সংবাদদাতা, বোলপুর: বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে সহযোগী অধ্যাপক (এসটি) পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে জাতিবিদ্বেষের অভিযোগ তুললেন কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তুষার পাটুয়া। এই বিষয়ে তিনি ভারত সরকারের উপজাতি বিষয়ক মন্ত্রকে ইমেল মারফত জানিয়ে হস্তক্ষেপেরও আবেদন করেছেন। তাঁর অভিযোগ, বিশ্বভারতীতে নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতি চলছে, যেখানে যোগ্য ব্যক্তিদের নির্বাচিত করা হচ্ছে না ও অন্যায়ভাবে উপজাতি পদ থেকে সাধারণ শ্রেণিতে রূপান্তরিত করার ষড়যন্ত্র চলছে। এই বিষয়ে বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, এই বিষয়টি যেহেতু বিচারাধীন তাই কিছু মন্তব্য করা যাবে না। তবে, এই মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া অবধি নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্ভব নয় বলেই জানা গিয়েছে বিশ্বভারতী সূত্রে। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েকটি বিভাগেও সাময়িক নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে।
অভিযোগপত্রে এই অধ্যাপক উল্লেখ করেছেন, তিনি ২০১২ সালের ৮ জুন থেকে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। গত বছরের জুন মাসে তিনি বিশ্বভারতীর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সহযোগী অধ্যাপক(এসটি) পদে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করেন। এর আগেও ২০১৯ এবং ২০২১ সালে একই পদের জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু কোনো কারণ না দেখিয়ে তাঁর আবেদন বাতিল করা হয় বলে দাবি। তিনি আরো জানান, ২০২৬ সালের ৮ জানুয়ারি বিশ্বভারতীর একটি নোটিস থেকে তিনি জানতে পারেন যে, ১২ জানুয়ারির ইন্টারভিউয়ের সংক্ষিপ্ত তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ পড়েছে। যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও তাঁকে ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। তাঁর দাবি, এসটি পদকে সাধারণ শ্রেণিতে রূপান্তরের একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা চলছে এবং জাতিগত বৈষম্যের শিকার হয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে তিনি এই বিষয়টি নিয়ে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং জাতীয় তফসিলি উপজাতি কমিশন সহ একাধিক দপ্তরে অভিযোগ জানান। জাতীয় তফসিলি উপজাতি কমিশন ইতিমধ্যে তাঁর অভিযোগ গ্রহণ করে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। ন্যূনতম যোগ্যতা পূরণ করার পরও কোন নীতির ভিত্তিতে তাঁকে বাদ দেওয়া হল, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। এমনকি, বিষয়টি নিয়ে দ্রুত স্বচ্ছ তদন্ত ও ন্যায্য সমাধানের দাবিতে তিনি কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এই বিষয়ে বিশ্বভারতীতে আবেদনকারী অধ্যাপক তুষার পটুয়া বলেন, বিশ্বভারতীর পক্ষ থেকে কোনো সদুত্তর না পেয়ে মন্ত্রককে জানাতে বাধ্য হয়েছি। এই নিয়োগের পিছনে একটি বড় দুর্নীতি রয়েছে। এতদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো এই বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কিছুই বলছে না। সুবিচারের আশায় আমরা অপেক্ষা করছি।