Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঘাটালে ধারের টাকা চাওয়ায় শাস্তি, বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে বিধবাকে বেধড়ক মার

ধার দেওয়া টাকা চাইতে গেলে এক বিধবাকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে প্রকাশ্যে মারধর করার অভিযোগ উঠল এক যুবক ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে

ঘাটালে ধারের টাকা চাওয়ায় শাস্তি,  বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে বিধবাকে বেধড়ক মার
  • ১০ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ঘাটাল: ধার দেওয়া টাকা চাইতে গেলে এক বিধবাকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে প্রকাশ্যে মারধর করার অভিযোগ উঠল এক যুবক ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে। আরও অভিযোগ, স্থানীয়রা বিধবাকে উদ্ধারের চেষ্টা না করে এই ঘটনা তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করেছেন। ওই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হতেই ঘাটাল মহকুমাজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। রবিবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটেছে দাসপুর থানার ভূতা গ্রামে। পুলিস জানিয়েছে, ঘটনার কথা জানতে পেরেই বিধবাকে উদ্ধার করে আনা হয়। আক্রান্ত বিধবা রবিবার রাতে একটি লিখিত অভিযোগও করেছেন। তবে বিধবার বিরুদ্ধেও অভিযুক্ত যুবক পাল্টা অভিযোগ করেছেন। পুলিস তদন্ত শুরু করছে। এই ঘটনায় কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে খবর, বিধবার বয়স বছর পঁচিশ। তাঁর একটি সন্তান আছে। বিধবার সঙ্গে ভূতা গ্রামের ওই যুবকের সম্পর্ক তৈরি হয়। তাঁদের বিয়ের পরিকল্পনাও ছিল বলে পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে। যদিও ওই বিধবা এই সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেন। বিধবা বলেন, ওই যুবককে তিনি সুদের বিনিয়মে বেশ কয়েক লক্ষ টাকা ধার দেন। মাসে ২০ হাজার করে সুদ দেওয়ার কথা ছিল। কয়েক মাস সুদের টাকা দিয়েও ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে সুদের টাকা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল। বিধবার অভিযোগ, রবিবার সেই টাকা চাইতে গেলে প্রথমে যুবকের বাড়ির লোকেরা তাঁর উপর চড়াও হন। তারপরই তাঁকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে বেধড়ক মারধর দেওয়া হয়। যুবকের প্রতিবেশীরা ঘটনাটি উপভোগ করছিলেন। বিধবা বলেন, আমি একা ছিলাম। তাই আমি কিছু করতে পারিনি। এই ঘটনার খবর কোনও ভাবে পুলিসের কাছে পৌঁছয়। পুলিস গিয়ে ওই বিধবাকে উদ্ধার করে দাসপুর থানায় নিয়ে যায়। ওই ভাবে কোনও মহিলাকে খুঁটিতে বেঁধে মারধরের ঘটনা সম্ভবত ঘাটাল মহকুমায় প্রথম।  রবিবার সন্ধ্যার পর থেকে ওই ভিডিও ভাইরাল হতেই সমালোচনা ঝড় ওঠে। অনেককেই মন্তব্য করতে শোনা গিয়েছে, ওই ঘটনা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকে ছাপিয়ে গিয়েছে। প্রত্যেকেই দোষীদের শাস্তির দাবি তোলেন।  এদিকে ওই যুবকের বাড়ির লোকেদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বিধবা টাকা আদায় করতে গিয়ে যুবকের মাকে প্রথমে মারধর শুরু করেন। তাঁর মাকে সোনাখালি গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। ক্ষিপ্ত বিধবাকে কিছুতেই রোখা যাচ্ছিল না বলে তাঁকে একটি খুঁটিতে বেঁধে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। বিধবা বলেন, আমি একা ছিলাম। ওঁরা পাঁচ-সাত জন। আমাকে দেখেই তাঁরা ঝাঁপিয়ে পড়ে মারধর দিয়ে খুঁটিয়ে বেঁধে ফের মারধর করে। আমি কাউকে মারধর করিনি। পুলিস জানিয়েছে, দু’ পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। তদন্ত শুরু হয়েছে।  ঘটনাস্থল। নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ