাকায় আত্রেয়ীর ধারে গাছ-গাছালিতে ভরা একটি ছোট জায়গায় তারা মায়ের বেদি রয়েছে। আজও সেখানে কোনও স্থায়ী আসন বা মন্দির তৈরি করা হয়নি। প্রতিবছর পুজোর দিন খড়ের একটি অস্থায়ী ছাউনি গড়ে তোলা হয়। সেই ছাউনির নীচেই তারা মায়ের পুজো হয়। পুজোর দিন বেদিতে তারা মায়ের মূর্তি বসানো হয়। এরপর বৈষ্ণবমতে পুজো হয়। পুজো শেষে রাতে চার প্রহরের পরে আত্রেয়ীতে প্রতিমার নিরঞ্জন দেওয়া হয়। কালপ্রবাহে ডাকাতদল না থাকলেও তাদের হাত ধরে চালু হওয়া পুজো আজও হয়ে আসছে আত্রেয়ীর পাড়ে। আড়ম্বরে নয়, নিয়ম নিষ্ঠার মাধ্যমে তারামায়ের পুজো হয় রঘুনাথপুরে। ফাইল চিত্র



