নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: দিনক্ষণ ঘোষণা করেও বৈঠক বাতিল করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ‘বোর্ড অব কাউন্সিলের’ বৈঠক না করেই শোকজের উত্তর দিয়েছিলেন পুরুলিয়া পুরসভার চেয়ারম্যান। যা নিয়ে ফের প্রশ্নের মুখে পড়লেন তিনি। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শোকজের উত্তর পেতেই পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর জানতে চেয়েছে, বোর্ড অব কাউন্সিলের বৈঠক হয়েছে কি না? আর বৈঠক হলে তার নোটিশ, রেজ্যুলিউশন বুক এবং অ্যাটেনডেন্স শিটের প্রতিলিপি পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি এনিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তরফে চিঠিও পাঠানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার পুরসভার চেয়ারম্যান নবেন্দু মাহালি তড়িঘড়ি বৈঠকের দিনক্ষণ ঘোষণা করলেন। আগামী ১ ডিসেম্বর সোমবার বোর্ড অব কাউন্সিলের বৈঠক ডাকা হয়েছে। যা নিয়ে ফের একবার বিতর্ক শুরু হয়েছে। দলীয় কাউন্সিলারদের একাংশ চেয়ারম্যানের ‘একনায়কতন্ত্র’ ইস্যুতে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন।
অন্যদিকে, বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বও কটাক্ষ করতে শুরু করেছেন। যদিও পুরসভার চেয়ারম্যান নবেন্দুবাবু বলেন, বৃহস্পতিবার দপ্তরের তরফে চিঠি পাঠিয়ে বেশকিছু বিষয় তাদের জানাতে বলা হয়েছে। তাই দ্রুত বৈঠক ডাকা হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। ওই বৈঠকে শো-কজ ইস্যুতে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। বৈঠক শেষে দপ্তরের তরফে বাতলে দেওয়া নির্দেশ মোতাবেক সমস্ত নথি পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
উপযুক্ত নাগরিক পরিষেবা দিতে ব্যর্থ তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত পুরুলিয়া পুরসভা বোর্ড। জঞ্জাল অপসারণ থেকে শুরু করে নিকাশি ও রাস্তা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং পানীয় জল পরিষেবা নিয়ে প্রশ্ন তুলে গত ১৯ নভেম্বর পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের তরফে পুর বোর্ডকে শোকজ করে। সাতদিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়। নাগরিক পরিষেবা দিতে ব্যর্থ এই পুরবোর্ড কেন ভেঙে দেওয়া হবে না? তা বলা হয়। এরপরই পুরসভার চেয়ারম্যান তড়িঘড়ি বৈঠক ডাকেন। যদিও সেই বৈঠক বাতিল করা হয়।
শো-কজ ইস্যুতে দলীয় কাউন্সিলারদের একাংশ চেয়ারম্যানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এই পরিস্থিতিতে কোনও বৈঠক না করেই চেয়ারম্যান শো-কজের উত্তর দেন। তাতেই নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।
চেয়ারম্যানের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ দলীয় কাউন্সিলারদের একাংশ সোমবারের বৈঠকে যোগ দেবেন কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এনিয়ে প্রকাশ্যে কেউ মন্তব্য করতে না চাইলেই, কাউন্সিলারদের একাংশ বৈঠকে যোগ না দেওয়ার পক্ষেই সওয়াল করছেন। তাঁদের দাবি, চেয়ারম্যান একনায়কতন্ত্র কায়েম করতে বেশি সচেষ্ট। সেজন্যই এই দুরবস্থা। এবিষয়ে পুরসভার বিরোধী দলনেতা প্রদীপ মুখোপাধ্যায় বলেন, দলীয় কাউন্সিলারদের একাংশ যে চেয়ারম্যানের পাশে নেই তা প্রতি পদেই স্পষ্ট হয়েছে। এবার আরও একবার স্পষ্ট হল। যদিও চাপে পড়েই তিনি ফের বৈঠক ডেকেছেন। -নিজস্ব চিত্র