নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: সামান্য কয়েকটি আম পেড়ে নিয়েছিল এক কিশোর। তার জন্য তাকে মেরে চোখের কোটরের হাড় ও পায়ের হাড় ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। কোন্নগরের এই ভয়াবহ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কিশোরের চোখের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় শনিবার তাকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বছর ১৪’র ওই কিশোরকে মারধরের ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি চেয়ে পুলিসের দ্বারস্থ হয়েছে তার মা। তবে যে বাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা সবাই বৃদ্ধ। তাঁদের মধ্যে একজন জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাতে একজন আম পাড়তে গাছে উঠেছিল। কিন্তু কাউকে মারধর করা হয়নি।সম্প্রতি নৈহাটি সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় নাবালকদের উপরে নৃংশস অত্যাচারের ঘটনা ঘটছে। কোন্নগরের ঘটনা সেই তালিকায় আরও এক সংযোজন।
কোন্নগর ফাঁড়ি ও উত্তরপাড়া থানার পুলিস জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। জখম কিশোরকে অভিযুক্তদের ছবি দেখিয়ে শনাক্তকরণের কাজ চলছে। কিশোরের মা বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে আমার ছেলেকে জখম অবস্থায় পুলিসই বাড়িতে দিয়ে গিয়েছিল। ছেলে আমাকে জানায়, কোন্নগরের মাস্টারপাড়ার মোড়ে একটি বাড়িতে সে ও তার বন্ধু আম পাড়তে গিয়েছিল। আমার ছেলে গাছে উঠেছিল। বাড়ির লোক সতর্ক হয়ে ওঠায় ওর বন্ধু পালিয়ে যায়। আমার ছেলে ধরা পড়ে। তারপর ওই বাড়ির লোকেদের নির্দেশে এক টোটোওয়ালা আমার ছেলেকে বেদম মেরে চোখ ও পা ফাটিয়ে দিয়েছে। সামান্য দু’টো আমের জন্য যারা আমার ছেলেকে নৃশংসভাবে মেরেছে, তাদের শাস্তি চাই।’
আম গাছটির অন্যতম মালিক তথা অভিযুক্ত মৃণালকান্তি দত্তগুপ্ত বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে একটি চুরির চেষ্টা হয়েছিল। আমরা হইচই করাতে সে পালিয়ে যায়। আমার বাড়ির পরিচারিকার স্বামী টোটো চালায়। কিন্তু ঘটনার বহু আগে থেকেই সে কোন্নগরে নেই। আমরা বাড়িতে সবাই প্রবীণ। এত বছরে কাউকে কখনও মারধর করিনি।’ কোন্নগর পুরসভার চেয়ারম্যান স্বপন দাস বলেন, ‘ঘটনা সত্য হলে বলব, নারকীয় কাণ্ড হয়েছে। পুলিস সত্য প্রকাশ্যে আনুক।’
নিম্নবিত্ত পরিবারের ওই কিশোরকে বৃহস্পতিবার রাতেই শ্রীরামপুর ওয়ালশ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে কলকাতা রেফার করে দেন চিকিৎসকরা। তবে রাতে তাকে বাড়িতেই নিয়ে যাওয়া হয়। শুক্রবার সে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ে। চোখ ও মাথার তীব্র ব্যথা নিয়ে কোন্নগরের একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করানো হয়। শনিবার সেখান থেকেও তাকে রেফার করা হয়। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে কোন্নগরবাসীর মধ্যে। নিজস্ব চিত্র