নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: মনসা পুজোয় মাতোয়ারা পুরুলিয়ার মানুষ। রবিবার রাতভর দেবীর আরাধনা হয়েছে। দেবীর নৈবেদ্য হিসেবে পুজোয় বলি দেওয়া হয় হাঁস। পুজোর পরের দিন পান্না অর্থাৎ হাঁসের মাংস ভাত খাওয়ার রেওয়াজ সাবেক মানভূমের। সোমবার সেই পান্না উপলক্ষ্যে কার্যত বন্ধের চেহারা নিল গোটা জেলা। সোমবার সকাল থেকেই রাস্তাঘাটে লোকজন ছিল অত্যন্ত কম। দোকানপাটও বন্ধ ছিল। একটা চায়ের দোকান খোলা পাওয়া ছিল দুষ্কর। রাস্তায় তুলনামূলক কম বাস চলেছে। কিন্তু তাতে যাত্রী ছিল না বললেই চলে।
সর্পের দেবী মনসা। জল, জমি, জঙ্গলে সাপের কামড় থেকে দেবী মনসাই তাঁদের রক্ষা করবেন, এই বিশ্বাস থেকেই রাঢ়বঙ্গ মেতেছে বিষহরির আরাধনায়। পুরুলিয়া, বলরামপুর, কাশীপুর, হুড়া, মানবাজার থেকে শুরু করে জেলার সর্বত্র বন্ধের চেহারা নজরে এসেছে। লোক গবেষকদের কথায়, ১৩ জৈষ্ঠ্য রোহিন পরবের দিনে সাপেরা গর্ত থেকে বের হয়। আশ্বিন সংক্রান্তির দিন, জিহুড়ের দিনে ফের গর্তে ঢোকে। এই সময়জুড়ে তাই পুজো চলে। পুরনো রীতি মেনে গ্রামগুলির সিংহভাগ বাড়িতেই মনসা পুজো হয়।
পুজো উপলক্ষ্যে জেলার সিংহভাগ রুটেই এদিন বাস পথে নামেনি। যাত্রী সংখ্যাও ছিল হাতে গোনা। পুরুলিয়া বাসস্ট্যান্ডের পাশাপাশি মানবাজার ডিপোতেও যাত্রীর ভিড় ছিল না বললেই চলে। জেলা বাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক প্রতিভারঞ্জন সেনগুপ্ত বলেন, টাটা, ধানবাদ বোকারো সহ দূরপাল্লার বাস মিলিয়ে জেলায় প্রায় ৫৫০টি বাস চলে। এদিন দূরপাল্লার বাস চললেও জেলার অধিকাংশ বাসই পথে নামেনি। চালক কন্ডাক্টারও কাজে যোগ দেননি। তবু রাস্তাঘাটে যাতে সমস্যা না হয়, তাই বিভিন্ন রুটে শ’খানেক বাস চলেছে। যদিও যাত্রী সংখ্যা ছিল হাতেগোনা। সরকারি অফিস কাছারিতে এদিন কার্যত অঘোষিত ছুটি ছিল। কর্মীদের উপস্থিতির সংখ্যা ছিল কম। স্কুলগুলিতেও পড়ুয়া সংখ্যা ছিল না বললেই চলে। এদিন সরকারিভাবে ছুটি না থাকলেও জেলার বহু বিদ্যালয় এদিন বন্ধ ছিল বলে অভিযোগ।
পুজো উপলক্ষ্যে পুরুলিয়া শহর থেকে শুরু করে জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মন্দিরগুলি সাজিয়ে তোলা হয়েছিল। একাধিক জায়গায় ছৌ-নাচ থেকে শুরু করে যাত্রাপালার আয়োজন করা হয়। পুরুলিয়া শহরের মাগুড়িয়ার সহিস পাড়ায় শতবর্ষ প্রাচীন মনসা পুজো উপলক্ষ্যে ভিড় ছিল দেখার মতো। পুরুলিয়া-২ ব্লকের কুশটার, বলরামপুরের তেঁতলো, সেকরা পাড়া, বরাবাজারের ধীবর পাড়া পুজোয় মেতে ওঠে। পাশাপাশি আলোর রোশনাই ছিল দেখার মতো।
মনসা পুজো উপলক্ষ্যে পুরুলিয়া শহর শুনশান। -নিজস্ব চিত্র