নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: স্থানান্তরণ ইস্যুতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটলেন দেবেন মাহাতো মেডিকেল কলেজের ইন্টার্নরা। তবে, দাবি আদায়ের ক্ষেত্রে অবশ্য কোনও সমঝোতা হবে না বলে তাঁরা স্পষ্ট করেছেন। সূত্রের খবর, সোমবার ইন্টার্নদের একটি প্রতিনিধি দল কলকাতায় স্বাস্থ্যভবনে পৌঁছবে। সেখানে রাজ্যের স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তার সঙ্গে তাঁদের বৈঠকের কথা রয়েছে। ইন্টার্নদের দাবি, ওই বৈঠকের পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হবে। অন্যদিকে, শুক্রবার সকাল থেকেই হাসপাতালের আউটডোর পরিষেবা ছন্দে ফেরে। কলেজ অধ্যক্ষ সব্যসাচী দাস বলেন, দ্বিতীয় দিনেই ইন্টার্নরা কর্মবিরতি তুলে নিয়েছেন। আউটডোর পরিষেবাও এদিন সকাল থেকেই চালু হয়ে গিয়েছে। চিকিৎসা পরিষেবা স্বাভাবিক রয়েছে।
গাইনি ও পেডিয়াট্রিক বাদে বাকি সমস্ত বিভাগ দেবেন মাহাতো মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে সদর ক্যাম্পাস থেকে হাতুয়াড়াতে স্থানান্তরণের দাবিতে অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে ইন্টার্নরা কর্মবিরতিতে শামিল হয়েছিলেন। টানা কর্মবিরতির জেরে শেষপর্যন্ত কর্তৃপক্ষ স্থানান্তরণ প্রক্রিয়া শুরু করতেই ইন্টার্নরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছিলেন। যদিও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই হাতুয়াড়াতে পরিকাঠামো গড়ে উঠলেও স্থানান্তরণ প্রক্রিয়া থমকে যায়। এক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের সাফাই, লোকবলের অভাবে স্থানান্তরণ প্রক্রিয়া স্থগিত রয়েছে। বিষয়টি রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরের কর্তাদের নজরে আনা হয়েছে। তবে, প্রতিশ্রুতি মোতাবেক দাবি পূরণ না হওয়ায় বৃহস্পতিবার আচমকাই ইন্টার্নরা আউটডোর পরিষেবা বন্ধ করে কর্মবিরতি শুরু করেছিলেন।
ইন্টার্ন অরিত্র মুন্সি বলেন, সাধারণ মানুষের কথা ভেবেই আমরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছি। আমরা সকলেই কাজে যোগ দিয়েছি। পড়ুয়ারাও ক্লাসে ফিরেছেন। তবে আমাদের দাবি যাতে পূরণ হয় সেই বিষয়টিও আমরা নিশ্চিত করতে চাইছি। এক্ষেত্রে আগামীতে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তার সঙ্গে আলোচনায় বসব। সেই বৈঠকের ফলাফলের নিরিখে আমাদের আগামীর পথ চলার রূপরেখা তৈরি হবে। পুরুলিয়া সদর হাসপাতাল বাঁচাও কমিটির অন্যতম সদস্য অসীম সিনহা বলেন, ইন্টার্নদের এই সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি। তবে আমরা স্থানান্তরণ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে। আমরা চাই সদর ক্যাম্পাস যেমন আছে তেমনই থাকুক। প্রয়োজনে সদর ক্যাম্পাসটিকে জেলা হাসপাতালে রূপান্তরিত করা হোক। সেইসঙ্গে চিকিৎসা পরিষেবার মানোন্নয়নে হাতুয়াড়াতে পৃথক পরিকাঠামো গড়ে তোলা হোক। এতে আখেরে জেলাবাসীই উপকৃত হবেন।