Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

৫ মিনিটে বর্ধমান রোড থেকে দুষ্কৃতীরা ঘোষপুকুরে, ছুটির দিনে শিলিগুড়িতে ট্রাফিকের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন

এ যেন ক্রাইম থ্রিলার ছবির প্লট। লুট করে বাইক ছুটিয়ে পগারপাড় দুষ্কৃতীরা। হতবাক পুলিস। রবিবার দুপুরে শিলিগুড়ি শহরে সোনার দোকানে ডাকাতির পর ঠিক এমনটাই ঘটেছিল।

৫ মিনিটে বর্ধমান রোড থেকে দুষ্কৃতীরা ঘোষপুকুরে, ছুটির দিনে শিলিগুড়িতে ট্রাফিকের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন
  • ২৫ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

তারক চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি: এ যেন ক্রাইম থ্রিলার ছবির প্লট। লুট করে বাইক ছুটিয়ে পগারপাড় দুষ্কৃতীরা। হতবাক পুলিস। রবিবার দুপুরে শিলিগুড়ি শহরে সোনার দোকানে ডাকাতির পর ঠিক এমনটাই ঘটেছিল। সময় মাত্র পাঁচ মিনিট। তারই মধ্যে শিলিগুড়ি থেকে বাইক ছুটিয়ে ফুলবাড়ি ঘোষপুকুর টোলপ্লাজা পার করে চার দুষ্কৃতী। ঘড়ির কাঁটায় ৩টে ৮ মিনিটে শেষবারের মতো বর্ধমান রোডের সিসি ক্যামেরায় বাইক সহ চার দুষ্কৃতীকে দেখা গিয়েছিল দ্রুতগতিতে ছুটতে। এরপর ফুলবাড়ি ঘোষপুকুর টোলপ্লাজায় ৩টে ১৩ মিনিটে তাদের ফের দেখা যায়। পুলিসের অনুমান, সড়কপথে বিহার হয়ে পালিয়ে গিয়েছে দুষ্কৃতীরা। 

Advertisement

রবিবার ছুটির দিনের ঢিলেঢালা নজরদারি থাকায় পুলিসের চোখ এড়িয়ে দুষ্কৃতী দল এইভাবে বেরিয়ে গিয়েছিল বলে তদন্তকারী অফিসারদের অনুমান। তবে, তদন্তকারীদের একাংশের অনুমান, অন্যান্য গ্যাংয়ের মতো বিহারে গিয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে গিয়েছে দলের সদস্যরা। হালফিলের ঘটনাগুলিতে যেভাবে দেখা যায় দুষ্কৃতী দল ঘটনা ঘটানোর পরে একে একে আলাদা হয়ে গিয়ে নতুন পরিকল্পনা শুরু করে, এক্ষেত্রেও তেমনটা ঘটতে পারে। বিষয়টিকে মাথায় রেখেই বিহার, দিল্লি এবং উত্তরপ্রদেশে দল পাঠিয়েছে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিস। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও সাফল্য হাতে আসেনি তাদের। 
অন্যদিকে, ঘটনার পর যে দুই দুষ্কৃতীকে ধরা হয়েছিল, তাদেরকে পুলিস অফিসাররা লাগাতার জেরা করছেন। ইতিমধ্যেই ওই দুষ্কৃতীদের হিলকার্ট রোডের জুয়েলারি দোকানে এনে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। তাদের জেরা করে বেশকিছু তথ্য হাতে এসেছে পুলিসের। একাধিক এলাকায় তাই আরও বেশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অন্য কয়েকটি রাজ্যের পুলিসের সঙ্গেও যোগাযোগ করে সিসি ক্যামেরায় পাওয়া দুষ্কৃতীদের ছবি পাঠানো হয়েছে। দুষ্কৃতীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে তৎপর পুলিস। 
শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিসের ডিসিপি (পূর্ব) রাকেশ সিং বলেন, আমরা লাগাতার তদন্ত করে জুয়েলারি দোকানে ডাকাতি কাণ্ডে জড়িত দুষ্কৃতী দলের বাকি সদস্যদের ধরার চেষ্টা করছি। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনের লোকেশন ট্র্যাক করা হয়েছে। 
দ্রুতগতিতে বাইক ছোটানো হলেও ট্রাফিক পুলিস কী করছিল, এই প্রশ্নের উত্তরে মেট্রোপলিটন পুলিসের ট্রাফিকের দায়িত্বে থাকা ডিসিপি বিশ্বচাঁদ ঠাকুর বলেন, আমরা বিভিন্ন রাস্তার ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। ক্যামেরাগুলির সময় সঠিকভাবে মেলানো ছিল কি না, সেটাও দেখার দরকার রয়েছে। তদন্তকারী অফিসারদের সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যে বেশকিছু জায়গায় ওই অপরাধীদের সন্ধানে একাধিক সূত্রকে কাজে লাগানো হচ্ছে। দলের সদস্যরা বিহার, উত্তরপ্রদেশ লুকিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে। তবে, কয়েক কেজি সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু নিয়ে বেশিদিন তারা এক জায়গায় লুকিয়ে থাকবে না বলেও দাবি করছেন তদন্তকারী অফিসাররা। সেকারণে খুব তাড়াতাড়ি ওসব বিক্রি করার জন্যই নিজেদের ডেরা থেকে বের হবে তারা। তবে তার আগেই দুষ্কৃতীরা গ্রেপ্তার হয়ে যাবে বলে দাবি করেছেন পুলিসের শীর্ষকর্তারা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ