নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত পুরুলিয়া পুর বোর্ড ভেঙে দেওয়া হল। মঙ্গলবার বিকেলে এই সংক্রান্ত একটি চিঠি পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের তরফে পুরুলিয়া পুরসভায় পাঠানো হয়েছে। যা নিয়ে শহরজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, শুধুই কি নাগরিক পরিষেবা দিতে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই পুর বোর্ড ভেঙে দেওয়া হল? নাকি নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক শিবির অবশ্য বেলাগাম দুর্নীতিকেও কারণ হিসেবে তুলে ধরেছে। যদিও আচমকাই পুর বোর্ড ভেঙে দেওয়ায় পুরসভার বিরোধী দলনেতা প্রদীপ মুখোপাধ্যায় রাজ্যের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ধরেছেন। বিদায়ী চেয়ারম্যান নবেন্দু মাহালি বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত সরকারিভাবে কার্যকর করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত আমরা মাথা পেতে নিচ্ছি। তবে, পদচ্যুত হলেও আমরা শহরের উন্নয়নে সবসময় দায়িত্ব পালন করব। আমরা দলের অনুগত সৈনিক।
জঞ্জাল অপসারণ সহ নিকাশি ও রাস্তা সাফাই এবং পানীয় জল পরিষেবার প্রশ্ন তুলে গত ১৯ নভেম্বর পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের তরফে পুরুলিয়া পুর বোর্ডকে শোকজ করা হয়েছিল। তখন থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত পুর বোর্ডের স্থায়িত্ব নিয়ে শহরজুড়ে গুঞ্জন শুরু হয়। রাজনৈতিক মহলেও এনিয়ে জোর চর্চা চলছিল। অন্যদিকে, শোকজ ইস্যুতে দলীয় কাউন্সিলারদের একাংশ পুর চেয়ারম্যানের ভূমিকায় প্রশ্ন তুলেছিলেন। প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে না চাইলেও তাঁদের দাবি ছিল, চেয়ারম্যানের একনায়কতান্ত্রিক মনোভাবের জেরেই পুর পরিষেবা বিঘ্নিত হয়েছে। তার জেরে পুর বোর্ড ভেঙে দেওয়া হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত সেই আশঙ্কাই বাস্তব হল। পুর বোর্ডের তরফে শোকজের উত্তর দেওয়ার প্রায় আড়াই সপ্তাহের মাথায় প্রশাসকের হাতে পুরসভার দায়িত্বভার তুলে দেওয়া হল। সূত্রের খবর, পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের নির্দেশ মোতাবেক শীঘ্রই মহকুমা শাসক দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।
পুরসভার বিরোধী দলনেতা বলেন, বেলাগাম দুর্নীতির জেরেই বোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে নাগরিক পরিষেবা ইস্যুতেও বিস্তর অভিযোগ ছিল। তবে, এভাবে পুর বোর্ড ভেঙে দেওয়া অনুচিত। সরকার একপ্রকার গা জোয়ারি করেই পুর বোর্ড ভেঙে দিয়েছে। আমরা এখনও নির্বাচিত জন প্রতিনিধি। সেক্ষেত্রে কীভাবে পুর বোর্ড ভাঙতে পারে? আমরা আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করব।