Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুরুলিয়া মেডিকেল: স্থানান্তর ইস্যুতে বৈঠক নিস্ফলাই, স্বাস্থ্যকর্তা, বিধায়ককে আটকে বিক্ষোভ ইন্টার্নদের

আশ্বাসে চিঁড়ে না ভেজায় মাঝপথেই ভেস্তে গেল বৈঠক। কর্মবিরতির চতুর্থদিনে ইন্টার্নরা অনশনের হুঁশিয়ারি সহ বড় আন্দোলনের ডাক দিলেন।

পুরুলিয়া মেডিকেল: স্থানান্তর ইস্যুতে বৈঠক নিস্ফলাই, স্বাস্থ্যকর্তা, বিধায়ককে আটকে বিক্ষোভ ইন্টার্নদের
  • ১৭ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: আশ্বাসে চিঁড়ে না ভেজায় মাঝপথেই ভেস্তে গেল বৈঠক। কর্মবিরতির চতুর্থদিনে ইন্টার্নরা অনশনের হুঁশিয়ারি সহ বড় আন্দোলনের ডাক দিলেন। সহমত জানিয়ে পাশে দাঁড়ালেন ডাক্তারি ও নার্সিংয়ের পড়ুয়ারাও। বৃহস্পতিবার দফায় দফায় বিক্ষোভের পাশাপাশি একসময় দেবেন মাহাত গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সদর গেটও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

Advertisement

ইন্টার্নদের দাবি, রোগী ও তাঁদের আত্মীয়দের হয়রানি রোধে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে মেডিকেলের সদর ক্যাম্পাস থেকে হাতুয়াড়ায় বিভিন্ন বিভাগ স্থানান্তরিত করতে হবে। সেইসঙ্গে হাতুয়াড়া ক্যাম্পাসে পানীয় জলের সমস্যা সমাধানের দাবিও উঠে এসেছে। কর্তৃপক্ষ সহমত পোষণ করে পদক্ষেপের আশ্বাস দিলেও স্থানান্তরণ প্রক্রিয়া শুরু না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি জারি রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইন্টার্নরা। সেইসঙ্গে এবার আন্দোলনের নয়া রূপরেখা তৈরি হবে। প্রয়োজনে তাঁরা আমরণ অনশনের পথেও হাঁটবেন বলে জানিয়েছেন।
কলেজের অধ্যক্ষ সব্যসাচী দাস বলেন, এদিন জরুরি বৈঠক শেষে ইন্টার্নদের সঙ্গে আলোচনায় বসা হয়েছিল। সবধরনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু, এদিন কোনও সমাধানসূত্র মেলেনি। আমরা ফের তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসব।
আর জি করের ঘটনার পরই প্রথমবার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সেই সময় সদর ক্যাম্পাস থেকে বিভিন্ন বিভাগ হাতুয়াড়ায় স্থানান্তরিত করার দাবি ওঠে। কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিলেও তা পূরণ হয়নি। এবার ফের ইন্টার্নরা সরব হয়েছেন। তাঁদের দাবি, সদর ক্যাম্পাসের পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর। শয্যার অভাব রয়েছে। পরিকাঠামোও প্রশ্নের মুখে। যোগাযোগ ব্যবস্থা অনুন্নত। নিরাপত্তা সুনিশ্চিত নয়। সেজন্য তাঁরা স্থানান্তর প্রক্রিয়া তাড়াতাড়ি সম্পন্ন করার দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করেছেন। ফলে হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবায় প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
এই পরিস্থিতিতে এদিন এক্সটেন্ডেড রোগীকল্যাণ সমিতির বৈঠক বসে হাতুয়াড়া ক্যাম্পাসে। সেই বৈঠকে ইন্টার্নদের তরফে দু’একজনকে যোগ দিতে বলা হলে তাঁরা বৈঠক বয়কট করে সভাকক্ষের বাইরে বসে পড়েন। পরে বৈঠক শেষে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সহ রোগীকল্যাণ সমিতির সদস্যরা ইন্টার্নদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। পড়ুয়ারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তবে আলোচনা মাঝপথেই ভেস্তে যায়। এরপর ইন্টার্নদের তরফে হাসপাতালের সদর গেট আটকে দেওয়া হয়। ফলে বিধায়ক, সভাধিপতি ও অন্য আধিকারিকরা দীর্ঘ সময় হাসপাতাল চত্বরেই আটকে থাকেন। পরে বিকেলে তাঁরা সদর গেট খুলে দেন। যদিও দাবি আদায়ে এবার বড় আন্দোলনে নামার কথা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন।
ইন্টার্ন অরিত্র মুন্সি বলেন, আলোচনা হলেও সমাধানসূত্র মেলেনি। আমাদের কর্মবিরতি জারি থাকছে। সেইসঙ্গে এবার দাবি আদায়ে আমরা অনশনে বসব। তুহিন চক্রবর্তী বলেন, স্থানান্তরণ প্রক্রিয়ার পাশাপাশি জলের সমস্যা সমাধানে কাজ শুরু হলে আমরা আলোচনার মাধ্যমে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেব। কারণ, কোনও প্রতিশ্রুতিতেই আমাদের বিশ্বাস নেই। অনশনে শামিল হব।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ