ঘরোয়া উপাদানে ঝলমল ত্বক
  • ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ক্লান্তি কাটিয়ে ঘরোয়া উপায়ে রূপচর্চা করবেন কীভাবে? জানালেন কসমেটোলজিস্ট তথা অ্যাসথেটিক কনসালটেন্ট সায়ন্তন দাশ।

Advertisement

চারদিন মর্তে কাটিয়ে উমা ফিরে গিয়েছেন কৈলাসে। এবার লক্ষ্মীপুজো ও দীপাবলির প্রস্তুতি। তার মধ্যেই প্রতিদিনের চেনা রুটিনে ফিরেছেন সকলে। পুজোর চারদিন হইহুল্লোড় করে ত্বক ও চুলের অবস্থা বেশ খারাপ। তার উপর বাতাসে হিমেল হাওয়ার টান। ঋতু পরিবর্তনের এই সময় এমনিই বিশেষ যত্ন প্রয়োজন। সামান্য উপকরণে ঘরোয়া উপায়ে কীভাবে যত্ন নেবেন? 
পুজোর কয়েকটা দিন ত্বক পরিচর্যা হোক বা ডায়েট— সব ক্ষেত্রেই নিয়ম ভাঙা হয়েছে। রাত জাগার ফলে শরীর ডিহাইড্রেট হয়ে গিয়েছে। জাঙ্ক ফুড খাওয়ার প্রভাব পড়ছে শরীরে। অনেকে বলেন, জল খাচ্ছি। তাও শরীর ডিহাইড্রেট হয়ে থাকছে। সেক্ষেত্রে হয়তো ত্বকের কোষে জল ঠিকঠাক পৌঁছচ্ছে না। কী করবেন? সায়ন্তনের পরামর্শ, ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই এক গ্লাস জলে সামান্য হিমালয়ান পিঙ্ক সল্ট দিয়ে খেয়ে নিন। পিঙ্ক সল্ট ওয়াটার ম্যাগনেটের কাজ করে। এতে জল কোষে অ্যাবজর্ভ হবে। পুজোর পরে কয়েকটা দিন লিকুইড ডায়েটে থাকুন। ফলের রস, ডাবের জল হাফ পাতিলেবু দিয়ে খান। এতে বডি ডিটক্স করতে সাহায্য করবে। তাহলে ত্বক, চুলও ভালো থাকবে।
ত্বকের যত্ন
পুজোয় প্রচুর মেকআপ ব্যবহার করেছেন সকলে। এবার ত্বকের ভিতর থেকে যত্ন প্রয়োজন। টানা এক সপ্তাহ দু’বেলা ত্বক পরিষ্কার করুন। এসময় মেকআপ যতটা সম্ভব কম ব্যবহার করুন। ত্বকে অক্সিজেন সঠিকভাবে চলাচল করলে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরে আসবে। ঘরোয়া ক্লেনজার বা বাজরচলতি ক্লেনজার দিয়ে মুখ ধুয়ে মাইল্ড স্ক্রাব ব্যবহার করুন। কারণ প্রচুর ধুলো ত্বকে জমে থাকে। 
ঘরোয়া স্ক্রাব
ঘরোয়া উপাদানে তৈরি করুন স্ক্রাবার। ত্বকের ধরন বুঝে কোন উপাদান দিয়ে স্ক্রাবার তৈরি করবেন তা বিশেষজ্ঞের কাছে জেনে নিন।
• বেসন, চন্দন গুঁড়ো, গোলাপের পাপড়ির গুঁড়ো, ওটস পাউডার, আখরোটের খোসার গুঁড়ো, গোলাপের পাপড়ি চূর্ণ গোলাপ জলে মিশিয়ে মুখে ও শরীরের খোলা অংশে লাগিয়ে ১০ মিনিট রাখুন। হালকা স্ক্রাব করে ধুয়ে নিন।
• রাইস পাইডার, কফি বিন পাউডার, অ্যালোভেরা জুস মিশিয়ে লাগালে ব্রণপ্রবণ ত্বকে ভালো স্ক্রাবারের কাজ করে। 
• কফি বিন পাউডার, শুকনো নারকেল,  তুলসী পাতার রস, গোলাপ জল, যে কোনো এসেনসিয়াল অয়েল মিশিয়ে তৈরি স্ক্রাবার শুষ্ক ত্বকের জন্য ভালো। 
সেরাম
রূপচর্চার কোনো ধাপ এড়িয়ে গেলে কিন্তু লাভ হবে না। তাই স্ক্রাব করার পর সেরাম ব্যবহার করুন। ত্বক তৈলাক্ত হলে য়াসিনামাইড ও স্যালিসাইলিক অ্যাসিডযুক্ত সেরাম ব্যবহার করুন। ত্বক সাধারণ অথবা শুষ্ক হলে হায়ালুরনিক অ্যাসিডের সঙ্গে ভিটামিন সি যুক্ত সেরাম ব্যবহার করুন। ত্বকে বলিরেখা চলে এলে কোলাজেন যুক্ত সেরাম ব্যবহার করুন। 

ঘরোয়া প্যাক

• তৈলাক্ত ত্বকের জন্য মুলতানি মাটি, চন্দন গুঁড়ো, অ্যালোভেরার জুস, অ্যাপেল সিডার ভিনিগার মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে ত্বকে অ্যাপ্লাই করুন। শুকিয়ে গেলে সাধারণ জলে ধুয়ে ফেলুন।
• মুসুর ডাল বাটা, কস্তুরি হলুদ, চন্দন, দুধের মালাই মিশিয়ে তৈরি প্যাক মুখে, হাতে, গলায় লাগালে ত্বক আর্দ্র থাকবে, নরম হবে। উজ্জ্বলতা ফিরে আসবে। 
ট্রিটমেন্ট
একান্তই ঘরোয়া যত্নে উপকার না পেলে প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। স্যাঁলোতে গিয়ে হাইড্রা ফেসিয়াল করাতে পারেন। পুজোর আগে এই ফেসিয়াল যত ভালো কাজ করে, পুজোর পর ত্বকের মেরামতিতেও ততটাই ভালো কাজ করে। ত্বকের ধরন বুঝে অক্সিজেনো ট্রিটমেন্ট করতে পারেন। এতে ত্বকের অভ্যন্তরে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়বে।
চুলের যত্ন

পুজোর সময় চুলেও প্রচুর হিট দিয়ে নানারকম স্টাইলিং করা হয়েছে। পুজোর পর অবশ্যই হেয়ার স্পা করান। এর সঙ্গে স্ক্যাল্পের ট্রিটমেন্টও করে দেওয়া হয়। এছাড়া নারকেল তেলের মধ্যে ছাঁচি পেঁয়াজ, মেথি, ধনে, কালো জিরে, কারিপাতা, ১০টা জবা ফুলের পাপড়ি, আমলকী কুচি দিয়ে তেল ফুটিয়ে নিন। তারপর সেই তেল প্রিজার্ভ করে সপ্তাহে দু’দিন করে মাসাজ করুন। দু’ঘণ্টা পরে শ্যাম্পু করে নিন। 
ত্বকের ধরন অনুযায়ী ফুট স্পা বা পেডিকিওর নিন। ঝরঝরে লাগবে। 
স্বরলিপি ভট্টাচার্য