নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: পূর্ব বর্ধমানে কৃষকদের নিয়ে সভা করবেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধায়। লক্ষাধিক কৃষকের সমাবেশ করার টার্গেট নিয়েছে শাসক দল। কৃষকবন্ধু, শস্যবিমা বা কৃষি সংক্রান্ত অন্যান্য প্রকল্পে যাঁরা সুবিধা পেয়েছেন, তাঁরা সভায় হাজির থাকবেন। কেন্দ্রীয় সরকার সারের দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় কৃষকরা সমস্যায় পড়েছেন। অতিরিক্ত দাম দিয়ে তাঁদের সার কিনতে হচ্ছে। ওইদিনের সভা থেকে অভিষেক সারের দাম বৃদ্ধি ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারকে তোপ দাগবেন বলে নেতা ও কর্মীদের অনেকেই মনে করছেন। প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়েছে, জামালপুরে সভা হবে। হুগলির কৃষকরাও সমাবেশে যোগ দিতে পারেন। পূর্ব বর্ধমান জেলার তৃণমূলের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, জামালপুরে কর্মসূচি নেওয়া হবে বলে আপাতত ঠিক হয়েছে।
তবে চূড়ান্ত কিছু হয়নি।তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৫ জানুয়ারি অভিষেক জেলায় আসছেন। জেলার সমস্ত ব্লকের কৃষকরা সভায় যোগ দেবেন। এর আগে যতবার তিনি জেলায় সভা করতে এসেছেন ততবারই মাঠ উপচে পড়েছিল। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না বলে নেতৃত্ব জানিয়ে দিয়েছে। গত নির্বাচনে জেলার সব আসনে শাসক দল জয়ী হয়েছিল। এবারও সেই রেকর্ড ধরে রাখতে চাইছে। প্রতিটি ব্লকেই তৃণমূলের বুথস্তরের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। প্রতিটি ব্লকে তিনটি দল তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। তিনটি দলই আলাদা আলাদাভাবে গিয়ে উন্নয়নের পাঁচালি শোনাচ্ছে। বুথের প্রবীণ বা গুণী বাসিন্দার কাছে তাঁরা পৌঁছে যাচ্ছেন। কর্মীদের বাড়িতেই দুপুরে খাওয়া সারছেন। বুথস্তরের সংগঠন শক্তিশালী করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অধিকাংশ ব্লকেই শাসক দলের একাধিক গোষ্ঠী রয়েছে। এক্ষেত্রে প্রতিটি গোষ্ঠীকেই টিমে নেওয়া হয়েছে। তারা আলাদা আলাদা ভাবে দলের হয়ে কাজ করছে। রাজ্য সরকারের প্রকল্পগুলির সাফল্য তারা তুলে ধরছে। নেতারা বুথে গিয়ে ঠিকমতো কাজ করছে কি না, তা পর্যলোচনা করা হচ্ছে। যেসব বুথে দলের সংগঠন কিছুটা হলেও দুর্বল রয়েছে, সেখানে বাড়তি জোর দেওয়া হয়েছে। পুরনো কর্মী সমর্থকদের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের সক্রিয়ভাবে কাজ করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। নেতৃত্বর দাবি, কোন্দল থাকলেও প্রতিটি আসনে সাফল্য পাওয়ার জন্য সব গোষ্ঠীর নেতারাই ঐক্যবদ্ধভাবে ময়দানে নেমেছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার পর তাঁরা আরও উজ্জীবিত হবেন। এমনটাই মনে করছে নেতৃত্ব। সেই কারণেই তাঁর সভায় ব্যাপক জমায়েতের পরিকল্পনা করা হয়েছে।