নয়াদিল্লি: লক্ষ্য ছিল সরকারি কাজের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা। আর সেই লক্ষ্যেই কেন্দ্রের পূর্বতন মনমোহন সিং সরকার তৈরি করেছিল তথ্যের অধিকার (আরটিআই) আইন। ইউপিএ সরকারের আমলের সেই ‘স্বচ্ছতা’ আইন সোমবার ২১ বছর পূর্ণ করেছে। কিন্তু সম্প্রতি বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, বিধিতে বদল এনে আরটিআই আইনকে ‘ঠুঁটো’ করছে বর্তমান মোদি সরকার। কতটা সারবত্তা রয়েছে সেই অভিযোগে? একুশ পেরিয়েও এই আইন ‘সাবালক’ হতে পারল? এইসব প্রশ্নের আবহেই সামনে আসছে একঝাঁক তাৎপর্যপূর্ণ পরিসংখ্যান। জানা গিয়েছে, চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত দেশের ২৮টি তথ্য কমিশনে ঝুলে রয়েছে অন্তত ৩ লক্ষ ৮৫ হাজার আবেদন ও অভিযোগ। নিষ্পত্তি কতদিনে, তার সদুত্তর মেলা মুশকিল। শুধু তাই নয়, কোনো রকম নির্দেশ জারি না করেই আবেদন ফিরিয়ে দেওয়ার বহর বৃদ্ধি উদ্বেগ তৈরি করছে।
আরটিআই আইনের ২১ বর্ষ পূর্তির লগ্নে বিগত এক বছরের রিপোর্ট কার্ড কেমন? সতর্ক নাগরিক সংগঠন (এসএনএস)-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ন’টি তথ্য কমিশন ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে কোনো নির্দেশ ছাড়াই ৩৭,৭০১টি মামলা ফিরিয়ে দিয়েছে। এবিষয়ে তথ্য জানিয়েছে শুধুমাত্র ওই ন’টি কমিশনই। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশন (সিআইসি) ফিরিয়ে দিয়েছে আবেদন ও অভিযোগ সংক্রান্ত মোট ১৪,৬০৩টি মামলা। এরপরেই রয়েছে মহারাষ্ট্র রাজ্য তথ্য কমিশন (১৪,১৪০টি), বিহার (৪,৪১৭টি) এবং গুজরাট (৩,২৭৬টি)।
এসএনএস-এর প্রতিষ্ঠাতা অঞ্জলি ভরদ্বাজ জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকার ও কিছু রাজ্য সরকার দ্বিতীয় আপিল দাখিলের জন্য নির্দিষ্ট ফর্ম নির্ধারণ করে দিয়েছিল। সেই ফর্ম অনুসরণ না করা মামলাগুলি ফেরত পাঠিয়েছে কমিশনগুলি। পাতার নম্বর না থাকার মতো অতি সাধারণ ত্রুটির কারণেও আবেদন ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কমিশনকে অবশ্যই জনগণের তথ্য জানার অধিকার সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সহজতর করতে হবে। তথ্য প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় আমলাতান্ত্রিক বাধা সৃষ্টি করা যাবে না। এসএনএস-এর আরেক সদস্য অমৃতা জোহরি বলেন, মৌলিক উপাদান সরবরাহ করা হলে আবেদন গ্রহণ করা উচিত কমিশনগুলির। নগণ্য কারণে আবেদন ও অভিযোগ ফেরত দেওয়ার প্রথা বন্ধ করারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।



