Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রবি ঠাকুর শান্তিতে নোবেল? এবার বিতর্কে বিজেপি সভাপতি নীতিন

কবিগুরু রচিত দেশাত্মবোধক গানের পঙ্‌ক্তি ‘চলায় চলায় বাজবে জয়ের ভেরী’। বাঙালি শুনেছিল ‘চোলায় চোলায়...’। একুশে চেষ্টা করে লাভ হয়নি!

রবি ঠাকুর শান্তিতে নোবেল? এবার বিতর্কে বিজেপি সভাপতি নীতিন
  • ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৭:০১
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: কবিগুরু রচিত দেশাত্মবোধক গানের পঙ্‌ক্তি ‘চলায় চলায় বাজবে জয়ের ভেরী’। বাঙালি শুনেছিল ‘চোলায় চোলায়...’। একুশে চেষ্টা করে লাভ হয়নি! ২৬’এ ফের বাঙালি ‘সাজার’ মরিয়া চেষ্টা! আর তা করতে গিয়ে বাঙালি মননে চিরস্থায়ী জায়গা করে নেওয়া মনীষীদের নাম আর তাঁদের কৃতিত্ব ধুলিসাৎ করে দিচ্ছেন পদ্মপার্টির নেতারা। এবং নিজেরাও ‘লেজে গোবরে’ হচ্ছেন। ‘বঙ্কিমদা’, ‘বঙ্কিমদাস চ্যাটার্জি’, ‘মাস্টার’, ‘রবীন্দ্রনাথ সানিয়াল’ এবং ‘নেতাজি সুভাষ প্যালেসে’র পর ঠিক হয়েছিল, ‘ভালো করে পড়াশোনা করে’ই বক্তৃতা দেওয়া হবে। বাংলা, বাঙালির সংস্কৃতি আর মনীষীদের সম্পর্কে শিখতে হবে ‘বহিরাগত’ প্রচারকদের। হোমটাস্ক বাধ্যতামূলক—সপ্তাহখানেক আগের এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বোধহয় অবহিত করা হয়নি বিজেপির সর্বভারতীয় নয়া সভাপতি নীতিন নবীনকে। আর সে কারণেই বুধবার দুর্গাপুরে দলীয় কর্মিসভায় তিনি অবলীলায় বললেন—‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন।’ বলার সময়, কবিগুরুর পদবির সঙ্গে ‘জি’ লাগিয়ে একেবারে উত্তর ভারতীয় ঢঙে আগাগোড়া ‘ঠাকুরজি’ বলে যান নীতিন। তুমুল করতালিও হয় তা শুনে। তবে তা ‘কটাক্ষ’ নাকি ‘আনুগত্যে’র, জানা যায়নি।

Advertisement

বিষয়টি নিয়ে তুমুল আলোড়ন শুরু হয়েছে রবীন্দ্রপ্রেমী বাঙালি মহলে। বাংলা দখলের স্বপ্নে বিভোর পদ্মপার্টির ছোটো, বড়ো, মাঝারি নেতারা ভুল উচ্চারণ আর তথ্য পরিবেশনা কবে বন্ধ হবে, তা নিয়েই চিন্তায় সব মহল। তবে হোমটাস্ক করার কথা যে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতিকে কেউ মনে করাননি, তা বোঝা গিয়েছিল মঙ্গলবারই। দুর্গাপুরের কমল মেলার উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে নীতিন নবীন কবিগুরুর স্বপ্নের শান্তিনিকেতন সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘শান্তিনিকেতন সংস্থা’। সর্বভারতীয় সভাপতির ভুল সংশোধন করিয়ে দেওয়ার ‘স্পর্ধা’, বঙ্গ বিজেপির কেউ মঙ্গলবার দেখাননি, বুধবারও না।

বুধবার ঠিক কী বলেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি? বলেছেন, ‘কবিগুরু দেশ সহ বিশ্বকে শিক্ষার নতুন পদ্ধতি দিয়েছেন। এর জন্য তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে আমি স্মরণ করছি।’ বিহার থেকে উঠে আসা বিজেপির সর্বভারতীয় নয়া সভাপতির এহেন মন্তব্য যেমন বাঙালি অস্মিতাকে আঘাত করেছে, তেমনই সমাজমাধ্যমে তা হাসির খোরাকও হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বেশ অস্বস্তিতে বঙ্গ বিজেপি। ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামতে হয় রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে। রানিগঞ্জে মিটিংয়ের ফাঁকে এদিন তিনি বলেন, ‘আসলে সর্বভারতীয় সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বিশ্বশান্তির প্রতীক হিসাবে তুলে ধরতে চেয়েছেন। তৃণমূল যদি সমালোচনা করে, তাদের বলতে চাই, তাঁর (নীতিন নবীন) যা পাণ্ডিত্য, ওদের শেখাতে পারেন।’ তবে কোন পাণ্ডিত্যে সাধারণতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে দিল্লিতে ট্যাবলো প্রদর্শন চলাকালীন ঘোষিকা শহিদ মাতঙ্গিনী হাজরাকে ‘মানতাগিনি’ করে দিয়েছিলেন, তা অবশ্য বঙ্গ বিজেপির কোনো নেতাই খোলসা করেননি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ