নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া ও সংবাদদাতা, মানবাজার: টানা বৃষ্টির জেরে কোথাও ভাঙল রাস্তা, কোথাও ভাঙল বাড়ি। কোথাও আবার জলের তোড়ে ভেসে গেল যাত্রী সহ মোটর ভ্যান। ভারী বৃষ্টিতে ফুঁসছে নদ-নদীগুলি। বিপর্যস্ত পুরুলিয়ার স্বাভাবিক জনজীবন।
নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া ও সংবাদদাতা, মানবাজার: টানা বৃষ্টির জেরে কোথাও ভাঙল রাস্তা, কোথাও ভাঙল বাড়ি। কোথাও আবার জলের তোড়ে ভেসে গেল যাত্রী সহ মোটর ভ্যান। ভারী বৃষ্টিতে ফুঁসছে নদ-নদীগুলি। বিপর্যস্ত পুরুলিয়ার স্বাভাবিক জনজীবন।
শুক্রবার সকাল পর্যন্ত পুরুলিয়ায় ৮০.৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল। শনিবার সকাল পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২১.৪৩ মিলিমিটার। বৃষ্টি কমলেও দুর্ভোগ অবশ্য কমেনি। বৃষ্টির জেরে পুরুলিয়া-১ ব্লকের কংসাবতী নদী তীরবর্তী পটমপুটড়া গ্রামের একটি রাস্তা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাঁটাবেড়া থেকে পটমপুটড়া যাওয়ার জন্য বছর খানেক আগে ওই ঢালাই রাস্তাটি তৈরি হয়। কংসাবতী নদীর জলের তোড়ে সেই রাস্তাটি ভেঙে গিয়েছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত কয়েক বছর ধরেই ওই এলাকায় অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। সেই কারণেই রাস্তাটি ভেঙেছে। বৃষ্টির জেরে বিপর্যস্ত ঝালদা পুরসভার ২, ৩ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের একাধিক এলাকা। ৭ নম্বর ওয়ার্ডের একাধিক বাড়িতে জল ঢুকে যায়। ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পাটঝালদা রাস্তার উপর দিয়ে জল বইতে থাকে। রাস্তার ধারের কয়েকটি বাড়িতে জল ঢুকে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২নম্বর ওয়ার্ডের চুনাভাটি এলাকায় শেষ সীমানায় একটি গার্ডওয়াল ভেঙে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাস্তা। বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে একাধিক পরিবার। একাধিক বাড়িতে জল ঢুকে যায়। ওই ওয়ার্ডেরই মাস্টার কলোনিতে আইসিডিএস সেন্টারের গোডাউনের একদিকের দেওয়াল ভেঙে জল ঢুকে যাওয়ায় চাল, ডাল সহ মজুত খাদ্যদ্রব্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও এই বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে প্রশাসনের দিকেই দোষ ঠেলছে ওয়াকিবহাল মহল। তাঁদের দাবি, জলা জায়গায় নিকাশি নালা দখল করে বছরের পর বছর ধরে একাধিক নির্মাণের কারণেই এই ধরনের ঘটছে। অতিবৃষ্টিতে বিপর্যস্ত বিভিন্ন এলাকা তদারকি করতে দিনভর ঝালদার এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে ছুটে বেড়ান মহকুমা শাসক রাখী বিশ্বাস।
টানা বৃষ্টিপাতে মানবাজার মহকুমা এলাকার একাধিক জায়গায় কজওয়ের উপর জল বইতে শুরু করে। বান্দোয়ানের ভালোপাহাড় এলাকায় বান্দোয়ান-কুইলাপাল রাস্তার কজওয়ে পারাপারের সময় একটি মোটর ভ্যান ভেসে যায়। শুক্রবার গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় লোকজন দেখতে পেয়ে যাত্রীদের দড়ি দিয়ে উদ্ধার করেন। জানা গিয়েছে, কুচিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের কুয়াডি গ্রামের প্রায় ৩০ জন একটি মোটর ভ্যানে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। ফেরার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। পরে ওই কজওয়ের উপর দিয়ে যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়া হয়। এছাড়াও ওই এলাকার কুইলাপাল, ধাদিকা সাগা সুপরডি কজওয়ের উপর দিয়েও জল বইতে থাকে।
ধাদিকা গ্রাম পঞ্চায়েতের পারগড়া গ্রামে বৃষ্টির জলে রাস্তার একাংশ ভেঙে যায়। ফলে গ্রামটি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাস্তার পাশ দিয়ে মাটি খুঁড়ে নলবাহিত পানীয় জলের পাইপ পাতা হয়েছিল। সেই আলগা মাটি বৃষ্টি জলে ভাসিয়ে নিয়ে রাস্তার একাংশ ভেঙে যায়। পাশাপাশি বরাবাজারের বাল্লার ঘাটে সেতুর উপর নেংসাই নদীর জল বইতে শুরু করে। জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে পিকআপ ভ্যান। -নিজস্ব চিত্র