Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাঁধের কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন, মারপিট

ভাঙন রোধের কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে কাজের কাজ কিছুই হবে না। বুধবার মথুরাপুরের শঙ্করটোলায় বাসিন্দারা এমন অভিযোগ তুলতেই ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে গেল।

বাঁধের কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন, মারপিট
  • ২১ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, মানিকচক: ভাঙন রোধের কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে কাজের কাজ কিছুই হবে না। বুধবার মথুরাপুরের শঙ্করটোলায় বাসিন্দারা এমন অভিযোগ তুলতেই ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে গেল। গ্রামবাসীদের দাবি,তাঁদের উপর চড়াও হয় ঠিকাদারের লোকজন। দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হলে পুলিস পরিস্থিতি সামলায়।

Advertisement

স্থানীয়দের অভিযোগ,ভাঙন রোধের কাজে ব্যবহৃত বালির বস্তা একেবারে নিম্নমানের। এমনকী প্রত্যেকটিতে অত্যন্ত কম মাটি ভরে বাঁধ দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে জল একটু বাড়লেই ভেসে যাবে বস্তাগুলি। এদিনের ঘটনার পর  বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে সেচ দপ্তর।
দু’দিন আগে ফুলহার ফুঁসে ওঠায় মথুরাপুর শঙ্করটোলা ফেরিঘাটে ব্যাপক ভাঙন হয়। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রায় একশো মিটার এলাকায় ফুলহার গ্রাস করে বিস্তীর্ণ এলাকার জমি, বাড়ি। তলিয়ে যায় কয়েকটি ট্রাক্টর, বাইক ও চারচাকা। সেগুলি বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সাহায্যে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। ফুলহারের হঠাৎ ভাঙনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন মথুরাপুরের বাসিন্দারা। বিশেষ করে শঙ্করটোলা ও পাঠানপাড়ায় ভাঙনের তীব্রতা বেশি ছিল।
সোমবার সকাল থেকেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ভাঙন রোধের কাজ শুরু করে সেচদপ্তর। প্রথম দিন স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরদারিতে কাজ ভালো হলেও তারপর থেকে মান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। বাসিন্দাদের দাবি,  ভাঙনের কাজে ব্যবহৃত বস্তায় নির্দিষ্ট পরিমাণের চেয়ে অনেক কম মাটি ভরা হচ্ছে। বস্তাগুলির অবস্থাও একদম ভালো নয়। সেগুলির বেশিরভাগই ছেঁড়া। বারবার বস্তা বদল করার কথা বললেও ঠিকাদার বাসিন্দাদের দাবিতে কান দেননি। বাধ্য হয়ে পাঠানপাড়ার বেশকিছু যুবক বুধবার শঙ্করটোলা ফেরিঘাটে গিয়ে নিম্নমানের কাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। নিয়ম মেনে কাজ করার কথা বলেন তাঁরা। অভিযোগ,এমন সময় ঠিকাদারের বেশকিছু লোক ওই যুবকদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়ে। কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় হাতহাতি। ঘটনাস্থলে থাকা পুলিস আধিকারিক পরিস্থিতি সামাল দেন।
এবিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মহম্মদ সোহেল খান বলেন, এখানে ভাঙন রোধের কাজের নামে লুট চলছে। এমনকী এই লুটে স্থানীয়দের একাংশ যুক্ত। ভাঙনের কাজে ব্যবহৃত বালির বস্তা সম্পূর্ণ ভর্তি করা হচ্ছে না। অনেক সময় অর্ধেক বা তার কম মাটি ভরা হচ্ছে। বেশিরভাগ বস্তা ছেঁড়া দেখে প্রতিবাদ জানালে আমাদের উপরে চড়াও হয় ঠিকাদারের লোকরা। এভাবে ভাঙন আটকানো সম্ভব নয়। তবে, এদিনের প্রতিবাদের পর কাজের মান কিছুটা ভালো হয়েছে বলে দাবি করেছেন সোহেল সহ স্থানীয়রা।
যদিও মানিকচকের সেচ দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, নিয়ম মেনে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধের কাজ হচ্ছে মথুরাপুরের শঙ্করটোলায়। স্থানীয় একটি গ্রামের বেশকিছু ব্যক্তি একে অপরের সঙ্গে বসায় জড়িয়েছিলেন। নিম্নমানের কাজের অভিযোগ একেবারে ভিত্তিহীন।
ঠিকাদার আনন্দ ঘোষের দাবি,আমাদের কর্মীদের সঙ্গে কোনও ঝামেলা হয়নি। কমিশন নিয়ে গ্রামের দু’পক্ষের মধ্যে অশান্তি হয়েছে। 
-নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ