


পক্ষে
দেবদত্তা রায়
‘তুমি রবে নীরবে, হৃদয়ে মম’— যিনি আজও বাঙালির হৃদয়ে সরব হয়ে আছেন, তিনি রবীন্দ্রনাথ। তাঁকে ছাড়া বাঙালির প্রেম, দুঃখ— সবই যেন অসম্পূর্ণ। তিনি আজও প্রবীণ ও নবীন দুই প্রজন্মের মনে একই ভাবে বিরাজমান। বাংলার ইতিহাসে বহু আইকন থাকলেও বিশ্বকবিই একমাত্র, যাঁকে ছাড়া বাঙালির অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না।
স্কুল ছাত্রী
জ্যোতি বিশ্বাস
বাঙালির জীবনে মননে রবীন্দ্রনাথ এক বটবৃক্ষ, যার ছায়ায় যুগের পর যুগ খুঁজে পায় শান্তি। বাঙালির নববর্ষ শুরু হয় বৈশাখে আর গুরুদেবেরও আবির্ভাব এই বৈশাখেই। যতই পাশ্চাত্য প্রভাব আসুক না কেন বাঙালি আপন করে নেয় গুরুদেবের সাহিত্য, সঙ্গীত, শিল্প। বাঙালির একমাত্র আন্তর্জাতিক আইকন হিসেবেই তিনি অমর হয়ে থাকবেন।
স্নাতক স্তরের ছাত্রী
দেবযানী মিত্র দত্ত
রবীন্দ্রনাথকে বাঙালির আন্তর্জাতিক আইকন বলা হয়, কারণ তিনি জীবনের সর্বক্ষেত্রে মানব প্রেমের বার্তা দিয়েছেন। যা বিশ্বের মানুষকে স্পর্শ করেছে। তিনি প্রথম বাঙালি ১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের জন্য নোবেল পুরস্কার পান, যা তাকে বিশ্বের মঞ্চে পরিচিত করে। তাঁর কবিতা, গল্প, বহু ভাষায় অনুদিত হয়েছে। তিনি বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠা করেন।
গৃহ শিক্ষিকা
তুষার ব্যানার্জী
সমাজসংস্কারে রাজা রামমোহন রায় ও বিদ্যাসাগর, চলচ্চিত্রে সত্যজিৎ রায়, অর্থনীতিতে অমর্ত্য সেন, ক্রিকেটে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বাংলার মুখ। শ্রীরামকৃষ্ণ এবং স্বামীজির বাস আমাদের ধমনীতে। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ আছেন বাঙালির হৃদমাঝারে। নোবেল অর্জন, দু’টি দেশের জাতীয় স্তোত্র রচনা— সর্বত্র তিনি বরণীয়। তাঁর তৈরি বিশ্বভারতী মুক্তপাঠের পীঠভূমি। বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে ধর্মনির্বিশেষে সকলকে শামিল করেন। জালিয়ানওয়ালাবাগের গণহত্যার প্রতিবাদে নাইট খেতাব ত্যাগ করেন। তাই তিনি বাঙালির একমাত্র আন্তর্জাতিক আইকন।
অবসরপ্রাপ্ত ব্যাঙ্ক কর্মী
বিপক্ষে
মৈত্রী চক্রবর্তী
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অবশ্যই বিশ্বজোড়া খ্যাতিসম্পন্ন এবং বাংলা সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান প্রতিনিধি। তবে বাঙালির মধ্যে আরও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ব্যক্তিত্ব আছেন। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু স্বাধীনতা আন্দোলনে বিশ্বপরিচিত। স্বামী বিবেকানন্দ তাঁর বাণীর মাধ্যমে বিশ্বকে প্রভাবিত করেছেন। সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্রে সম্মান অর্জন করেছেন। তাই রবীন্দ্রনাথ সর্বশ্রেষ্ঠদের একজন, ‘একমাত্র’ নন।
শিক্ষিকা
দেবজিৎ দত্ত
প্রথমত, ‘আইকন’-এর ধারণাটাই ব্যক্তিবিশেষে পরিবর্তনশীল। রবীন্দ্রনাথ ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম নোবেলজয়ী। কিন্তু তাঁর পাশাপাশি তাঁর সমসাময়িক কিংবা পরবর্তী সময়ে আরও অনেক বাঙালি বিশ্বের দরবারে বাংলা তথা ভারতের নাম উজ্জ্বল করেছেন। স্বামী বিবেকানন্দের মতাদর্শ বাংলা ও ভারতের সীমানা ছাড়িয়ে সারা বিশ্বকে উদ্বুদ্ধ করেছে। সত্যজিৎ রায় বাংলা চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক সম্মান এনে দিয়েছেন। নেতাজির ভাবনা ও দেশপ্রেম বাঙালিকে স্বাধীনতার নতুন দিশা দেখিয়েছে। বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু থেকে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন প্রমুখরা জগৎসভায় বাঙালির প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তাঁরা প্রত্যেকেই বাঙালির কাছে আদর্শ।
কলেজ ছাত্র
সৃজন সাহা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাঙালির অন্যতম আন্তর্জাতিক আইকন হলেও, একমাত্র বলা ঠিক নয়। বিশ্বমঞ্চে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পথের পাঁচালী’র উপর ভিত্তি করে সত্যজিৎ রায়ের কালজয়ী চলচ্চিত্র ভারতের ঝুলিতে নিয়ে এসেছে অস্কার। দর্শনে স্বামী বিবেকানন্দ, বিজ্ঞানে জগদীশচন্দ্র বসু ও সত্যেন্দ্রনাথ বসুর মতো ব্যক্তিত্বরা বিশ্ব বিখ্যাত। ভারতকে নোবেল উপহার দিয়েছেন অমর্ত্য সেন, অভিষেক বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের ভুললে চলবে না।
ছাত্র
সৌমিত্র মজুমদার
রবিঠাকুরের ভাবাদর্শে ক’জন বাঙালি তাঁদের জীবন অতিবাহিত করেন সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। কোনো মহামানবই তাঁদের বাণীতে হিংসা, বিবাদ, বিভেদ অথবা জাতিগত বৈষম্যের মন্ত্র দেননি। তবু সমাজের বুকে নিত্য নিঠুর দ্বন্দ্ব! আমরা ঘটা করে ২৫ বৈশাখ এবং ২২ শ্রাবণ দিনদু’টি উদযাপন করি ঠিকই, গঙ্গাজলে গঙ্গাপুজোও সারি। কিন্তু তিনিই যে একমাত্র আন্তর্জাতিক আইকন তা কখনো মুখ ফুটে স্বীকার করি না। কর্মক্ষেত্রেও তার তেমন কোনো বহিঃপ্রকাশ নেই।
অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী