নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: তদন্তের হাত থেকে বাঁচাতে বর্ধমান থেকে সোজা নেপালে পৌঁছে গিয়েছিল ভক্ত মণ্ডল। হাতে বেশ মোটা টাকাও রেখেছিল। ঘুরে বেড়াতে সমস্যা হয় নি। সেখানে কিছুদিন থাকার পর বিহার, তারপর দিল্লিতে চলে আসে। কিছুদিন কাটিয়ে পৌঁছে যায় গুজরাতে। সেখানে একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মী পরিচয় দিয়ে থাকছিল। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। লালবাজারের গোয়েন্দারা জালে তুলে নেন তাকে। আর ভক্ত গ্রেপ্তার হতেই ঘুম উবেছে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক কেলেঙ্কারিতে যুক্ত রাঘব বোয়ালদের। তাঁদের কেউ অবসর নিয়েছেন। তাহলেও নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারছেন না। কেননা, গোয়েন্দাদের জেরায় ভক্ত মুখ খুললেই কপালে শনির দশা। তা ভেবেই কাঁপতে শুরু করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাবশালীরা।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, সিআইডি’র হাত থেকে আর্থিক কেলেঙ্কারির তদন্তভার লালবাজার তুলে নেওয়ার পর বড় ব্রেক থ্রু আসে। আদালত অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার পদমর্যদার এক আধিকারিককে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তিনি সিট গঠন করে তদন্তে নামেন। সিটের সদস্যরা রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাঙ্কের আধিকারিক এবং কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। কে ওই দিন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিক্সড ডিপোজিটের নথি নিয়ে ব্যাঙ্কে গিয়েছিলেন, তা তাঁরা জানতে চান। নথি নিয়ে যাওয়া সেই কর্মীকে লালবাজারের গোয়েন্দারা টানা জেরা করেন। তাঁর কাছে থেকেই ভক্ত মণ্ডলের নাম তদন্তকারীরা জানতে পারেন। ওই কর্মী জেরায় জানায়, ভক্ত মণ্ডলের নির্দেশেই তিনি ব্যাঙ্কে ফিক্সড ডিপোজিটের নথি নিয়ে গিয়েছিলেন। এক আধিকারিক বলেন, ফিক্সড ডিপোজিট বা ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত অন্যান্য নথি অর্থ বিভাগের এক আধিকারিকের দায়িত্বে থাকে। তাঁর অজান্তে নথি বেরিয়ে যাওয়া বেশ রহস্যজনক। তা ছাড়া নথিতে এক আধিকারিকের সই ছিল। সেটা কে করেছিলেন, খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে থাকা ফিক্সড ডিপোজিটের প্রায় দু’কোটি টাকা অসাধু চক্র লোপাট করে দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনেক দেরিতে জানার পর বর্ধমান থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। ততদিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকা বক্তিগত অ্যাকাউন্টে যাওয়ার পর তা তুলেও নেওয়া হয়। নদীয়া, দিল্লি এবং কলকাতা সহ বিভিন্ন এলাকার ব্যাঙ্কের শাখা থেকে টাকা তুলে নেওয়া হয়। সিআইডি এই ঘটনার তদন্তে নামে। কিন্তু তারা তেমন সাফল্য পায়নি। লালাবাজারে তৈরি হওয়া সিট এই চক্রের শিকড়ে পৌঁছে গিয়েছে। তারা আরও কয়েকজন রাঘব বোয়ালকে জালে তোলার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। এক তদন্তকারী অফিসার বলেন, ফিক্সড ডিপোজিটের বাকি টাকাটাও তোলার পরিকল্পনা করেছিল চক্রটি। কিন্তু ব্যাঙ্ক আধিকারিকদের সন্দেহ হওয়ার কারণেই তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, ভক্ত অর্থ বিভাগে চাকরি করত। তাকে কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অবসরপ্রাপ্ত এক আধিকারিকের বিরুদ্ধেও কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ নিয়েছে।